আগামী মাসেই টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য জার্মানি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম (করোনা ডেক্স): যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি ডিসেম্বরের শুরুতেই জনগণকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরুর পরিকল্পনা করেছে। এ ছাড়া জানুয়ারিতে টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আগেই দু-একদিনের মধ্যে ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিতে পারে যুক্তরাজ্য। অন্যদিকে, করোনা প্রতিরোধে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিনটি ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ কার্যকর বলে জানানো হয়েছে। বড় পরিসরে করা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার এমনটি দাবি করা হয়। গবেষকরা এও বলেছেন, পরীক্ষায় তারা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সফলতা পেয়েছেন। খবর এএফপি, বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের।

ফাইজার ও বায়োএনটেকের তৈরি টিকার চূড়ান্ত ট্রায়ালে ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা আসার পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলো এটিকে জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে মডার্নার তৈরি টিকার ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন প্রোগ্রামের প্রধান মনসেফ স্লাউই জানিয়েছেন, ১১ ডিসেম্বর আমেরিকায় প্রথম করোনার টিকা দেওয়া হতে পারে। এর আগে ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকার অনুমোদন দিতে পারে যুক্তরাজ্য। তাই ১ ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে (এনএইচএস) প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে ঠিক কত তারিখে প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগ করবে, সে বিষয়ে গত রোববার পর্যন্ত দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ কোনো মন্তব্য করেনি। ইতোমধ্যে চার কোটি ফাইজারের টিকার ডোজ কেনার আদেশ দিয়েছে দেশটি।

গত রোববার জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্পান বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা দেওয়া শুরু করবে জার্মানি। তারা এ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানজেচ জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে টিকা দেওয়া শুরু করবে তার দেশ। তিনি আশা করেন, তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জনগণ টিকা দিতে পারবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট জানিয়েছেন, ‘টিকার সফলতার এই ঘোষণার মাধ্যমে করোনার ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে আমরা আরও এগিয়ে গেলাম। এ টিকা ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এই ভয়াবহতা থেকে মুক্তির সন্ধান করতে পারব।’

অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন ধাপের টিকার পরীক্ষার অন্তর্বর্তী বিশ্নেষণে দেখা গেছে, দুটি ডোজের ব্যবহারে কার্যকারিতা গড়ে ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ। অপর দুটির কার্যকারিতা ৯০ এবং ৬২ শতাংশ। টিকার ট্রায়ালে অংশ নেন ২৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। তাদের অর্ধেক যুক্তরাজ্যের, বাকিরা ব্রাজিলের। এর মধ্যে ৩০ জন কভিড-১৯ রোগীর ওপর টিকার দুই ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। আর ১০১ জন ভিন্ন টিকা পান।

গবেষকরা বলছেন, টিকা গড়ে ৭০ শতাংশ সুরক্ষা দিচ্ছে। যখন স্ব্বেচ্ছাসেবকদের উচ্চমাত্রার দুই ডোজ দেওয়া হয়েছে, তখন তাদের সুরক্ষার পরিমাণ ছিল ৬২ শতাংশ। আর যখন দুই ডোজের মধ্যে একটি নিম্নমাত্রার ডোজ দেওয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে সফলতার পরিমাণ ছিল ৯০ শতাংশ। এই ভিন্নতা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়ালের প্রধান পরীক্ষক অধ্যাপক এন্ড্রু পোলার্ড জানিয়েছেন, আমাদের একটি ডোজ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। এই টিকা দামে অন্যগুলোর তুলনায় কম এবং সংরক্ষণজনিত জটিলতাও সীমিত। যদি এই ডোজগুলো ব্যবহার করা হয়, তবে আরও বেশি মানুষকে পরিকল্পিত টিকা সরবরাহের মাধ্যমে টিকা দেওয়া যেতে পারে

অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের প্রধান নির্বাহী পাসকেল সেরিয়ট বলেন, ‘আজকের দিনটি মহামারির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। এ টিকার কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা এটাই নিশ্চিত করে, এটি করোনার বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে কার্যকর। জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে এই টিকা।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*