আজ চড়ারহাট গণহত্যা দিবস

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি- আজো কাঁদে নবাবগঞ্জের চড়ারহাট ! শত শহীদের বধ্যভূমি চড়ারহাট এলাকা আজো কাঁদে। ১৯৭১ সালে ৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সকাল বেলা পাক সেনারা গরুর গাড়ী নিয়ে ঘোড়াঘাট হতে বিরামপুরের দিকে যাচ্ছিল।

পথিমধ্যে বিজুল বাজারে মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী পাক সেনাদেরকে আক্রমন করে ২ জন পাক সেনাকে হত্যা করে । হত্যার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া পাক সেনারা পরের দিন ১০ই অক্টোবর অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভোরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৫নং পুঁটিমারা ইউনিয়নের আওতাভূক্ত চড়ারহাট গ্রামকে বিজুল গ্রাম মনে করে গোটা গ্রামকে ঘিরে ফেলে। গ্রামটি ঘেরাও করার পর ঐ গ্রামের গোদা নামের এক ব্যক্তিকে মাটি কাটার কথা বলে সকল পুরুষদেরকে ডাকতে বলেন। পাক সেনাদের কথা মতে গোটা গ্রামের ঘুমন্ত সকল মানুষকে ডেকে এনে গ্রামের পূর্ব পাশে নওশাদ আলী মন্ডলের জমিতে একত্রিত করে। একত্রিত করার পর পাক বাহিনী সকল লোকদেরকে সারিবদ্ধ করে এবং তাদেরকে দোয়া পড়তে বলে ।

দোয়া পড়া শেষ হতে না হতে রক্তপিপাষু পাক সেনাদের ষ্টেনগানের গুলিতে ১৫৭ জন মানুষকে নৃশংস ভাবে লোম- হর্ষক হত্যাকান্ড করে। হত্যা করার পরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। আবার তাদের উপর চালায় বন্দুকের বার্ট ও বুট দিয়ে খোঁচাখুঁচি করে এবং চলে যাওয়ার সময়টি গ্রামটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ।

পরের দিন ১১ই অক্টোবর সকালে গ্রামে বেঁচে থাকা কয়েকজন বৃদ্ধ ও আশেপাশের গ্রামের মানুষজন দাফন কাফনের কাপড় ছাড়ায় চাদর, শাড়ী, জামা ও কাঁথা দিয়ে নিহত সকল শহীদদেরকে চড়ারহাট (প্রাণকৃষ্ণপুর) গ্রামে গণকবর দেয়। সেই দিন আসলে আজো কাঁদে ঐ সব শহীদদের স্বজনরা ।

বিশেষকরে প্রাণকৃষ্ণপুর, আন্দোলগ্রাম, সরাইপাড়া, নয়াপাড়া, বেড়ামালিয়া, আহমেদনগর, নওদাপাড়া, শিবরামপুর, চৌঘরিয়া, আমতলা, চন্ডিপুর গ্রামগুলি।

চড়ারহাট গণহত্যায় বধ্যভূমি শহীদ স্মৃতি মিনার যাদের রক্তে কেনা স্বাধীনতা সেই সব শহীদদের স্মরণে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সহযোগীতায় নির্মাণ হয়েছে স্মৃতিসৌধ। উম্মোচন হয়েছে ১০ই অক্টোবর ২০১১ইং। ২০১১ সালে সেখানে একটি স্মৃতি মিনার তৈরীর ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক। মিনারের কাজ শেষ হলে তা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, দিনাজপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জামাল উদ্দীন আহমেদ।

পরিশেষে একথায় বলছি- “শত শহীদের বধ্যভূমি চড়ারহাটে ৭১’র পাশবিক নিষ্ঠুরতায় কেড়ে নিয়েছে নিরস্ত্র প্রাণ- হে স্বাধীনতা দাও অমরত্ব, জানাও সংশুদ্ধ সম্মান”।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*