আশুড়ার বিলের বিরামপুর অংশে ঝুলন্ত ব্রীজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন ইউএনও পরিমল

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি“আশুড়ার বিলে কাঠের সেতু যেমন আছে, এছাড়াও ঝুলন্ত ব্রীজ নির্মাণ করতে চাই”।

১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে বিরামপুর সরকারি কলেজ সভাকক্ষে অনলাইন সেচ্ছাসেবী সংগঠন দিনাজপুরের “বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক” আয়োজিত আলোচনা সভায় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার তাঁর বক্তব্যর মধ্যে এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “বিরামপুরকে আমরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দাঁড় করাতে চাই। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হবে”।

প্রায় ৬০০ একর বা ৩৬০ হেক্টর জুড়ে আশুড়ার বিলের ২৫১ হেক্টর নবাবগঞ্জ অংশ এবং ১০৯ হেক্টর বিরামপুর উপজেলার সীমানায়। আশুড়ার বিলের বিরামপুর অংশকে আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধায়নে উদ্যোগ নেয়াতে এলাকায় ভ্রমণপিপাসুরা সহ সর্বস্তরের মানুষের মুখে প্রশংসিত হচ্ছেন ইউএনও পরিমল কুমার। কেননা পর্যটন শিল্প হবে মানুষের ন্যতম আয়ের উৎস। ঝুলন্ত ব্রীজ তৈরি হলে এলাকায় পর্যটন খ্যাতে নব দিগন্তের সূচনা ঘটবে তেমনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত ধানজুড়িতে তাদের স্ব সংস্কৃতি অত্রাঞ্চলকে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করবে।

বিগত ৪৩ বছরের গণমানুষের প্রাণের দাবি বিরামপুরকে জেলা ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ইউএনও পরিমল কুমার বক্তব্যে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্য প্রশ্ন করেন- বিরামপুরে কেন জেলা চান? জবাবে সাংবাদিকেরা ভৌগলিক কারণের কথা বলেন। এ প্রেক্ষিতে ইউএনও পরিমল বলেন, “জেলা চাওয়ার মত যেকাজগুলো দরকার সে কাজগুলো আমরা ধীরে ধীরে করবো। জেলা আমাদের চাইতে হবেনা। সরকার বলবে বিরামপুরে জেলা বানানো দরকার। পাশে কয়লাখনি আছে, হাকিমপুরে পোর্ট আছে।এগুলো যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে সেন্টার হিসেবে বিরামপুরকে আমরা কাজে লাগাতে পারি। এজন্য আমাদের কিছু ডেভেলপমেন্ট দরকার”।

জনগণকে সেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করা, সচেতন করা, ভয় দূর করা, নতুন নতুন রক্তদাতা তৈরি করা এবং সেচ্ছায় রক্তদাতাদের সম্মান জানানোর মূল উদ্দেশ্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, সুধীজন, সমাজকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ ১৫০ জন সেচ্ছায় রক্তদাতাদের উপস্থিতিতে আলোচনাসভায় বিরামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার, পৌরমেয়র লিয়াকত আলী সরকার টুটুল, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম মন্ডল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহসিয়া তাবাসসুম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদী, আরএমও ডাঃ মুহতারিমা সিফাত, মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহরিয়ার ফেরদৌস হিমেল, বিরামপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শিশির কুমার সরকার, বিরামপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অদ্বৈত্য কুমার, বিরামপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ নুরল হক প্রমুখ।

স্বপ্নই তো মানুষকে সম্মুখ পথে ধাবিত করে।
এসব পরিকল্পনা যথা শীঘ্রই বাস্তবায়ন হোক এমনটাই প্রত্যাশা করেন বিরামপুরবাসী। হয়তোবা বিরামপুর উপজেলায় ইউএনও পরিমল কুমার এর প্রশাসনিক দায়িত্বভারের সুনির্দিষ্ট মেয়াদকালের আগেই শেষ দেখে যেতে পারবেন না কিনা কেবা জানেন। কিন্তু তিনি কল্পনা করছেন একসময় তাঁর স্বপ্নগুলো বাস্তবতার রূপ নিবে। বিরামপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ মনেপ্রাণে স্মরণ রাখবে, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা ইউএনও এসেছিলেন যিনি প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে কল্পনা করেছিলেন।

ইতিমধ্যে গত ১৭ অক্টোবর শনিবার দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম আশুড়ার বিলের বিরামপুর অংশ পরিদর্শন ও ১ হাজার দেশীয় চারা গাছ রোপণ কাজের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর খানা জরিপ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন এবং ধানজুড়ি চার্চ ও তৎসংলগ্ন কুষ্ঠ হাসপাতাল, প্রতিবন্ধী স্কুল পরিদর্শন করেন।

ইউএনও পরিমল কুমার নিজে ৩ বার এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং তিনি Uno Birampur নামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ আইডিতে সম্প্রতি একটি বার্তা পোস্ট করেন তন্মধ্যে বার্তার কিছু অংশ নিম্নে দেয়া হলো।

“সিদ্ধান্ত নিলাম ধানজুড়ি অংশে একটা ঝুলন্ত ব্রিজ করবো। সাথে ধানজুড়ি গ্রাম থেকে শুরু করে শালবনের ভিতর দিয়ে প্রায় ২.৫ কিলোমিটার রাস্তার পাশে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০০০ গাছ লাগাবো এবং শালবনের ভিতর দিয়ে পর্যটকদের চলাচলের জন্য রাস্তা মেরামত করবো। বিলে শাপলা, পদ্মফুলের আলাদা জায়গা করবো, শালবনে পাখির অভয়াশ্রম বানাবো। বনে হরিন, বানরসহ অনেক প্রাণি বসবাস করবে। আমার পুরো পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ডিসি স্যার এবং মাননীয় সংসদ সদস্য স্যারের সাথে শেয়ার করলাম। সবাই ইতিবাচকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। এমপি স্যার আরও বললেন ঝুলন্ত ব্রিজ হলে কাঠের ব্রিজের সাথে বিলের পাড় ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। ধানজুড়িতে রয়েছে প্রায় ১০০ বছর পুরনো ধানজুড়ি ক্যাথলিক চার্চ ও কুষ্ঠ হাসপাতাল। আমার মনে হয় যদি বিরামপুর অংশে ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মিত হয় এবং তার সাথে শালবাগানের পাশ দিয়ে কাঠের ব্রিজের সংযোগ হয়, তাহলে স্বপ্নপুরীকে ঘিরে নবাবগঞ্জ-বিরামপুর অঞ্চল হবে উত্তরবঙ্গের অন্যতম পর্যটন এলাকা। এখন যেমন মানুষ কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রামে হাওড় ও রাস্তা দেখতে যাচ্ছে তেমনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে বেড়াতে আসবে। এমনিতেও দেশের বিভিন্ন অংশের সাথে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত চমৎকার”।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*