উহান নয়, কভিড ছড়িয়েছে ভারত বা বাংলাদেশ থেকে

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম (করোনা ডেক্স): গত বছর ডিসেম্বর মাসে চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড১৯) উৎস নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা তাঁদের দাবি, ভাইরাসটির উৎস হতে পারে ভারত বা বাংলাদেশ

আর এই দুই দেশের কোনো একটি থেকেই নভেল করোনাভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের গবেষকদের একটি গবেষণাপত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে এমনটিই বলা হয়েছে। চীনের ওই গবেষকদের দাবি, উহানে প্রাদুর্ভাবের আগেও (গত বছরের ডিসেম্বরে) ভারতীয় উপমহাদেশে ভাইরাসটির অস্তিত্ব ছিল। তবে তাঁদের এই তত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক আছে।

চীনা বিজ্ঞানীদের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা . এস এম আলমগীর বলেন, ‘এটি রীতিমতো ভুয়া একটি তথ্য। এর মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক কোনো উপাত্ত নেই। এটি কোনো গবেষণা বলেও ধরা যায় না। এর পেছনে হয়তো অন্য কোনো মতলব থাকতে পারে।

দ্য আর্লি ক্রিপটিক ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ইভল্যুশন অব সার্সকভ ইন হিউম্যান হোস্টসশীর্ষক গবেষণাপত্রটিতে বিজ্ঞানীদের সাধারণ গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। উহানের একটি বাজার থেকে ভাইরাসটির উদ্ভব হয়েছিলএমন তত্ত্বকে চীনের ওই বিজ্ঞানীরা চ্যালেঞ্জ করছেন। মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটেরপ্রিপ্রিন্ট প্ল্যাটফর্মএসএসআরএন ডটকমে গত ১৭ নভেম্বর ওই গবেষণা প্রকাশিত হয়। ১৭টি দেশের করোনার ধরন নিয়ে গবেষণা করে তাঁরা এই ফল পেয়েছেন বলে সানের প্রতিবেদনে বলা হয়

তবে সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণার এই ফলগুলো এখনো ল্যানসেট জার্নালে ছাপা হয়নি। সেই সঙ্গে এই গবেষণা এখনো পর্যালোচনা করা হয়নি। তাই এই ফলগুলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়

চীনা গবেষক ডা. শেন লিবিংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, করোনাভাইরাসের উৎসর খোঁজে প্রচলিত পদ্ধতি কার্যকর হয়নি। কারণ এটি বেশ কয়েক বছর আগে চীনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে আবিষ্কৃতব্যাট ভাইরাসেরক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিল। বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির বিবর্তনের ইতিহাস পরীক্ষা করতে বংশানুক্রমিক রেফারেন্স ব্যবহার করেন। তবে ব্যাট ভাইরাসটি মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের আগের ভাইরাস নয়। গবেষণাপত্রে গবেষকরা দাবি করেছেন, এটি বিজ্ঞানীদের মহামারিটির উৎস শনাক্ত করতে সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই তাঁরা একটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যাতে প্রতিটিভাইরাল স্ট্রেনেরপরিবর্তনের সংখ্যা গণনা করা হয়

গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, গ্রিস, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইতালি চেক প্রজাতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়া কভিডের মধ্যে কম পরিবর্তিতস্ট্রেনপাওয়া গেছে। ভারত বাংলাদেশকে উদ্ধৃত করে গবেষণায় দাবি করা হয়, প্রথম প্রাদুর্ভাবের জায়গায় সবচেয়ে বড় জিনগত বৈচিত্র্য থাকতে হবে

চীনের ওই গবেষকরা বলেছেন, ভারতের তরুণ জনসংখ্যা, চরম আবহাওয়া খরা মানুষের শরীরে ভাইরাস ঢুকে পড়ার প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাঁরা আরো বলেছেন, আমাদের ফলাফলে দেখা যায় যে উহান সেই জায়গা নয়, যেখানে মানুষ থেকে মানুষের শরীরে সার্সকভএর প্রথম সংক্রমণ হয়েছিল। তাঁরা আরো লিখেছেন, স্বল্প পরিবর্তিতস্ট্রেনেরভৌগোলিক তথ্য এবংস্ট্রেনেরবৈচিত্র্য উভয়ই এই তথ্য দেয় যে ভারতীয় উপমহাদেশ সম্ভবত সেই স্থান হতে পারে, যেখানে মানুষ থেকে মানুষের শরীরে সার্সকভএর সংক্রমণ ঘটেছিল। সময়টি ছিল উহানে ছড়িয়ে পড়ার তিনচার মাস আগে

এদিকে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা সাংহাই গবেষণার ফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। ভারতের ভাইরাসবিদ মুকেশ ঠাকুর এটিকেভুল ব্যাখ্যাবলে অভিহিত করেছেন

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*