করোনায় কাজ নেই, হাত গুটিয়ে বসে আছি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন,বিশেষ প্রতিনিধি :  আর কয়েকদিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। এই করোনার ঈদে হাত গুটিয়ে কেউ আবার গালে হাত দিয়ে বসে আছে দিনাজপুরের হিলির টেইলার্সগুলোতে। দিনে দুই থেকে তিনটি কাপড়েরর ওর্ডার পাচ্ছে কারিগররা। এতে করে সংসার চলছে না তাদের। সামনে ঈদ, হতাশায় ভুগছে দর্জিরা।

হিলির বিভিন্ন টেইলার্স ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দোকানে আগের মতো পা চালিত সেলাই মেশিন দ্বারা আর সেলাইয়ের কাজ হয় না। এখন প্রতিটি টেইলার্সে বিদ্যুৎ চালিত জেক পাওয়ার মেশিন দিয়ে কারিগররা সেলাই কাজ করছে। বাজারে বা টেইলার্সের দোকানে কোন ক্রেতাদের চোখে পড়ছে না। প্রতিটি টেইলার্সে চার থেকে পাঁচ জন কারিগরের জন্য জেক পাওয়ার মেশিন আছে। বিন্তু কারিগর নেই, কেন না হাতে তাদের কাজ নেই। দিনে ২ থেকে ৩ টা করে সেলাইয়ের কাজ আসছে। একটি থ্রী পিচ সেলাই করলে মজুরি ১৫০ টাকা আর সেখান থেকে টেইলার্স মালিক তাদের দেয় ৭০ টাকা, সার্ট সেলাই ২০০ টাকা কারিগররা পায় ১০০ টাকা, প্যান্ট সেলাই ২৫০ টাকা তা থেকে পায় ১৩০ টাকা, পাঞ্জাবী সেলাই ২৫০ টাকা কারিগর তা থেকে পায় ১৩০ টাকা। প্রতি ঈদের মৌসুমে এক মাস আগে থেকে কাপড় তৈরি ওর্ডার পেয়ে থাকে এবং ঈদের ১০ আগে তারা ওর্ডার বন্ধ করে দেয়। এই বার তার চিত্র উল্টো রকম।

কথা হয় হিলির সানমুন টেইলার্সের কারিগর শামীম আহম্মেদের সাথে, তিনি বলেন, হাতে কোন কাজ নেই ভাই। সকাল থেকে একটা থ্রী পিচের ওর্ডার পেয়েছি। কোন ঈদে এই রকম হয়নি। সারা দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা উপার্জন হচ্ছে। এই স্বল্প উপার্জন দিয়ে সংসার চালাবো কি করে। সংসারে এক ছেলে, স্ত্রী আর বাবা-মা আছেন। সামনে কোরবানির ঈদ, কাজের যে গতি? গত করোনায় কয়েক মাস দোকান বন্ধ ছিলো। জীবিকার তাগিদে হিলি সরকারী খাদ্য গুদামে লেবারের কাজ করেছিলাম। আজ আমার পেশায়ও মন্দা দেখছি।

হিলি চুড়িপট্টি মোড়ের লেডিস টেইলার্সের সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, হাতপা গুটিয়ে বসে আছি ভাই। ঈদের কোন কাপড়ের ওর্ডার নাই। দুই ছেলে, স্বামী আর শ্বাশুড়িকে নিয়ে আমার সংসার। এই টেইলার্সের কাজ করে আমাকে সংসার চালাতে হয়। হাতে তেমন কোন কাজ নেই। ৮ থেকে ১০ টা কাপড়ের ওর্ডার আছে, তাও আবার এক থেকে দেড় মাস আগের। যাদের ওর্ডারী কাপড় তারাও কেউ কাপড় নিতে আসছে না। যারা আসছে তারা ১৫০ টাকার সেলাই খরচ দিচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকা। মানুষের অভাব দেখে অনেকের নিকট মজুরি না নিয়ে কাপড় দিয়ে দিচ্ছি।

কথা হয় হিলির সানমুন টেইলার্সের মালিক রহমত আলী বাবুর সাথে, তিনি জানান, আমার টেইলার্সে ৫ জন কারিগরের জন্য ৫ টি জেক পাওয়া মেশিন আছে। কাজের কোন ওর্ডার নেই। দিনে কয়েকটি কাপড়ের ওর্ডার আসছে, এতে করে কারিগর বা আমার কোন চাহিদা পুরন হচ্ছে না। করোনার কারনে দুই থেকে তিন মাস টেইলার্স বন্ধ ছিলো। ভাবলাম দোকান খুলতে পারবো এবং সামনে ঈদ, অনেক কাজ হবে। কিন্তু সারাদিন দোকান খুলে আছি, কাপড় সেলাইয়ের জন্য কেউ আসছে না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*