করোনায় ক্রেতা কম, কমেছে হিলিতে সব্জির দাম

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : প্রানঘাতী করোনাকে ঠেকাতে জেলায় জেলায় লকডাউন। করোনা সতর্কতায় মানুষ আজ গৃহবন্দি। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি হতে বাহির হতে পারবে না। আর তারই প্রভাব পড়েছে দিনাজপুরের হিলির কাঁচা বাজারের উপর। ক্রেতা কম থাকায় বাজারে কাঁচা সাব্জি নিয়ে বসে আছে সব্জি দোকানিরা। ক্রেতার অভাবে অল্প দাম ধরেও বিক্রি হচ্ছে না বিভিন্ন প্রকার কাঁচা সব্জি। এমনটিই বলছে সব্জি ব্যবসায়ীরা। আর এদিকে কাঁচা বাজার কিনতে এসে স্বস্তি পাচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।

আজ শনিবার (১৮এপ্রিল) হিলির বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগের চেয়ে বর্তমান সব সব্জির দাম অনেকটাই কম। এক সপ্তাহ আগে যে করলার দাম ছিলো ৪০ টাকা তা আজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ টাকা কেজি দরে, পটল ছিলো ৪০ টাকা তা এখন ২৫ টাকা, বেগুন ছিলো ২৪ টাকা এখন তা ১০ টাকা, ঢেঁড়স ছিলো ৪০ টাকা তা হয়েছে ২০ টাকা, শসা ছিলো ৩০ টাকা এখন দাম ১০ টাকা, সজনে ডাটা ছিলো ৮০ টাকা তা আজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, শিম ছিলো ৬০ টাকা এখন তা ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ছিলো ৪০ টাকা এখন তা ২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ছিলো ২০ টাকা তা এখন ১০ টাকা ও টমেটো ছিলো ২০ তা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা কেজি দরে।তবে আলুর দাম আগের মত স্বাভাবিক রয়েছে, আলুর কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

সব্জি ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, সকাল থেকে দোকান খোলে বসে আছি। ক্রেতার সমাগম কম। দোকানে সব ধরনের সব্জি সাজিয়ে রেখেছি। কাঁচা পণ্য বেশি দিন রাখলে তা পঁচে যাবে। প্রতিটি সব্জি দাম কম রেখেছি, কিন্তু দেওয়ার জন্য ক্রেতা দেখছি না। করোনার কারণে মানুষ ঘরে আবদ্ধ রয়েছে। বাজারে তেমন কোন লোকজন দেখা যাচ্ছে না। এক সপ্তাহ আগের প্রতিটি সব্জির দাম এখন প্রায় তিনগুন কম। বিক্রি করতে না পারায় এখন আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কাঁচা বাজার কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, ক’দিনের চেয়ে আজ বাজারে সব ধরনের সব্জির দাম অনেক কম। করোনার প্রাদুর্ভাবে কয়েকদিন আগে সব্জির দাম অনেকটাই বেশি ছিলো। আজ প্রতিটি কাঁচা তরকারির মুল্য তিনগুন কম। কম দাম হওয়ায় সব সব্জি বেশি করে কিনছি।

একজন খেটে খাওয়া মানুষের সাথে কথা হয় সে বলেন, আমি হতদরিদ্র মানুষ সরকারী বরাদ্দ এবং চেয়ারম্যান, মেম্বারদের দেওয়া খাদ্যসামগ্রী চাল, ডাল, আলু পেয়েছি। তা দিয়ে কি আর প্রতিদিন ভাত খেতে ভাল লাগে? তাই বাড়িতে মাটির ব্যাংকে কিছু টাকা জমানো ছিলো। সেই ব্যাংকটি ভেঙে কিছু টাকা নিয়ে বাজারে আসছি সব্জি কিনতে। বাজারে এসে দেখছি আগের চেয়ে প্রতিটি কাঁচা সব্জির দাম কম। অল্প টাকায় কম দামে অনেকগুলো সব্জি কিনতে পারলাম।

সব্জির দাম কম হওয়ার কারন জানতে চাইলে পাইকারী সব্জি ব্যবসায়ী শাহাজান বলেন, হিলি এবং হিলির পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলায় প্রচুর পরিমাণ সব্জি আবাদ হয়ে থাকে। এসব সব্জি এলাকার চাহিদা পুরন করেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হতো। কিন্তু করোনার প্রভাবে এসব সব্জি কোথাও রপ্তানি হতে পারছে না। এই কারনে দিন দিন কমে যাচ্ছে সব্জির দাম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*