করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জোনিং সিস্টেম চালু হচ্ছে

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম (স্বাস্থ্য ডেক্স) : করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জোনিং সিস্টেম চালু হচ্ছেআজ এক তথ্যবিবরনীতে তথ্য জানিয়ে বলা হয়,নাগরিক সাধারণের জীবনজীবিকা নির্বাহের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশে ঘোষিত ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির পর গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু করা হয়
কিন্তু, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এমতাবস্থায় মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ নির্মূল) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৬১ নং আইন)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কোভিড১৯ রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণে ১০ জুন কতিপয় নির্দেশাবলী জারী করেন
এই নির্দেশাবলীর উদ্দেশ্য কোভিড১৯ রোগের চলমান ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশের যে কোন ছোট বা বড় এলাকাকে লাল, হলুদ বা সবুজ জোন হিসাবে চিহ্নিত করা এবং বাস্তবায়ন করা হবে বলে তথ্যবিবরনীতে উল্লেখ করা হয়
এতে বলা হয়, জোন ঘোষনার ক্ষমতা আইনানুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের নিকট অপর্ন করা হয় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিভিল প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা সশস্ত্র বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় জোনিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন জোন সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোন অংশে কার্যকর হবে এবং এর পরিধি কি হবে তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কোভিড১৯ সংক্রান্ত স্থানীয় কমিটিগুলোকে নির্ধারণ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়ে একটি বিস্তারিত কৌশল বা গাইড তৈরি করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে বিতরণ করেছে এবং এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে (www.dghs.gov.bd) পাওয়া যাবে ছাড়া জোনের সংজ্ঞা বাস্তবায়ন কৌশল সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে পরামর্শ দেয়ার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কারিগরি গ্রুপ গঠন করা হয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জোনিং সিস্টেমের হালনাগাদ সংজ্ঞা বাস্তবায়ন কৌশল অনুযায়ী অব্যাহতভাবে স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং জোনিং সিস্টেম চালু করতে হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতামত সাপেক্ষে তা বাস্তবায়ন করবে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে প্রাথমিকভাবে ৩টি জেলায় (গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী) এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রাজাবাজার (পূর্ব রাজাবাজার) এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ারীতে পরীক্ষামূলকভাবে জোনিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে জানিয়ে এতে আরো বলা হয়, ঢাকার ওয়ারীতে জোনিং সিস্টেম চালুর জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে
এই পরীক্ষামূলক জোনিং সিস্টেমের অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য এলাকায় জোনিং সিস্টেম চালু বা পরিবর্তনের বিষয়ে সহায়ক হবে দেশের বিভিন্ন জেলা সিটি করপোরেশনও বর্ণিত কৌশল গাইড অনুসারে স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে তদনুযায়ী তারা প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নপূর্বক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতামত অনুযায়ী জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে তথ্যবিবরনীতে উল্লেখ করা হয়
এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কারিগরি গ্রুপও অব্যাহতভাবে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত ব্যবহার করে এলাকাভিত্তিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং অধিকতর বাস্তবমুখী সংজ্ঞা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে
তদনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংজ্ঞানুযায়ী যেখানে যখন প্রয়োজন তখন রেড জোন ঘোষনা করা হবে কাজেই রেড জোন ঘোষনা বা রেড জোন পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া
স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই যখন প্রয়োজন তা করা হবে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করবে এই বিষয়ে সকলের বিভ্রান্তি নিরসন হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে প্রাথমিকভাবে রেড জোনের জন্য কিছু বিধিনিষেধ নির্ধারণ করা হয়েছে
বিধিনিষেধগুলো হচ্ছে. স্বাস্থ্যবিধি মেনে বর্ধিত সময়ে কৃষিকাজ করা যাবে ,স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রামাঞ্চলে কলকারখানা কৃষি পণ্য উৎপাদন কারখানায় কাজ করা যাবে তবে শহরাঞ্চলে সব বন্ধ থাকবে
বাসা থেকেই অফিসের কাজ করতে হবে এবং কোন ধরণের জনসমাবেশ করা যাবে না কেবলমাত্র অসুস্থ ব্যক্তি হাসপাতালে যেতে পারবেন
স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে পারবে এবং রিক্সা ভ্যান, সিএনজি, ট্যাক্সি বা নিজস্ব গাড়ী চলাচল করবে না সড়ক পথ, নদীপথ রেলপথে জোনের ভিতরে কোন যান চলাচল করবে না
জোনের ভিতরে বাহিরে মালবাহী নৌযান জাহাজ কেবলমাত্র রাতে চলাচল করতে পারবে প্রত্যেক এলাকায় সীমিত পরিমাণে প্রবেশ বহিরাগমন পয়েন্ট নির্ধারণ করে কঠোরভাবে জনগণের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
এছাড়া এই জোনের অন্তর্গত মুদি দোকান ওষুধের দোকান খোলা থাকবে রেষ্টুরেণ্ট খাবার দোকানে কেবলমাত্র হোম ডেলিভারী সার্ভিস চালু থাকবে বাজারে শুধুমাত্র প্রয়োজনে যাওয়া যাবে তবে শপিংমল, সিনেমা হল, জিম/ স্পোর্টস কমপ্লে¬ক্স, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে
আর্থিক লেনদেন বিষয়ক কার্যক্রম যেমন টাকা জমাদান/ উত্তোলন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেবলমাত্র এটিএমএর মাধ্যমে করা যাবে তবে সীমিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে
এলাকার রোগীদের পর্যাপ্ত কোভিড১৯ নমুনা পরীক্ষা করা হবে সনাক্ত রোগীরা হোম আইসোলেশন বা প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে থাকবে শুধুমাত্র মসজিদের কর্মকর্তাকর্মচারীরা মসজিদ/ উপাসনালয়ে সামাজিক দুরত্ব রেখে ইবাদত করতে পারবেন
সাধারণভাবে রেড জোন ২১ দিনের জন্য বলবত হবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে রেড জোন পরিবর্তন করা হবে
ছাড়া রেড জোনসহ বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে নিম্নোক্ত সাধারণ নিয়মাবলী পালন করতে হবে এগুলো হচ্ছে, সকলকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে হাত ধোয়া, জীবানুমুক্তকরণ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে
করোনা রোগ/ সংক্রমণ সনাক্তকরণ, তাদের আইসোলেশন চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবেসংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, হাসপাতাল জরুরী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে অসুস্থ ব্যক্তি পরিবহনকারী যান/ ব্যক্তিগত গাড়ী অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চলাচল করবে
সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানস্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে উল্লেখ করে বলা হয়, সকল কার্যক্রমের তদারকির জন্য কার্যকরী সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মাঠকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে
ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ১৫ জুন তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করতে হবে
উলে¬খ্য রেড জোন বাস্তবায়নকালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সকলের প্রযোজনীয় নাগরিক সেবাসহ অন্যান্য সুবিধাঅসুবিধার দিকে খেয়াল রাখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*