কেরানীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু তোলায় তিন শতাধিক বসতভিটা বিলীন

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম: ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদী থেকে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেন। এ কারণে বন্যার সময় ও বর্ষা মৌসুমে নদীতে প্রচণ্ড স্রোতে নদীর গতি পরিবর্তন হওয়ায় নদীভাঙন হয়ে থাকে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঢালিকান্দি ও লাখিরচর এলাকার নদীর তীর থেকে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা-কর্মীরা অবৈধভাবে ড্রেজিং করায় বর্ষা মৌসুমে তাঁদের নদীভাঙনের কবলে পড়তে হয়।

ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গার পানি কমে যাওয়ায় প্রচণ্ড স্রোতে কেরানীগঞ্জের ঢালিকান্দি ও খাড়াকান্দি গ্রামে নদীর তীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় বিলীন হচ্ছে বসতভিটা। বুধবার কেরানীগঞ্জের খাড়াকান্দি এলাকায়। ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদী থেকে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেন। এ কারণে বন্যার সময় ও বর্ষা মৌসুমে নদীতে প্রচণ্ড স্রোতে নদীর গতি পরিবর্তন হওয়ায় নদীভাঙন হয়ে থাকে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঢালিকান্দি ও লাখিরচর এলাকার নদীর তীর থেকে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা-কর্মীরা অবৈধভাবে ড্রেজিং করায় বর্ষা মৌসুমে তাঁদের নদীভাঙনের কবলে পড়তে হয়।

ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গার পানি কমে যাওয়ায় প্রচণ্ড স্রোতে কেরানীগঞ্জের ঢালিকান্দি ও খাড়াকান্দি গ্রামে নদীর তীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

গতকাল বুধবার সকালে কেরানীগঞ্জের ঢালিকান্দি, খাড়াকান্দি ও মুগারচর এলাকায় দেখা যায়, ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদীর পানি কমে গেলেও পানির প্রচণ্ড স্রোতে এসব এলাকার নদীর তীরভূমির ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর তীরে গড়ে ওঠা বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষার্থে গ্রামবাসী নদীর তীরে গাছ ও বাঁশ দিয়ে বাঁধ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছেন। অনেকের ভিটেবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় আকাশের নিচে খোলা মাঠে টিনের ছাপড়া দিয়ে সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠাঁই নিয়েছে।

হোগলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তাহেরা বেগম বলেন, ‘শুকনা কালে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা নদীর তীর থেইক্যা বালু তুলে আমগো এ ক্ষতি করল। আমগো জমির প্রতি শতাংশের দাম ৬-৭ লাখ টাকা। এই জমির টাকা আমরা কোথায় পামু। তাই আমগো এহন জমি হারাইয়া রাস্তায় রাস্তায় থাকতে হইব। এত কিছু হইয়া গেল, কোনো চেয়ারম্যান-মেম্বর আমগো খোঁজখবর নিতে আহে নাই। চারটা টিনশেডের আধা পাকা ঘরের মধ্যে দুইডাই নদীতে চইল্যা গেছে।’

খাড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা নুর হোসেন বলেন, ‘এত দিন ধইরা কষ্টে রইছি, এই পর্যন্ত আমগো কেউ এক পাতিল ভাত, আর এক কেজি চাউলও দেয় নাই। এহন আল্লাহ ছাড়া আমগো কেউ নাই। কেউ যদি দয়ামায়া কইরা কারও বাড়িতে থাকতে দেয় তয় থাকুম। নইলে পোলা-মাইয়া লইয়্যা রাস্তায় রাস্তায় থাকুম।’

ঢালিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, ‘প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে কালিগঙ্গা নদীতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা আমাদের বাড়ির কাছে বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে বালু তোলায় বেড়িবাঁধের কিছু জায়গা ধসে গেছে। ফলে আমাদের বাড়িঘর নদীভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁদের ড্রেজিং কাজে বাধা দিলে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করতে আসে। তাই তাদের ভয়ে কেউ মুখে খোলে না। গত মাসখানেকের মধ্যে তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জনগণের স্বার্থে শুষ্ক মৌসুমে ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদীর তীরে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মাটি খনন বন্ধ করা উচিত।’

খাড়াকান্দি গ্রামের গৃহবধূ জয়বন্নেছা বেগম (৫৫) বলেন, ‘ধলেশ্বরী নদীর তীরে আমার মায়ের নামে ১৩ শতাংশ জমি ছিল। সেখানে টিনশেডের দুটি থাকার ঘর ও একটি গরুর গোয়ালঘর বানিয়েছিলাম। ১২ দিন আগে বিকেল বেলা আমি রান্নাঘরে রান্না করতে ছিলাম। এমন সময় মট মট শব্দ শুনতে পাই। পরে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে দেখি আমাদের টিনশেডের একটি থাকার ঘর ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। তখন আমি চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে আমার থাকার একটি ঘরের মালামাল ও গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু সরিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এর মধ্যে আমার একটি টিনশেডের ঘর নদীতে তলিয়ে যায়। আমার ভিটেমাটি নদীতে চলে যাওয়ায় এখন আমি, আমার ছেলে, দুই নাতি ও অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অন্যের জায়গায় ছাপড়া ঘর তৈরি করে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।’

কেরানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান বলেন, মাসখানেক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। আগামী অক্টোবর মাস থেকে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শাহীন আহমেদ বলেন, ‘নদীভাঙন বিষয়টি নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছি। বর্তমানে নদীতে স্রোতে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। অক্টোবর মাসে কেরানীগঞ্জের ঢালিকান্দি এলাকা থেকে কুচিয়ামোড়া সেতু এলাকা পর্যন্ত স্থায়ীভাবে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হবে। অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু তোলায় পানিপ্রবাহের গতি পরিবর্তন হয়ে যায়। বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের নির্দেশে দুই বছর ধরে ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*