খুব শীঘ্রই দিনাজপুর রাজদেবোত্তর এস্টেটের পূর্বের কমিটির মুখোশ উম্মোচন করা হবে : জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইউসুফ আলী, দিনাজপুর থেকে :  দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও দিনাজপুর রাজদেবোত্তর এস্টেটের ট্রাষ্টি মোঃ মাহমুদুল আলম বলেছেন, খুব শীঘ্রই দিনাজপুর রাজদেবোত্তর এস্টেটের পূর্বের কমিটির সকল তথ্য-উপাত্ত দিয়ে ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা হবে। যার মাধ্যমে তাদের মুখোশ উম্মোচিত হবে। শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তিত্ব অমলেন্দু ভৌমিক বাবু একজন প্রবীণ মানুষ। তিনি সবার শ্রদ্ধার পাত্র। তার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- তাঁর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে পূর্বের কমিটির একটি অংশ নিজেদের আখের গোছিয়েছে, তাদের মুখোশ দিনাজপুরবাসীর সামনে প্রকাশ করা হবে। আমরা তাদের প্রতি ঘৃণা জানাই। কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করা হবে না। রাজদেবোত্তর এস্টেটের বেহাত হওয়া প্রতি ইঞ্চি জমি উদ্ধারে সব রকম চেষ্টা করা হবে। এজন্য যা যা করণীয় তা করা হবে। রাজদেবোত্তর এস্টেট শুধু হিন্দুদের সম্পত্তি নয়, এটা জাতীয় সম্পদ। জাতির এ সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব সবার। পূর্বের কমিটি সম্পত্তিগুলো অবহেলায় ফেলে রেখে দিয়েছিল, যা প্রতিনিয়ত বেদখল হয়ে যাচ্ছিল, তা সত্যিই খুব দুঃখজনক। গত ১৫ জুন দায়িত্ব হস্তান্তর হলেও এখন পর্যন্ত কোন রকম কাগজপত্র বুঝে পায়নি নতুন কমিটি। শুধুমাত্র ৪টি ব্যাংকের চেক বই তারা দিয়েছে। কিন্তু কোন ক্যাশ বই, প্রনামী আদায় বই, রশিদ-মুুড়ি কোনটাই দেয়নি। তবে তা উদ্ধার করার ব্যাপারে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। প্রয়োজনে আইনের সাহায্য নিয়ে তা উদ্ধার করা হবে। আশ্চার্যজনক বিষয় হলো- মাত্র দু’বছরে কান্তজীউ মন্দির মেলার ইজারার ২৯ লাখ টাকা আমার হেফাজতে রয়েছে। সেগুলো আমি ব্যাংকে রেখেছি, তাদেরকে দেইনি। ফলে সেগুলো তছরুপ হয়নি। দু’বছরেই যদি এতোগুলো টাকা হয় তাহলে বাকী ২৭ বছরে কতগুলো টাকা হবে, তার কোন হিসাব নেই। এভাবেই দায়িত্বহীন অবস্থায় ১৯৯১ সাল থেকে চলেছে দেবোত্তর এস্টেটের কমিটি। আজ সাংবাদিকদের সাথে যে মতবিনিময় সভা হচ্ছে-তা অনেক আগেই হওয়া দরকার ছিল। সম্ভবত দেবোত্তর এস্টেটের ইতিহাসে এটিই প্রথম সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা। আমি আজ কয়েকটি কথা পরিস্কার করে বলছি- এই ট্রাষ্ট স্ব-মহিমায় যেন সারা বিশ্বে পরিচিতি পায়, সে ব্যবস্থা আমি করবো। রাজদেবোত্তর এস্টেটের সম্পত্তি যিনি দান করেছেন, সেই মহারাজাকে কেউ চেনে না। আমি তাকে পরিচিত করতে রাজবাড়ী ও কান্তজীউ মন্দিরে দুটি ম্যুরাল স্থাপন করবো। যা দেখে সবাই জানতে পারবে, এই লোকটির সম্পত্তি এসব। আগামী দূর্গাপুজার আগেই রাজবাড়ীর দূর্গা মন্ডপের সামনের জলাবদ্ধতা দূর করার কাজ করবো। সেই সাথে এখানে পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করবো। আর একটি ভালো ব্রোশিয়ার তৈরী করবো। যা হবে আন্তর্জাতিক মানের। ওই ব্রোশিয়ারই রাজদেবোত্তরের সমস্ত সাক্ষ্য বহন করবে। তিনি বলেন, আমরা এ কাজ করতে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করেছি। আবার এই কমিটির মাথার উপর একটি উপদেষ্টা কমিটি করেছি। যাতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. গওহর রিজভীসহ অনেক উঁচুমানের লোকজনকে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে বিচারপতি, সাবেক সচিবসহ অন্যান্য বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। যেহেতু আমরা জাতির স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করছি, সেজন্যই তারা আমাদের সাথে কাজ করতে রাজী হয়েছেন। খুব তাড়াতাড়ি এটর্নী জেনারেলও আমাদের উপদেষ্টা কমিটিতে যুক্ত হবেন। জেলা প্রশাসক বলেন, রাজদেবোত্তরের টাকা আমরা জনকল্যানে ব্যয় করতে চাই। যারা অর্থাভাবে পড়ালেখা কিংবা চিকিৎসা করতে পারছে না, তাদের সাহায্য-সহযোগিতা আমরা করতে চাই।

১৯ জুলাই রোববার দুপুরে দিনাজপুর রাজবাড়ী শ্রী শ্রী কালিয়া জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে রাজদেবোত্তর এস্টেটের নতুন কমিটির সাথে সাংবাদিকবৃন্দের মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। কমিটির সদস্য ও বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমা কান্ড রায়ের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কমিটির সদস্য সচিব ও এজেন্ট রনজিৎ কুমার সিংহ। কমিটির সার্বিক কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, কমিটির সদস্য শ্যামল কুমার ঘোষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজদেবোত্তর এস্টেটের সহ-সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সালেহ মোঃ মাহফুজুল আলম, দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাগফুরুল হাসান আব্বাসী, কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ বকসী বাচ্চু, এ্যাড. দিলীপ চন্দ্র পাল, বিমল চন্দ্র দাস, দিনাজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায়, এ্যাড. সরোজ গোপাল রায়, সঞ্জয় মিত্র প্রমূখ। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাপ্তাহিক আওয়ামী কন্ঠের বার্তা সম্পাদক নূরুল হুদা দুলাল, দৈনিক আমাদের সময়ের দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি রতন সিংহ ও এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার ফারুক হোসেন। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ দেবোত্তর এস্টেটের পুরাতন কমিটির সকল দূর্নীতির একটি শ্বেতপত্র অবিলম্বে প্রকাশের দাবী জানান। অনুষ্ঠানে দিনাজপুর রাজদেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট ও সদস্য সচিব রনজিৎ কুমার সিংহ বলেন, ৩০ বছর পর আমরা দায়িত্ব পেয়েছি। অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সব ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমেই বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করার কাজ করা হবে। এছাড়া হরিবাসর সংস্কার, মহারাজার ম্যুরাল স্থাপন, মন্দিরের সামনে জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে। মোট কথা দৃশ্যমান উন্নয়ন আমরা করতে চাই। এক্ষেত্রে সাংবাদিকসহ সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা আমাদের একান্ত প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠ করেন রাজবাড়ী শ্রী শ্রী কালিয়া জিউ মন্দিরের গীতা পাঠক বিনোদ চন্দ্র সরকার। অনুষ্ঠানের শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর আওতায় রাজবাড়ীতে একটি গাছের চারা লাগিয়ে কর্মসূচীর শুভ সুচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতের রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে ২০১টি গাছের চারা রোপন করা হবে বলে জানানো হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*