গৃহে অবস্থানকারী দুস্থ্যদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফজিবর রহমান বাবু , দিনাজপুর থেকে : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিশ্ব। একই অতঙ্ক বাংলাদেশেও। করোনার সংক্রমন ঠেকাতে সারাদেশে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছে সরকার। যাতে সবাই নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করে। আর এ অবস্থায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে। ঘর থেকে বের হতে না পেরে খাদ্য সংকটে ভুগছেন অনেক পরিবার। সারাদেশের ন্যায় এ চিত্র দিনাজপুরেও। তাই দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলায় গৃহে অবস্থানকারী সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে খাদ্যসামগ্রি (চাল, ডাল, আলু) বিতরণ করেছেন দিনাজপুর-১ আসনের সাংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল।
২৯ মার্চ ২০২০ রোববার সকাল থেকে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় এই খাদ্যসামগ্রি বিতরণ করেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি। দুই পায়ের তালুতে গত ৫ দিন আগে মাসকাটা অপারেশন করান এই সাংসদ সদস্য। পুরোপুরি সুস্থ্য না হয়ে ওই অবস্থায় তিনি তার নির্বাচী এলাকার খেটে খাওয়া মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, ৩ কেজি আলুসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে দিনাজপুর-১ আসনের সাংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি বলেন, ‘আমি নিজেও অসুস্থ্য। গত কয়েকদিন আগে আমার দুই পায়ের তালুতে কোর্ণ (মাসকাটা) অপারেশন করিয়েছি। কিন্তু দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি ও আমার নির্বাচনী এলাকায় যারা আমাকে ভোট দিয়ে আস্থা রেখেছেন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা খাদ্যসামগ্রি বিতরণ করেছি। বর্তমান সময়ে গরীব, মহেনতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মোক্ষম সময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে একজন মানুষও না খেয়ে মরবে না। আর আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব সর্বদাই আমার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্য।’
তিনি সকলকে সতর্ক করে বলেন, সবাই জানেন অতি স¤প্রতি আবিষ্কৃত হওয়া করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই এখন এই ভাইরাসে আক্রান্ত। করোনাভাইরাস থেকে সংক্রামক রোগের নামই হচ্ছে কোভিড-১৯। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে এই রোগটি ছড়ানোর আগ পর্যন্ত এই ভাইরাসটি সবার কাছেই অজানা ছিল।
আর এই রোগটি থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের দৈনন্দিন আচরণ ও চলাফেরাতে পরিবর্তন আনতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া কারোরই উচিত হবে না। মনে রাখতে হবে আমরা যে কেউ যেকোনো সময় এই রোগে আক্রান্ত হতে পারি। কারণ আমরা সবাই এখন এই রোগের ঝুঁকিতে এরয়েছি। তাই প্রয়োজন সচেতনতা ও সতর্কতা। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্হা চিকিৎসক ও সর্বস্তরের মানুষকেই এই বিষয়ে সচেতন করছেন। শুধু নিজে সতর্ক থাকলেই চলবে না। সবাইকেই সচেতন থাকতে হবে। গুজব থেকে সাবধান থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো গুজবে কান দেবেন না। গুজব ছড়াানোটা বিভ্রান্তিকর ও অপরাধও। তাই গুজবে কান দেন দেবেন না, আতঙ্কিত হবেন না। নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন হতে বলুন।
গৃহে অবস্থানরত এই মুহূর্তে চাল, ডাল, আলু পেয়ে খুশি ওই পরিবারের লোকজন। ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল ও ৩ কেজি আলু পেয়ে কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের খোসাল পাড়ার শ্রী কার্তিক রায় বলেন, ‘আজ চার দিন ধরে বাড়ির বাইরে বের হইনি। আমি দিনমজুরের কাজ করি। বাড়ি থেকে বের না হলে কাজও হয় না। আবার বর্তমানে কোথাও কাজ নেই। জমানো টাকা যা ছিল তা দিয়ে এই চারদিন বসে বসে খেয়েছি। আজকে আমাদের এলাকার এমপি মহোদয় এসে বাড়িতে চাল, ডাল, আলু এসব দিয়ে গেছেন। আমাদের এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি এসব দিয়ে যাওয়ায় কিছুটা হলেও সস্তি পাওয়া যাবে।’
বীরগঞ্জ পৌরসভার এলাকার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই চরম সংকটময় অবস্থায় এমপি সাহেব আমাদের বাড়িতে এসে চাল, ডাল ও আলু দিয়ে গেছেন। বর্তমানে সরকারি আদেশ মেনে বাড়িতেই অবস্থান করছি আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা। রিক্সা চালিয়ে আমি সংসার পরিচালনা করি। এখন রিক্সাও চালাতে পারছি না। এই সময় এমপি সাহেব যেগুলো দিয়েছেন তা দিয়ে পুরো পরিবার কয়েকদিন চলতে পারব।’
খাদ্য সামগ্রি বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন কাহারোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম ফারুক হোসেন, বীরগঞ্জের সহকারি কমিশনার (ভূমি) রমিজ আলম, বীরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল মতিন প্রধান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামিম ফিরোজ আলম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*