চিরিরবন্দরে ইছামতি নদীতে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা, চরম জনদুর্ভোগ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোরশেদ উল আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: নির্বাচন আসলে নেতা আর কর্মীদের মুখে শুধু কথার ফুলঝুরি ফোটে। নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর সাক্ষাত মিলে না। বছরের পর বছর শুধুই আশ্বাস আর আশ্বাস। দেশ স্বাধীনের আজ প্রায় চার দশক অতিবাহিত হতে চললেও আজও সেই বাঁশের সাঁকোই রয়ে গেছে। দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পূর্ব-উত্তর কোণে নশরতপুর ঈদগাঁহ মাঠ সংলগ্ন ইছামতি নদীতে একটি সেতু নিমার্ণের অভাবে এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন। ব্রিজ যে কবে নাগাদ হবে তা কেউ জানে না। নশরতপুর-আলোকডিহি গ্রামের মাঝামাঝি ইছামতি নদীর ওপর সেতু নিমার্ণ এখনও ফাইলবন্দি। চিরিরবন্দর-খানসামা উপজেলার ৮টি গ্রামের প্রায় ৫০হাজার লোকের দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটি ব্রিজের। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের উচ্চ মহলে বারবার ধর্না দিয়ে আশ্বাস মিললেও সেতু কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সেতু না থাকায় যাতায়াত, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেয়া, অন্যান্য মালামাল বহনে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। শুধু বাঁশের একটি সাঁকো অত্রাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর, চকগোবিন্দ, আলোকডিহি, ফতেজংপুর, উত্তর পলাশবাড়ী, খানসামা উপজেলার দুবলিয়া, গোয়ালডিহি, লালদিঘী, নীলফামারীর বড়–য়াসহ ৮টি গ্রামের প্রায় ৫০হাজার লোকের যাতায়াতের একমাত্র পথ এ বাঁশের সাঁকো। জনগুরুত্বপূর্ণ ওই স্থানে আজও সেতু নির্মিত না হওয়ায় দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ফলে কৃষি সমৃদ্ব এই এলাকায় আজও তেমন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। নশরতপুর গ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক এমএ কারী, আলোকডিহি গছাহার গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক বাবু নন্দীশ্বর দাস জানান, রাজারা তাদের জামিদারী তদারকিকালে অত্রাঞ্চলের মানুষের নদীপথে চলাচলের সুবিধার্থে ইছামতি নদী দিয়ে যাতায়াত করত। এলাকার প্রজাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য এ নদীটি খনন করা হয়েছিল। কালের বির্বতনে নদীপথের গুরুত্ব কমে যাওয়ায় ইছামতি নদীটি গুরুত্ব কমে যায়। স্থলপথে যাতায়াতের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় এখানে একটি সেতু নিমার্ণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ সেতুটি নিমার্ণ না হওয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়তে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদেরকে প্রায় দু’মাইল পথ ঘুরে আলোকডিহি হয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, স্বল্প সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আলোকডিহি জে, বি উচ্চ বিদ্যালয়, রাণীরবন্দর এন, আই বালিকা বিদ্যালয়, কুমড়িয়া দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলার প্রসিদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী রাণীরবন্দরহাট ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যাতায়াতে এলাকার লোকজন এ পথে চলাচল করে থাকে। এছাড়া কৃষিপণ্য আনা নেয়াও করে থাকে। তারা আরো জানান, এখানে সেতু না থাকায় উৎপাদিত পন্য পারাপারের জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। আবার সময় মতো বাজারে পৌঁছানো দুরুহ হয়ে উঠে। কত কষ্ট না দেখলে বুঝবেন না। নশরতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর ইসলাম শাহ্ নুরু জানান, গ্রামবাসীর একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগের সীমা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও সেতু তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। অভিজ্ঞ মহল উক্ত স্থানে ব্রিজ নিমার্ণে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*