টাকা দিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি ৩০টি পরিবার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম: চার ভাইয়ের বাড়িতে চারটি বৈদ্যুতিক মিটারের জন্য প্রতিবেশী আমিনার রহমান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা নাজিম উদ্দিনকে কয়েক দফায় ১৪ হাজার টাকা দিয়েছেন কৃষক আমির হোসেন। কয়েক মাস আগে আমির হোসেনের ঘরে একটি মিটার লাগানো হয়। বিল পাওয়ার পর দেখা যায়, মিটারটি স্থানীয় সাহেবীজোত আনিসুল কোরআন নুরানি মাদ্রাসার নামে।

আমির হোসেনের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবীজোত এলাকায়। আমির হোসেনের মতো এলাকার প্রায় ৩০ জন পল্লী বিদ্যুতের সংযোগপ্রত্যাশী আমিনার রহমান ও নাজিমউদ্দিনের কাছে টাকা দিয়ে তাঁরা প্রতারিত হয়েছেন। এ বিষয়ে ২০ জন ভুক্তভোগী ১৮ আগস্ট ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বরাবর অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে পশ্চিম সাহেবীজোত এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগের মূল লাইন স্থাপন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এর আগে থেকেই স্থানীয় লোকজনের কাছে টাকা তোলা শুরু করেন আমিনার রহমান ও সাতমেরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন। প্রায় ৩০টি পরিবারের কাছ থেকে কখনো অফিস খরচ ও আলোচনার কথা বলে, কখনো প্রকৌশলীদের পরিদর্শনের কথা বলে, কখনো মেইন লাইন স্থাপনের কথা বলে, আবার কখনো ঘরে ঘরে মিটার স্থাপনের কথা বলে কয়েক দফায় পরিবারপ্রতি চার হাজার টাকা থেকে ছয় হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিনেও তাঁরা সংযোগ পাননি।

আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের ৪ ভাইয়ের বাড়িতে ৪টি মিটারের জন্য ১৪ হাজার টাকা নিয়েছেন আমিনার রহমান ও নাজিম উদ্দিন। আমরা চাপ দিলে একটা মিটার লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, ওই মিটার আমাদের নামে নয়, পাশের মাদ্রাসার নামে। এখন সংযোগ চাইতে গেলে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তরিম উদ্দিন বলেন, ‘আমিনার রহমান আমার কাছে ছয় হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু সংযোগ পাইনি। উপায় না পেয়ে বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযোগের ব্যবস্থা করছি। আমার টাকা ফেরত চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আমিনার রহমান বলেন, ‘আমি কেন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতে যাব? বিদ্যুৎ আসা নিয়ে অনেকবার বৈঠক-আলোচনা হয়েছে। এসবের অনেক কাহিনি আছে।’

আওয়ামী লীগের নেতা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার বাড়ি ওই গ্রামে নয়। টাকাপয়সা নেওয়ার জন্য ওই গ্রামে আমি যাইনি। তবে লাইন নির্মাণের সময় গাছের ডালপালা কাটার বিষয়ে কয়েকবার গিয়েছি।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মেহেদী হাসান বলেন, ‘সংযোগের জন্য মিটার নিতে একজন গ্রাহককে ৪৫০ টাকা জমা দিতে হয়। আর নতুন গ্রাহক হলে সদস্য হতে ১১৫ টাকা দিতে হয়। বারবার মাইকিং করার পরও মানুষ প্রতারকদের খপ্পরে পড়ছেন। বিষয়টি শোনার পরপরই আমি সেখানে গিয়ে তদন্ত করেছি। আমিনার রহমানের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার করেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সেটিও থানার এজাহারে সংযুক্ত করেছি।’

মাদ্রাসার মিটার একটি বাড়িতে লাগিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, সেখানে কর্মরত মিটার রিডারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*