ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার সময় যেভাবে আয় করছে শিক্ষার্থীরা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম: সরু আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। পথের ধারে সাজানো সারি সারি পাটকাঠি। পাটকাঠির ফাঁক দিয়ে নজরে পড়ে একদল শিশু-কিশোরের পাটের আঁশ ছাড়ানোর ব্যস্ততা। ওই শিশু-কিশোরেরা সবাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ স্কুল-কলেজ। কোনো ক্লাস তো হচ্ছেই না, এমনকি পরীক্ষাও স্থগিত। এ অবস্থায় বাড়িতে অলস বসে না থেকে বিভিন্ন স্থানে শ্রম দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এই শ্রমের বিনিময়ে যা আয়রোজগার হচ্ছে, তা সঞ্চয় করে রাখছে তারা।

গতকাল মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধুকুরঝাড়ী গুয়াবাড়ী এলাকার একটি জলাশয়ে ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক একসঙ্গে পাটকাঠি থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছিল। তাদের বেশির ভাগই কিশোর। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লেখাপড়ার চাপ নেই। এ সুযোগে তারা হাতখরচের পয়সা জোগাড় করতে ধানের চারা রোপণ, পাটের আঁশ ছাড়ানোসহ নানা ধরনের কাজ শুরু করেছে।

পাটকাঠি থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছিল লাহিড়ী দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম। কাজের ফাঁকে আশরাফুল বলে, করোনার কারণে বিদ্যালয়ে যাওয়া হচ্ছে না। তাই এ সময়ে কাজ করে যাচ্ছি। করোনায় স্কুল বন্ধ হওয়ার পর থেকে ধানকাটা, ধানের চারা রোপণ করা ও পাটের আঁশ ছাড়িয়ে সে প্রায় ১২ হাজার টাকা আয় করেছে। এখন এসব কাজ করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে আবার নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাবে। একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ আহমেদ জানায়, বাড়িতে বসে থেকে ভালো লাগে না। তাই এখন কাজ করা হচ্ছে। এতে কিছু আয়ও হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সম্মান দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন মো. বদিউজ্জামান। করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ছুটিতে তিনিও শ্রম দিচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রতিবছরই তিনি ধান, গম ও পাটের মৌসুমে পরিবারের সঙ্গে কাজ করেন। কিন্তু এবার কলেজ বন্ধ থাকায় মাঠেও কাজ করে রোজগার করছেন।

শুধু নিজেরাই রোজগার করছে এমনটি নয়, অনেক শিক্ষার্থী মা-বাবার কাজেও সহায়তা করছে। গতকাল সদর উপজেলার ভাতগাঁও এলাকায় দেখা যায় মা-বাবার সঙ্গে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছে রিভারভিউ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজন রায়। তার বাবা নরেন রায় বলেন, গ্রামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই বিঘা জমির পাটের আঁশ ছাড়ানোর চুক্তি নিয়েছেন তিনি। স্বামী-স্ত্রী মিলে দুই বিঘা জমির পাটের আঁশ ছাড়াতে তাঁদের তিন-চার দিন লাগার কথা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেই কাজ করা হয়নি তাঁদের। কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নরেন। ছেলের সহায়তায় কাজটি তিন দিনে শেষ করতে পারলে তাঁরা এক দিন বাড়তি সময় পাবেন। আর সে সময়ে কাজ করে আরও কিছু টাকা আয় করতে পারবেন তাঁরা। এ ছাড়া সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় হাসমতউল্লাহ উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির রাহাত হোসেন, শাপলা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী গৌতম রায় ও দুর্লভ রায়কেও পাটের আঁশ ছাড়াতে দেখা গেছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*