দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার : মানবতার দৃষ্টান্ত পরিমল কুমার সরকারের

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ “দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার” এমনি এক বিচারকার্য সম্পূর্ণ করলেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার। উপজেলার ইসলামপাড়ার এক মাদক সেবী মানিক মন্ডল (৪৫) কে মাদক সেবন ও রাখার দায়ে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এই নির্বাহী অফিসার। বিরামপুরে একের পর এক মানবতার দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন মানবিক বিচারক ও ইউএনও পরিমল কুমার সরকার।

সোমবার (২৩ আগস্ট) রাত ৮ টায় উপজেলার ইসলাম পাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন তিনি।

তবে শুধু কারাদণ্ড দিয়েয় শেষ করেননি তিনি। তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেন এই মানবিক বিচারক। খোঁজ নিয়ে দেখেন, আসামি মানিক মন্ডলের বাড়িতে রয়েছে দুইটি ছোট বাচ্চা এবং অসহায় স্ত্রী। তারা রয়েছে ক্ষুধার্ত,  ঘরে নেই কোন খাদ্য-খাবার।  সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী মানিক মন্ডল।

নির্বাহী অফিসার পরিমল সরকার একজন শ্রেষ্ঠ বিচারক, বিচারকের আসনে বসে তিনি ন্যায্য বিচার করেছেন। কিন্তু ঐ অসহায় দুটি সন্তান আর স্ত্রীর অসহায়ত্বের কথা ভেবে তিনি নিজ হাতে কিছুদিনের চলার মতো ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আটা, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি লবণ ও সেমাই চিনি তুলে দেন। এবিচার যেন সেই, দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারের মতো।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল সরকার বলেন, অপরাধীর ক্ষমা নাই, শাস্তি পেতেই হবে। কিন্তু তার পরিবার যেন অনাহারে না থাকে সেটাও বিবেচনা করা উচিত।

স্বামী মাদকসেবি। মাদকসহ ধরা পড়ায় তাকে মোবাইল কোর্টে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে দুই সন্তান নিয়ে অসহায় স্ত্রী হয়ে যাবে দিশেহারা। তাই তার পরিবার চলতে যাতে কোন অসুবিধা না হয়, এই জন্য প্রধান মন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা প্রদান করলাম৷ তিনি আরও বলেন, খাদ্য শেষ হয়ে গেলে প্রয়োজনে আবার তাদের সহায়তা দেয়া হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*