দিনাজপুর মহিলা পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সর্বত্র নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের নৃশংস ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম: সর্বত্র নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের লোমহর্ষক,বর্বর, নৃশংস ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাসে, ট্রাকে, মাইক্রোবাসে,নৌকায় যাত্রীকে গণধর্ষনের মতো ঘটনা ঘটছে।

দিনাজপুর জেলায় গত নভেম্বর ১৯ হতে নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত নারী ও শিশু আদালতে নারী ধর্ষণ মামলা হয়েছে – ৯০টি, যৌতুকের জন্য নির্যাতিত মামলা হয়েছে – ৪০০ টি, অপহরন মামলা হয়েছে – ১০০টি এবং অন্যান্য মামলা হয়েছে – ১৫০টি। “ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ-আসুন নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিত প্রতিরোধ গড়ে তুলি”- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্বমানবাধিকার দিবস (২০ নভেম্বর-১০ ডিসেম্বর) পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

২৫ নভেম্বর বুধবার বেলা ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রশিক্ষন গবেষনা ও পাঠাগার সম্পাদক রুবি আফরোজ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় “ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ – আসুন নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আগামী ২৫ নভেম্বর – ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্ন্তাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০২০ পালন করছে। সারা বিশ্বে স্বীকৃত যে, ধর্ষণ মানবতা বিরোধী একটি অপরাধ।

নারী ও কন্যাশিশুরা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনেতিক, সাম্প্রদায়িক সহিংসতাসহ বিভিন্ন দ্বন্দের কারনে ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকে। ক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ধর্ষণকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যুদ্ধ ও সংঘর্ষ- কালীন সময়ে এমনকি গণতান্ত্রিক পরিবেশেও ধর্ষণের ঘটনাকে ব্যবহার করা হয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে। নারীকে অবদমিত করে রাখার পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে সাধারনত ধর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয় বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়নে নারীরা পারিবারিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্বমানবাধিকার দিবস’২০২০ সামনে রেখে মহিলা পরিষদ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারী নির্যাতন বিরোধী সংস্কৃতি, পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে গড়ে তোলার জন্য পুরুষ সমাজ ও তরুণ-তরুণীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষত সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকহারে বেড়ে যাওয়া নারী-শিশু নির্যাতন এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন এবং কন্যাশিশুর বেড়ে ওঠা নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ এবং মনুষ্যত্বহীনতারই বহি:প্রকাশ বলে আমরা মনে করি।

এছাড়াও অন্যান্য আইনের পাশাপাশি পারিবারিক সুরক্ষা আইন ২০১০ এর সঠিক প্রচার ও সুবিধাদি গ্রহনের ক্ষেত্রে জনমনে সঠিক ধারণার অভাব রয়েছে। এজন্য সকল সমস্যা চিহ্নিত করে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা সাপেক্ষে আইন  সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহনের প্রয়োজন। মহিলা পরিষদ তথা দেশের নারী সমাজ বিশ্বাস করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় হত্যাকারী, নারী নির্যাতনকারীসহ সকল ধরণের অপরাধীদের বিচার না হলে দেশে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। সমাজে অপরাধ দমনে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে আইন প্রণয়ন ও সংস্কার বা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তাহলে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতন হ্রাস পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আসুন আমরা সকলে জেগে উঠি নতুন এক মুক্তিযুদ্ধের অসীম প্রেরণায়। এই যুদ্ধ মানবিকতার জন্য উন্নততর মনুষ্যত্ববোধের জন্য, উন্নততর জীবনচর্চার জন্য। এ যুদ্ধে মহিলা পরিষদ তথা নারী আন্দোলন থাকবে সব সময়। আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্বমানবাধিকার দিবস’২০২০ উপলক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে যে সমস্ত কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে তা হলঃ সংবাদ সম্মেলন।

বৈষম্যমুলক পারিবারিক আইন, সংস্কার এবং সম্পদ – সম্পত্তিতে সমঅধিকারের দাবীতে আইনজীবীদের সাথে অনলাইন মতবিনিময় সভা এবং আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’২০২০ ও বিশ্বমানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে অনলাইন মতবিনিময় সভা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাহবুবা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার, আন্দোলন সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী প্রমুখ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*