নতুন এমপিও ভূক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ ঈদের আগে বেতন পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় !

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোরশেদ-উল-আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন নন এমপিও ভূক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ। তাঁরা ত্রাণ চাইতেও পারছেন না, নিতেও পারছেন না। নন এমপিও ভূক্ত বেশিরভাগ শিক্ষক কর্মচারীগণ নিম্ন আয়ের খাদ্য সংকটে পড়া মানুষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে নতুন এমপিও ভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন ঈদের আগে বেতন পাবেন। সেই আশায় ২ মে হতে ৬ মে পর্যন্ত ইএমআইএসের সার্ভার জটিলতার কারণে সেহরী খেয়ে নামাজ আদায় করে সকাল ৬ টায় কম্পিউটার দোকানে গিয়ে সফটওয়ার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে পাঠাতে সারারাত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। ওই শিক্ষক কর্মচারীগণ বর্তমানে নতুন জটিলতায় পড়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করছেন। কারণ হিসেবে জানা গেছে, শিক্ষক কর্মচারীগণ স্বীয় ই-মেইলের মাধ্যমে স্বীয় প্রধান শিক্ষক বরাবরে কাগজপত্রাদি পাঠান। প্রধান শিক্ষক সেই কাগজপত্রাদি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে পাঠান। গত ৮ মের মধ্যেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ১৪ দফা কাগজপত্রাদিসহ অন্যান্য কাগজপত্রাদি ভালভাবে যাচাই-বাছাই করে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে পাঠান। জেলা শিক্ষা অফিসার পুনরায় যাচাই বাছাই করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবরে অঞ্চলে পাঠান। অত্রাফিসের ধীরগতিসহ বিভিন্ন কারণে আশায় বুকবাঁধা শিক্ষক কর্মচারীগণ নতুন জটিলতায় পড়েছেন। তারা জানতেই পারছেন না, আসলে হচ্ছেটা কী। সফটওয়ার অনুযায়ী নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ শিক্ষক কর্মচারীগণের পাঠানো কাগজপত্রাদির অবস্থান বুঝতে পারছেন। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের শিক্ষক কর্মচারীগণ। রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক শিক্ষক কর্মচারীগণের কাগজপত্রাদি বিদ্যালয় পরিদর্শক (পুরুষ) বরাবরে পাঠালেও বিদ্যালয় পরিদর্শকের টেবিলে ফাইলগুলির ধীরগতি লক্ষ করা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক। গত ১৩ মে উপ-পরিচালকের সময়সীমা পার হলেও শিক্ষক কর্মচারীগণের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় এমতাবস্থায় চরম হতাশায় পড়েছেন তাঁরা। দিনাজপুর জেলার পশ্চিমের এক উপজেলার একজন প্রধান শিক্ষক জানান, তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীসহ ৭ জনের কাগজপত্রাদি প্রেরক উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) ছিল। এরপর একজন ৪র্থ শ্রেণির , একজন সহকারি গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার ও দুজন শিক্ষকের কাগজপত্রাদি প্রেরক হিসেবে দ্যিালয় পরিদর্শক (পুরুষ) সফটওয়ারে উল্লেখ ছিল। ১৪ মে সকাল সাড়ে ৫ টায় দুজনের কাগজপত্রাদি প্রেরক হিসেবে প্রোগ্রামার হিসেবে দেখা গেছে। শিক্ষক কর্মচারীগণ আরো বলেন, আসলে কী হবে, হচ্ছে ,কপালে কি ঘটবে বোঝা যাচ্ছেনা। স্ত্রী,সন্তানসহ আত্মীয়-স্বজনকে বলা হয়েছে ঈদের আগেই বেতন পাব, সে আশাও এখন গুড়েবালি। পিতা-মাতাকে আসল অবস্থা বলতে পারছি না। সামনে ঈদ। সন্তানরা নতুন কাপড় চোপড় আবদার করেছে। বলেছি বেতন আসলেই কিনে দেয়া হবে। এখন সন্তানদের কী সান্তনা দেব ? একজন কর্মকর্তা জানান, এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সহকারি গ্রন্থাগারিক, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ফাইলগুলি আগে হতে পারে এবং নতুন কোড হলে পরবর্তিতে সকলের এমপিও হতে পারে।
এসব বিষয়ে জানতে উপ-পরিচালক অফিসে যোগাযোগ করেও কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। আশাহত শিক্ষক কর্মচারীগণ হতাশা ব্যক্ত করে দ্রæতগতিতে তাদের এমপিও ভূক্ত করতে জোর দাবি জানিয়েছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*