নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলার পুনঃ তদন্তের দাবীতে মুর্শিদা খানমের সংবাদ সম্মেলন

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টারঃ নিজের বিরূদ্ধে পুলিশের প্রতরণামূলক রিপোর্ট প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের কন্যা মোছাঃ মুর্শিদা খানম। ৩০ নভেম্বর সোমবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের নারী বান্ধব সরকার যেখানে নারীদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন আইন প্রনয়ন ও প্রয়োগ করে নারীদের সমাজে সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন, সেখানে একজন প্রতারক শাহ্ তোফাজ্জল আলী পুলিশের তদন্তকারী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বি,পি-৮১০০০৫৭ এস, আই (নিরস্ত্র) সি, আই,ডি দিনাজপুরকে অর্থের বিনিময়ে একটি ভুয়া ও কাল্পনিক মামলার রিপোর্ট নিজের পক্ষে নিয়ে আমার পরিবারসহ আত্মীয় স্বজনকে সমাজে চরমভাবে হেনস্থা করেছে ও চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে। তাই আমি প্রশাসন তথা সি,আই,ডির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন করছি, যেহেতু একই বিষয় নিয়ে একই প্রশাসনের দুই ধরনের প্রতিবেদন দিয়েছে, তাই আরেকটি নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তি নির্ভর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও ঘটনার পিছনে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানাচ্ছি।
সাংবাদিকদের সামনে কান্নাজড়িত কন্ঠে মুর্শিদা খানম আরো বলেন, আমি আপনাদের কাছে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে হাজির হয়েছি। ২০১৭ সালের ৩ আগষ্ট দিনাজপুর নোটারী পাবলিক সম্মুখে ২৫৬৯ নং এফিডেফিট মূলে একই বছরের ৬ আগষ্ট বিধি মোতাবেক ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক একই উপজেলার আলোকডিহি এলাকার শাহজাহান আলীর পুত্র শাহ তোফাজ্জল আলীরর সঙ্গে আমার বিবাহ কাবিননামা সম্পাদন হয়। বিবাহের পর আমি তাকে তার বাড়িতে আমাকে নিতে বললে সে আমাকে আমার বাবার নিকট হতে ৫ লাখ টাকা নিয়ে দিতে বলে। আমার উপার্জনহীন বৃদ্ধ বাবার নিকট হতে কোন টাকা নিয়ে দেয়া সম্ভব নয় বলে জানালে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধরসহ নানাবিধ শরীরিক নির্যাতন করে। পরবর্তীতে আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আহসানুল হক মুকুলের কাছে জানালে তিনি আমাদের বিষয়টি সমাধানের জন্য আন্তরিকভাবে অনেক চেষ্টা করার পর ব্যর্থ হয়ে আমাদের থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। ফলে ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বর আমি চিরিরবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। তৎকালীন ওসি হারেসুল ইসলাম বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার চেষ্টায় করেও করতে পারেনি।
মুর্শিদা খানম জানান, এরপর গত ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর দিনাজপুর যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও চিরিরবন্দর কোর্টে তোফাজ্জল হোসেন একই তারিখে একই সঙ্গে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যার নং- ১৩৮/১৮ অন্য ও ৩৮২/১৮ সি,আর। এরপর আদালত কর্তৃক নির্ধারিত তদন্ত কর্মকর্তা বাদী পক্ষের দ্বারা অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়ে এক পক্ষ অবলম্বন করে মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ন অসত্য রিপোর্ট প্রদান করে। মামলাটি তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা রবিউল বাদী তোফাজ্জলের উক্ত কাল্পনিক ঘটনার জন্য যে সমস্ত ব্যক্তিদের স্বাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তাদের মধ্যে ১ ও ২ নং স্বাক্ষীকে তদন্ত কর্মকর্তা উক্ত ঘটনার বিষয়ে কোনরুপ জিজ্ঞাসা করেননি ও তাদের সম্মতি ব্যতিরেকেই মনগড়া জবানবন্দি তৈরি করে উক্ত মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তিতে ওই স্বাক্ষীগণ এ বিষয়ে অবগত হলে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই ও মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে অজান্তে তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে মর্মে কোর্ট এফিডেভিড করে দেন। মামলাটি তদন্তকালে তদন্ত কর্মকর্তা আমার বাড়ী এসে আমার কাছে বিবাহ সম্পর্কিত প্রমানাদির বিষয়ে জানতে চাইলে আমার বিবাহ সংক্রান্ত সকল বিষয় ও বিবাহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে তাকে জানাই এবং বিভিন্ন প্রমাণাদি উপস্থাপন করি। পরবর্তীকালে আমরা তার উক্ত মামলা দুটি সম্পর্কে তৎকালীন চিরিরবন্দর থানার ওসি হারেসুল ইসলামকে অবহিত করলে আমাদের পূর্বের দায়েরকৃত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে নিয়ে তোফাজ্জল আলীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। চিরিরবন্দর থানা পুলিশ মামলাটি সর্ম্পকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ও আমার সাথে সংসার করাকালীন সময়ে যৌতুকের জন্য আমাকে নির্যাতন করার প্রমান সাপেক্ষে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র প্রদান করে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত। ঘটনার প্রযুক্তিনির্ভর সুষ্ঠু তদন্ত হলে দোষী তোফাজ্জলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত সম্ভব হবে। অবিলম্বে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন নির্যাতিতা মুর্শিদা খানম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*