নিরাপরাধ মা-ছেলের বিরুদ্ধে মাদকের মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম. আর. মিজান , দিনাজপুর থেকে : দিনাজপুরের বিরলে নিরোপরাধ মা ও ছেলের বিরুদ্ধে মাদকের মিথ্যা মামলা দেওয়ায় থানার এসআইসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগি পরিবার পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছে। বিরল উপজেলা ভান্ডারা ইউনিয়নের বান্দইল গ্রামের ফাইজুর রহমান গত ২৪ আগস্ট সোমবার বিরল থানার এসআই ফারুক হোসেন, এ এস আই আনোয়ার হোসেন, এ এস আই রাশেদুল হক রাশেদসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের নিকট ওই অভিযোগ দায়ের করেন। সদয় অবগতির জন্য ওই অভিযোগের অনুলিপি পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সংস্থার কার্যালয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিরল থানার এস আই ফারুক হোসেন, এ এস আই আনোয়ার হোসেন, এ এস আই রাশেদুল হক রাশেদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার দুপুরের দিকে বান্দইল গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের বাড়ির খুলিয়ান থেকে তাঁকে আটক করে। তার সাথে থাকা জনৈক জুয়েল নামের আরেক মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যায়। এ সময় ধৃত মোজাম্মেলের মৃত ভাইয়ের নির্মাণাধীন পরিত্যাক্ত ঘরের দুই কোনের বালুর নীচ থেকে ৪ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ৫০ বোতল) ফেন্সিডিল উদ্ধার করে ধৃত মোজাম্মেলসহ থানায় নিয়ে আসে। জব্দ তালিকায় মাত্র ১০০ বোতল ফেন্সিডিল দেখিয়ে পলাতক জুয়েলকে আসামী না করে ধৃত মোজাম্মেলসহ কোতয়ালী থানার রামসাগর এলাকার জনৈক এরশাদ নামের এক ব্যাক্তিকে পলাতক দেখিয়ে এসআই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে বিরল থানায় একটি মাদক মামলা নং-১৬, তাং-১৪/০৮/২০২০ ইং দায়ের করেন। পরেরদিন ১৫ আগস্ট শনিবার দুপুরের দিকে মাদক ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের বসতবাড়ীর পুর্ব-দক্ষিন কোনে লিচু গাছের পাশের একটি গর্ত থেকে আবারও ৪ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ৫০ বোতল) ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। পরেরদিন ১৬ আগস্ট এসআই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে জব্দ তালিকায় মাত্র ৬০ বোতল ফেন্সিডিল ফাইজুর রহমানের বাড়ির আঙ্গিনায় উদ্ধার দেখিয়ে ফাইজুরের স্ত্রী নিরোপরাধ লুৎফা বেগম ও স্কুল পড়–য়া ছেলে লতিবুর রহমানকে পলাতক আসামী করে মিথ্যা মামলা নং-১৭, তাং-১৬/০৮/২০২০ ইং দায়ের করে। সরজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষ বলেন, ফাইজুর রহমান ও তাঁর পরিবারের কেউ কোন দিন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলনা। তাঁর ছোট ভাই মোজাম্মেল হক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। আসল অপরাধীর ব্যবস্থা হোক। কিন্তু নিরোপরাধ যারা তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কি করে মিথ্যা মাদক মামলা করে। পুলিশের এহেন কর্মকান্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্নও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী ফাইজুর রহমানসহ এলাকার সচেতন মহল সরজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরোপরাধ ব্যাক্তিদের হয়রানীর হাত থেকে রক্ষার জন্য পুলিশ সুপারের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*