নীল অর্থনীতি বাংলাদেশের সমৃদ্ধকে ত্বরান্বিত করবে : হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাহেব, দিনাজপুর থেকে : জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ ধারণ করে আইডিইবি’র দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাসে জাতি গঠনমূলক বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে ১৯৭০ সালের ৮ নভেম্বর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) প্রতিষ্ঠিত হয়। আইডিইবি একমাত্র পেশাজীবী সংগঠন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল এবং আইডিইবি’র অনেক সদস্য প্রকৌশলী মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। সংগঠনের সুবর্ণ জয়ন্তীর উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী আইডিইবি’র সকল সদস্য প্রকৌশলী ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানিয়ের আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী সংগঠন হিসেবে লক্ষপ্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে এদেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিশেষ দায়বদ্ধতা ছিল ও আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠাকালিন দর্শনের আলোকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির নিকট প্রযুক্তিসেবা পৌঁছে দেয়া ও প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতিবছর আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠা দিবস ৮ নভেম্বর দেশব্যাপী গণপ্রকৌশল দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
৮ নভেম্বর রোববার জাতীয় সংসদের হইপ ইকবালুর রহিম এমপি গণপ্রকৌশল দিবস-২০২০ ও ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (সুবর্ণ জয়ন্তী) উপলক্ষে ভার্চুয়ালের মাধ্যমে দিনাজপুরে আইডিইবির বর্নাঢ্য র‌্যালীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “নীল অর্থনীতি এনে দিবে সমৃদ্ধি”।
তিনি আরও বলেন, আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে মানবসম্পদ উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে বঙ্গবন্ধু’র শিক্ষা দর্শন বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিমনস্ক জাতি গঠনে রাজনীতিতে প্রযুক্তিভাবনা যুক্তকরণ, দেশের নদ নদী রক্ষা, পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, কৃষি জমি রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগর ও গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ এবং ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় সহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আইডিইবি’র সময়োপযোগী আহবানসমূহ জনগণকে সর্বদা অনুপ্রাণিত করেছে। আইডিইবি’র ৫০ বছরের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এসব প্রযুক্তিনির্ভর দার্শনিক আহবান অতীত, বর্তমান, অনাগত প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বøু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি বা সমুদ্র অর্থনীতিকে সম্ভাবনাময় বিকল্প অর্থনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী বøু ইকোনমির আধুনিক সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, সমুদ্রে যে পানি আছে এবং এর তলদেশে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, সেই সব সম্পদকে যদি আমরা টেকসই উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করি তবে তাকে বøু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি। ভারত মহাসাগরের ব-দ্বীপ বাংলাদেশের জন্য ব্লু ইকোনমি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বঙ্গবন্ধু’র পথনির্দেশনায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের (পিসিএ) রায়ে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ মিটিয়ে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকার ওপর বাংলাদেশের অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। এই সমুদ্র বিজয়ের পর বাংলাদেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব উত্তরণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে সমুদ্র সম্পদের গুরুত্ব ও অপার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। র‌্যালীটি দিনাজপুর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
দিনাজপুর আইডিইবি কার্যলয় চত্বরে অনুষ্ঠানে আইডিইবির জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান মতির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদ মন্ডল, আইডিইবির জেলা শাখার সহ-সভাপতি প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল, জিলা পরিষদের সদস্য ফয়সাল হাবিব সুমন প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইডিইবি মহিলা ও পরিবার কল্যান পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশল, আইডিইবি ও আইসিটি ক্লাব দিনাজপুর, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, এ্যাপটাচ পলিটেকনিক, এস আর এ পলিটেকনিক, ডি আই এসটি পলিটেকনিক, আনোয়ারা পলিটেকনিক, পুর্ণভবা পলিটেকনিক, উত্তরণ পলিটেকনিকসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রতিনিধিবৃন্দ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*