পঙ্গু জীবন এখন রজব আলীর অভিশাপ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : সংসার আর সন্তানদের চাহিদা মেটাতে মানুষ মাঠে-ঘাটে, গ্রাম-গঞ্জে বিভিন্ন কাজ করে অর্থ উপার্জনের জন্য। কিন্তু দিনাজপুরের হিলির গুমরা গ্রামের পঙ্গু রজব আলী (৭৩) শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে, কিছুই করতে পারে না। তারও মন চাই অন্যদের মতো নিজ শরীর দ্বরা পরিশ্রম করে সন্তানদের মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দিতে। মনে জোর থাকলেও দেহে নেই জোর। একটু সাহায্য আর পঙ্গু বা বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য বিভিন্ন মহলে ঘুরেও কোন লাভ হয়নি তার।

একটি দুর্ঘটনা, একটা জীবনের সর্বনাশ। দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ রজব আলী কোন একটি দুর্ঘটনায় তার একটি পা অকেজো হয়ে যায়। সংসারে দুই মেয়ে ও ছোট এক ছেলে। স্ত্রীসহ পাঁচ জন সংসারের সদস্য। মাঠে নেই কোন আবাদি জমি। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলেও তারা আজ রজব আলীর সংসারে পড়ে আছে। একে তো রজব আলী নিজেই চলতে পারে না,তার ঘাঁড়ের উপর আবার বোঝা হয়ে আছে দুই মেয়ে। কর্মহীন পঙ্গু রজব আলী আজ দিশেহারা। দুইটি লাঠি দিয়ে কোন রকম সে চলাফেরা করে। আজ মানুষের দ্বারে দ্বারে সে ঘুরছে, আর রাস্তার মানুষের মুখের দিকে ফেলফেল করে চেয়ে থাকে। সমাজের অনেক বৃত্তবান রয়েছে, কেউ তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই না।

গ্রামের রাস্তার পাশে অনেক লোকের মাঝে দুই হাতে লাঠিতে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে রজব আলী। অপলক চোখে চেয়ে আছে সে, কি যেন বলতে চায়। অনেক কষ্ট করে লাঠির উপর ভর করে রজব আলী এসে বললেন, বাবা তোরা এ্যানা মোর কথা শুনবেন। হারা (আমরা) অচল মানুষ। চলবার পারি না। কোন কাজও মোর দ্বারা হয় না। সংসারে ছোলপল (ছেলে-মেয়ে) নিয়ে খুবই কষ্টে আছু (আছি)। অনেক দিন ধরে মোর এই গতি। কত মানুষের গরত (কাছে) যাউ (যায়) কেউ কোন হেলপ (সাহায্য) করে না। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এযাবৎ এটা পঙ্গু ভাতার কার্ড বা কোন সাহায্য করে না।
অসহায়ত্ব রজব আলী বলতে বলতে কেঁদে ফেলল। ঘাঁড়ের গামছা দিয়ে চোখের পানি মুছে ফেলবে সেই শক্তিটুকু তার দেহে এখন নেই।

কথা হয় রজব আলীর বড় মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে। সে বলেন, গরীবের দুনিয়াতে কেউ নাই। আমার বাবা পঙ্গু মানুষ। অনেক দিন ধরে পরে আছে। দেশের কি কেউ নেই আমার পঙ্গু বাবাকে একটু সাহায্য করবে? করোনায় সরকার, চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ অনেকেই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে ছিলো, কিন্তু আমাদের কেউ ত্রাণ দেয়নি। খেয়ে না খেয়ে আমরা ভাই-বোন দিনাপাতি করছি। বাবা পঙ্গু মানুষ, সে তো কিছুই করতে পারে না। কত বার চেয়ারম্যান মেম্বাররা বাবার কাগজপাতি নিলো, কিন্তু এযাবৎ কোন কাজ হয়নি। ভিজিডি-ভিজিএফের কত চাল এলাকার মানুষ পাই, কই আমাদের তা দেওয়া হয় না।

গুমরা বাজারের গ্রাম্যডাক্তার এমদাদুল হক জানান, আমাদের এই গ্রামে রজব আলীর মতো অসহায় বা গরীব মানুষ আর কেউ নেই। সবার উচিৎ তাকে সাহায্য করা। তাকে দেখলে খুব মায়া লাগে। রজব আলীর পাশে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি।

এবিষয়ে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ৩ নং আলীহাট ইউনিয়নের ভারপ্রপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল রহিম বলেন, রজব আলীকে আমি চিনি, সে একজন অসহায় লোক। এবার সরকারী ভাবে প্রতিবন্ধি বা পঙ্গু ভাতার কার্ড আসলে তার জন্য আমি একটি ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করবো। তাছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সব ধরনের সহযোগীতা রজব আলী পাবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*