পত্রিকা এজেন্ট ও পথচারীকে কান ধরিয়ে তওবা করায় ইউপি সদস্যের শাস্তির দাবী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনদুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পেপার বিক্রেতা ও এজেন্ট সহ পথচারীদের কান ধরে তওবা করিয়েছে শফিকুল ইসলাম নামক ইউপি সদস্য। পার্বতীপুর উপজেলার ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়নের ৩ নং (শাহ্ পাড়া) ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য উপস্থিত জনতার সামনে কান ধরে তওবা করিয়ে আবার সেই ছবি তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নিজের কৃতিত্ব জাহির করেছেন, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল লকডাউনের প্রথম দিনে মধ্যপাড়া খনিজ শিল্পাঞ্চল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এদিকে পথচারী পত্রিকা বিক্রেতা ও এজেন্ট কে রাস্তায় কান ধরার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং ঐ মেম্বারকে দ্রত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবী উঠেছে। মধ্যপাড়া এলাকার সমাজ সচেতন ও শিক্ষানুরাগী মৌলভীর ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার এইচ আর হাবীব জানান, পত্রিকা এজেন্ট ও পথচারীদের কান ধরানোর ঘটনায় আমার তিরষ্কার জানানোর ভাষা নেই। শফিকুল মেম্বারের এমন দায়িত্ব হীন আচরন মনুষ্যত্ব বিবর্জিত ও মূর্খতার পরিচয় ছাড়া কিছু নয়।
পেপার এজেন্ট মো: মোন্নাফ আলী জানান, আমি মধ্যপাড়া খনিজ শিল্পাঞ্চল ও আনন্দ বাজার এলাকায় প্রায় এক যুগ সময় হতে নিয়মিত পত্রিকা সরবরাহ করছি। সেই সুবাধে এই অঞ্চলের খনির অফিসার, গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ, জন প্রতিনিধি, রাজনীতিবীদ সবাই পরিচিত। ঘটনার দিন আমি হোটেলে খাওয়া শেষ করে মুখ মুছতে মুছতে বের হতেই শফিকুল মেম্বার আমার পকেটে মাষ্ক থাকার পরেও জন সম্মুখে আমাকে কান ধরতে বাধ্য করেছে, আমি লোক সম্মুখে চরম অপমানিত হয়েছি। তিনি সেই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে আমার মান-সম্মান হরন করেছেন। আমি প্রসাশনের নিকট এর বিচার চাই। জোর করে কান ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শফিকুল মেম্বার দাবী করেন, থানায় না পাঠিয়ে শুধু কান ধরিয়ে ছেড়ে দিয়েছি তাতে কি হয়েছে? আমি ইউনিয়ন পরিষদের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছি। পত্রিকার এজেন্ড আব্দুল মোন্নাফ ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাইকেল চালিয়ে মধ্যপাড়া শিল্প এলাকায় মানুষের হাতে হাতে পত্রিকা পৌছে দেন। তাকে এই ন্যাকার জনক ঘটনার জন্য ইউপি সদস্যের শাস্তি হওয়া উচিত।
বিষয়টি ঐ দিনই মোন্নাফ আলী মধ্যপাড়া,পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের জানান। সচেতন মহল মনে করেন, নাগরিকদের অসম্মান করার অধিকার শফিকুল মেম্বার কে কে দিয়েছে? তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এ ঘটনায় পার্বতীপুর, ফুলবাড়ীর সাংবাদিক মহল সহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ নিন্দা ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*