পরিত্যক্ত পুকুর পাড়ে মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম : বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয় ও সহজলভ্য ফল হচ্ছে মাল্টা। এ ফলটি সারা বছর পাওয়া যায় এবং দামেও বেশ সস্তা। মাল্টাতে বিভিন্ন ভিটামিনসহ অনেক পুষ্টিগুন রয়েছে। পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও সমতল ভূমিতে মাল্টা ফলের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। বরেন্দ্র অঞ্চলের শস্য ভান্ডার খ্যাত দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলায় বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে বারি-১ জাতের মাল্টা। মাটির গুনাগুন ঠিক থাকলে সমতল এলাকাতেও মাল্টা চাষ করে লাভবান হতে পারেন এমনটি জানিয়েছেন ঘোড়াঘাট উপজেলার সফল মাল্টা চাষি কাজী আবু সায়াদ।

মাল্টা চাষ করে সফল হয়ে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী। তার বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা। বাগানে রয়েছে শতাধিক মাল্টা গাছ। শুধু তাই নয় মাল্টাসহ তার বাগানে সাথী ফসল হিসেবে লেবু গাছ, পেঁপে গাছ ও লিচু গাছ রয়েছে। কাজী আবু সায়াদের সফলতায় উদৃবুদ্ধ হয়ে এলাকার বেকার যুবকেরা ঝুঁকছেন মাল্টা বাগান  গড়ে তলার দিকে। কাজী আবু সায়াদ চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার পালশা ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামের পৈত্রিক দেড় একর পরিমান পরিত্যক্ত পুকুর পাড়ের পশ্চিম পার্শ্বে ২ বিঘা পরিমান জমিতে  মাল্টা (বারি-১) জাতের চারা রোপন করেন। প্রায় ২ বছরেই মাল্টা গাছে ফল ধরেছে। বাগানে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের মাল্টা। সবুজ পাতার আড়ালে কিংবা পাতা ঝরা ডালেও ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা।

সরেজমিনে সফল মাল্টা চাষি কাজী আবু সায়াদ চৌধূরী গনমাধ্যমকে জানান, প্রথম গাছে মাল্টা ধরার পর থেকে ফল চাষের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগে তার। এখন চলছে স্বপ্ন পুরনের পালা। স্থানীয় কৃষকরা এসব ফলমূল চাষে এগিয়ে এলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের চাহিদা মেটানো সম্ভব। ফলগুলো সুমিষ্ট হওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তিনি আরো জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে মাল্টা ফলন ভাল হয়েছে। প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হয় ১১০ থেকে ১৪০ টাকা দরে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এখলাস হোসেন বলেন, ঘোড়াঘাটসহ দিনাজপুর জেলায় ধান চাষের পাশা পাশি মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ধান উৎপাদনের চেয়ে মাল্টা চাষে ১০ গুন বেশি লাভবান হতে পারে এ অঞ্চলের কৃষক। তিনি আরো বলেন, ভূ-গভের অল্প পানি উত্তোলন করে কম খরচে ফলজ বাগান তৈরী করে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*