পরীক্ষা নিয়ে যা–ই হোক, পড়াশোনা চলুক

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম : চৌহালী সিরাজগঞ্জ জেলার প্রায় হারিয়ে যাওয়া এক উপজেলা চৌহালী নামের মধ্যেই তার বিপন্নতা লুকিয়ে আছে চার ফালি বা ফালি ফালি চর নিয়ে যমুনা নদীর বুকে বর্ষায় ডুবে থাকা আর শুকনায় জেগে ওঠা উপজেলায় এখন আর কোনো সরকারি পাকা দালান নেই যমুনা সেতু আর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে ওঠার পর বদলে গেছে চরের দৃশ্যপট

এখন কোনোমতে টিকে আছে চৌহালীর নাম। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস এখন যেন ছেঁড়া মেঘের মতো। এগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে টাঙ্গাইলের নাগরপুরের আশপাশে, যমুনা নদীসংলগ্ন এলাকায়। মানচিত্রের হিসাবে চৌহালী উপজেলার উত্তরে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, দক্ষিণে পাবনার বেড়া উপজেলা মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা, পূর্বে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা

চৌহালী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের চারটিই এখন নেই বললেই চলে সদিয়া চাঁদপুর, স্থল, ঘোড়জান, উমারপুর, খাষকাউলিয়া, খাষপুকুরিয়া, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের মধ্যে কোনটা কতটুকু আছে, কতটুকু নেই, সেটাও কেউ হলফ করে বলতে পারেন না সাতটি ইউনিয়নে নানা মাপের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ১৩৩টি পাঁচটি মাদ্রাসাসহ এগুলো সব সরকার অনুমোদিত প্রাথমিক বৃত্তির হকদার প্রতিষ্ঠান প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ ছেলেমেয়ে করোনা সংক্রমণের আগে এসব প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করত এবারের বন্যায় আর গত বছরের ভাঙনে প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান বরবাদ হয়ে গেছে এগুলোর ভাঙা টিন কাঠ স্তূপ করে রাখা আছে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো পানিকাদায় ভরা চেয়ার, টেবিল, বদনা, বেঞ্চ কিছুই নেই

খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের ১২৭ নম্বর চরধীতপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নথিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ২১৮, এর মধ্যে ১০৮ জন মেয়েশিশু। এখন কতজন আছে? কেউ জানে না। তাঁদের পুষ্টি নিয়ে সদ্য নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি খুবই চিন্তিত। লেখাপড়া নেই, স্কুল কখনো পানিবন্দী, কখনো কাদাবন্দী, কখনো নদীতে বিলীন। তাই বলে কিনে রাখা হাই প্রোটিন বিস্কুট গুদামে পড়ে থাকবে কেন? বিস্কুট বানানেওয়ালা আর বিস্কুট সরবরাহকারীরা ভুগবে কেন? দুই মাসের বিস্কুট একসঙ্গে বিতরণ করা হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া ১১১২ বছরের একজন শিশুর জন্য দুই মাসের বিস্কুট বহন করা হয়তো তেমন কষ্টের নয়। কিন্তু ছয় বছরের শিশুর জন্য সেটা একটা শক্ত বোঝা। কাদাপানি ভেঙে এক বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে সেই বোঝা নিয়ে বাড়ি পৌঁছাতে হিমশিম শিশুরা। এরপরও কথা আছে, এত বিস্কুট কোথায়, কীভাবে রাখলে তার গুণগত মান বজায় থাকবে? পরের দুই মাস ধরে এসব বিস্কুট তাজা রেখে এস্তেমাল করা যাবে? বেশির ভাগ বাড়িতেই এত বিস্কুট সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। আর যেসব পরিবারের তিন ভাইবোন স্কুলে যায়, তাদের তো রাখতে হবে ছয় মাসের বিস্কুট। আরশোলাইঁদুরদের হাত থেকে রক্ষা করার ঝঁক্কিও কম নয়

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*