পার্বতীপুরে করোনা আতংকের মাঝে খোলা আকাশের নীচে এক ছিন্নমুল পরিবার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সারাদেশের মানুষ যখন ভীত সন্ত্রস্ত, যখন খোদ প্রধানমন্ত্রী বাসা ভাড়া না দেয়ার কারণে কোন ভাড়াটিয়াকে হয়রানী না করার নির্দেশ দিয়েছেন, যখন ব্যাংক বীমা, বিদ্যুৎ বিভাগ ও এনজিওসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বকেয়া পাওনা আদায় স্থগিত করেছে ঠিক সেই মুহুর্তে বনবিভাগের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ এনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার মকছেদ আলী আশরাফ আলী নামে এক ছিন্নমূল পরিবারের বসতবাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের গুড়গুড়ী মাদ্রাসার ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার মকছেদ অলীর নেতৃত্বে বিট কর্মকর্তা ও বনবিভাগের মালি, প্রহরীসহ ১০/১২জন ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতিতে হাতুড়ি, শাবল ও লাঠিসোটা নিয়ে অসহায় আশরাফ আলী’র (৬০) বাড়িতে হামলা চালায়। তারা হাতুড়ি, শাবল দিয়ে টিনসেডের ২টি ঘরের পিলার ভেঙ্গে ফেলে ও ভাংচুর করে। এতে বাধা দিতে গেলে হামলাকারীদের মারপিটে আশরাফ আলীর স্ত্রী ঈশা বানু (৪৫), পুত্রবাধু লাবনী আক্তার (৩০) ও বোন রাবেয়া খাতুন (৫০) আহত হন। তাদেরকে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, এখন থেকে প্রায় দেড় যুগ আগে ২০০২ সালে আশরাফ আলী লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী দহগ্রাম ছিটমহল থেকে স্বপরিবারে পার্বতীপুরে আসেন। তিনি মধ্যপাড়ার গুড়গুড়ি মাদরাসার ডাঙ্গায় পার্বতীপুর মিঠাপুকুর সড়কের পাশে সড়ক ও জনপদ বিভাগের একখন্ড জমিতে বসতবাড়ি গড়ে তোলেন। সেখানে তিনি স্ত্রী, ছয় ছেলে ও পুত্রবধুসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে নিয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করে আসছিলেন। এখানে আসার পর অনেক কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে বাড়ির পাশের ৫০ শতক জমি (মৌজাঃ গুড়গুড়ি, দাগ নং-৭৯৫,৭৯৬, এসএ খতিয়ান ১২৫/১৩৪ সিএস-১২২) কেনেন দিনমজুর আশরাফ আলী। তার ছেলে ইউসুফ আলী ২০০৮ সালে দিনাজপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করে বেকার বসে না থেকে বছর খানেক আগে ওই জমিতে বিভিন্ন ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সব্জির চারার নার্সারি গড়ে তুলে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত বৃহস্পতিবার হামলাকারীরা বসতবাড়ি ছাড়াও নার্সারিতে ভাংচুর চালায়। এতে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দীন শাহ্ ও আন্তর্জাতিক আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) এর কেন্দ্রীয় পরিচালক এম এ মজিদ সরকার এবং যুগ্ম-সম্পাদক আফজাল মাস্টার । তারা অমানবিক এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দূর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, মধ্যপাড়ায় বনবিভাগের শত শত একর জমি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ ও চাষাবাদ করছেন ভূমি দস্যুরা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অসহায় এ পরিবারকে উচ্ছেদ ও হয়রানীর চেষ্টা করছেন ওই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার মকছেদ আলী বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*