পুরুষের পাশাপাশি হিলির আদিবাসী নারীরা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : আমার চক্ষে পুরুষ-রমণীর কোন ভেদাভেদ নাই।বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক নর।কবি কাজী নজরুল ইসলামের চিরন্তন সত্য বাণীতে বোঝা যায় নারী-পুরুষের কোন ভেদাভেদ নেই।তেমনি পুরুষের পাশাপাশি সমান ভাবে কাজ করতে দেখা গেছে দিনাজপুরের হিলির আদিবাসী নারীদের।

তীব্র শীত ঘনকুয়াশা আর রোদ বৃস্টি ঝড়কে উপেক্ষা করে তাদের এই সংগ্রামী পথ চলা।সংসার সন্তানের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে স্বামীকে সমান ভাবে সাহায্যে করছে তারা। চলতি বোরো মৌসুমে মাঠে চারা রোপন করতে দেখা যায় কয়েক জন আদিবাসী নারীদের।এক হাটু কাদার মধ্যে হাতে ধানের চারা নিয়ে রোপন করছে জমিতে তারা।

কথা হয় হিলি উদয়গীরি গ্রামের আদিবাসী নারী অঞ্জলী কুজুরের সাথে তিনি বলেন, আমার এক ছেলে দুই মেয়ে।সংসার সন্তানের চাহিদা মেটাতে তার দেওয়ানার (স্বামী) হিমশিম খাচ্ছে।তাই সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য মাঠেঘাটে কাজ করছি।সকাল আটটা থেকে বৈকাল পাঁচটা পর্যন্ত মানুষের জমিতে কাজ করছি।এক বেলা খাবার দিয়ে ২৫০ টাকা হাজরা দিচ্ছে গৃস্থ্য।কঠর পরিশ্রমের মাঝে শরীরে নেই কোন ক্লান্ত।চোখে মুখে শুধু মিস্টি হাসির সমাহার।

সেলিনা কুজুর বলেন,দেওয়ানা মোর এ্যানা কমজুরি।খাটপা কম পারে,ওমার কামে সংসার চলে না।তার এক ছেলে,সারাদিন পরিশ্রম করে যা পাই তাই দিয়ে তাদের মুখে অণ্য তুলে দেয়।

একজন বয়স্ক আদিবাসী নারী সেলিনা কিসপটা বললেন,এ্যলা কাম হামার কেচু মনে হয় না বাহে।ছোটতেই হারা সব কাজ করবার পারি।ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়েছে।তারা সবাই সবার মত আছে।হারা বুড়াবুড়ি মানুষের জমিতে আর বাড়িতে কামলা দিয়ে ভালই চলুছি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*