প্রকৃতিকে সাজাতে হিলির ডোবায় দুলছে পদ্মকলি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন, বিশেষ প্রতনিধি : গোবরেও ফুটে পদ্ম ফুল। নর্দমায় ফুটে নাম না জানা অনেক ফুল। আর প্রকৃতির মাঝে তারা ছড়িয়ে দেয় নিজেদের সৌন্দর্য্য। এমনি দৃশ্য চোখে পড়লো দিনাজপুরের হিলির সাতনি বাজারের রাস্তার পাশে ফেলে রাখা ডোবায় শত শত পদ্মকলি বাতাসে দুলছে। আর চলার পথে সৌন্দর্য্য পিপাসু পথচারীরা তা দেখে মুগ্ধ হচ্ছে।

হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের সাতনি বাজারের জামতলী নামক স্থানে ময়লা-আবর্জনায় ঢাকা একটি ডোবার পানিতে দুলছে শত শত পদ্মকলি। আর কয়েক দিনের মধ্যে এই কলিগুলো পরিপুণ্য ফুলে পরিণত হবে। সড়কটি দিয়ে যত বাস,ট্রাক, সিএনজি, অটোবাইক, ভ্যান-রিকশা এবং পথচারীরা যাতাযাত করে, তারা একবার হলেও এই ডোবায় দুলা পদ্মকলিগুলো অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে দেখে। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পদ্ম ফুলের  সৌন্দর্য্য উপভোগ করে। স্থানীয় কিছু কিশোরদের দেখা যায় বর্ষি দিয়ে ঐপদ্মডোবায় মাছ ধরতে। অনেকেই আবার হাত বারিয়ে কলি বা পদ্মফুল গুলো নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ফুল তো ফুল, তার তুলোনা সে নিজেই, মানুষের হাতে তা শোভা পায়না।

কলেজ পড়ুয়া কয়েক জন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা হয়, তারা বলেন, এখানেই আমাদের বাড়ি। এখন তো আমাদের কলেজ বন্ধ। এই পথধরে আমাদের প্রতিদিন কলেজে যেতে হয়। বিশেষ করে এই পদ্মডোবার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বার বার পদ্মফুল, কলি আর পাতা গুলো দেখতে থাকি। আবার কলেজ থেকে ফেরার সময় কিছু সময় হলেও এখানে ঘাসের ওপর বসি এবং পদ্ম ফুলগুলো চেয়ে চেয়ে দেখি।

কথা হয় এই ডোবায় বর্ষি দিয়ে মাছ ধরা কিশোর রবিনের সাথে কথা হয়, সে বলেন, প্রায় প্রতি দিনি এই স্থানে আমিসহ অনেকেই বর্ষি দিয়ে মাছ ধরে থাকি। আমরা কখনও পদ্ম ফুলের গাছগুলো নষ্ট করি না এবং কাউকে ফুল বা কলি ছিড়তে দেয় না। এই ডোবায় বহু প্রজাতির দেশি মাছ রয়েছে। পদ্মফুল, পাতা আর গাছের মাঝে লুকিয়ে থাকে সব ধরনের মাছ।

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন ভ্যান চালক রেজাউল করিমের সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতাযাত করি। যাওয়ার সময়ও এবং আসার সময় এই পদ্মফুল গুলো মন ভোরে দেখি।

ডোবাটির পার্শ্বে একটি স্কুল রয়েছে। স্কুলের সহকারী শিক্ষক শ্রী অজয় কুমার জানান, ফুল সৌন্দর্যের প্রতিক। চেনা অচেনা নানান জাতির ফুল ফোটে এবং সুবাস ছড়ায়, আর প্রকৃতিকে সাজায় অপরুপ সাজে। আমরা সময় স্কুলের ছেলে-মেয়েদের নির্দেশ দিয়ে আসছি, তারা যেন কখনও এই পদ্ম ফুল বা কলি না ছেড়ে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*