ফুলবাড়ীতে আশ্রয়ণে নিম্ন মানের কাজ,অনেক সাধের উপহারের ঘরে শঙ্কায় বসবাস

dav
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় উপকারভোগীদের বসবাস নিয়ে শঙ্কা আশংকার শেষ নেই। ভিত মজবুত না থাকায় সামান্য ঝড়েই ঘরগুলো উড়ে যাবার আংশকা থাকলেও অনেকেই বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে বসবাস করতে গিয়ে পড়েছে নতুন নতুন সমস্যায় । নেই রাস্তা,ঘরের মেঝে ফাঁটা,ওয়াল ফাঁটা,নেই জানালা কোথাও কোথাও ঘরগুলো দেবেও গেছে। এর আগে সামান্য ঝড়ে ভেঙে পড়ে আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুরের ‘জয়বাংলা পল্লীর’ বেশ কয়েকটি ঘরের বর্গা, ধসে পড়ে আধাপাকা বারান্দার পিলার। ওই ঘটনার পর থেকে ফুলবাড়ীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, বেশিরভাগ ঘরের নির্মাণ কাজে চুড়ান্ত অনিয়ম হয়েছে, ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। কোনো কোনো ঘরে ব্যবহার করা হয়েছে আগে ব্যবহৃত পুরনো ইট। ফলে বেশীরভাগ বাড়িই ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় নতুন করে কাজ করতে দেখা গেছে। অথচ প্রতিটি ঘর নির্মাণে যে বরাদ্দ তাতে বেশ ভালো মানের কাজ করা সম্ভব ছিল বলে দাবি তাদের। এদিকে বাইরের লোক দিয়ে কাজের তদারকি করানো হয়েছে বলে কাজে অনিয়ম হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন জয়বাংলা পল্লীর বেশীরভাগ বসবাসকারী । তবে প্রশাসনের দাবি,বাইরের কাউকে দিয়ে কাজ করানো হয়নি,যারা এসব কাজে পারদর্শী তাদেরকে দিয়েই কাজ করানো হয়েছে।
গত ১০জুলাই শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে ফুলবাড়ী উপজেলায় নির্মাণ হয়েছে সাড়ে ১হাজারের অধিক বাড়ি। নির্মাণের পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এর মধ্যে অনুসন্ধানে দেখা যায় উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুরে প্রথম ধাপের ঘরগুলো একেবারেই নিম্নমানের কাজ করায় উঠে গেছে বারান্দার প্লাসটার,ঘরের ওয়াল ফাঁটা নেই চলাচলের রাস্তা। ঘরে যারা বসবাস করছেন অনেকেই নিজ খরচেই রাস্তা তৈরী করছেন। বেশিরভাগ ঘরের কাজ নতুন করে করা হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় কাজ করা হয়েছে ‘চুক্তি ভিত্তিতে’। প্রশাসনের কোনো তদারকি ছাড়াই নির্মাণ শ্রমিকরা তাদের ইচ্ছে মতোই তৈরি করে দিয়েছেন বাড়িগুলো। অনেক এলাকার বাড়িগুলোতে যাওয়ার কোনো রাস্তাও নেই। এখনো বিদ্যুৎহীন বেশিরভাগ পল্লী। নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থাও।
জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রথম ধাপে ৭শত ৬৯টি ২য় পর্যায়ে ২শ ৩০টি এবং উপজেলা পর্যায়ের দুটিসহ মোট ১হাজার ১টি বাড়ির নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে নির্মিত বাড়িগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘জয় বাংলা পল্লী’। এই ধাপে ফুলবাড়ীতে ৭শ ৬৯টি বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বেশীরভাগ বসবাসকারী ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সেইসাথে ঝড়সহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের ভয়ে এখন ওসব বাড়িতে থাকতে চাচ্ছেননা অনেকেই।
ফুলবাড়ী উপজেলায় উপহারের ঘর পাওয়া আনজুআরা বেগম বলেন, ‘সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় ঘরের চালা উড়ে যায়। রাস্তা নেই,পায়খানার ওয়াল ফাঁটা,মেঝে ফাঁটা । একই কথা বলেন,মুন্সিটুডু,কুশলপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের মিনারা বেগমসহ একাধিক বসবাসকারী। তারা বলেন, এর আগে ‘সামান্য ঝড়ে ঘরের চাল সব উড়ায় নিয়ে গেছে। একেতো নিম্নমানের কাজ হয়েছে, তার উপর কোন কোন ঘরে জানালা নেই,নেই সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা। জমির মাঝখানে ঘরবাড়িগুলো হলেও মূল রাস্তা থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত তেমন কোন রাস্তা করা হয়নি।’
তবে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘরগুলোতে প্রথম পর্যায়ে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি হয়েছে,এখন সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারের ঘর ঝকঝকে চকচকে করে তবেই উপকারভোগীদের কাছে হস্তাহন্তর করছি। এরপরেও কোন সমস্যার অভিযোগ পেলেই তা সাথে সাথে সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সারাদেশ ব্যাপি গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও ২য় পর্যায়ে নির্মিতব্য/নির্মিত একক গৃহসমূহের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানাসহ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উপ-প্রকল্প প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন ও ইসলাম মনিটরিং অফিসার গোলাম মবিন মোঃ মাহতাবুল ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*