বাংলায় একটি প্রবাদ আছে- হুজুগে বাঙালি : নাসিম আনোয়ার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম (ফিচার) : বাংলায় একটি প্রবাদ আছে- হুজুগে বাঙালি। কিছু না বুঝেই ধর-ধর, মার-মার! কি অসভ্য আমরা।কতটা বর্বর, হিংস্র! বিনা অপরাধে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলি! আবার তা বেহায়ার মতো ভুলে যাই, পিছু ফিরে দেখি না। বুঝতেও চাই না, শুনতেও চাই না।নিজের কোনো কাজ সহজে করতে চাই না। বসে থাকি অপর কিংবা সরকারের অপেক্ষায়। সরকার আামাদের খাওয়াই দেবে, গোসল করিয়ে দেবে, সাজিয়ে পরিয়ে দেবে। আজকের এই ছুটিতে আপনাকে সরকারের পেটুয়া বাহিনী কেনো পিটিয়ে ঘরে তুলবে। আপনি আমি কি গাধা? আপনি কিছু বোঝেন না? আপনি কি শিশু? ফিডার চোষেন?
করোনা যখন মহামারি আকার ধারণ করবে, লাশের মিছিল শুরু হলে, এই বাঙালি আতঙ্কিত হয়ে সরকারকে গালমন্দ করবেন। কেন আমরা এতো হুজুগি সাবধানতা অবলম্বন করতে পারি না কেন? আমরা ভুলে গেছি। ভুলে যাই পিছনের কথা। আমাদের কোনোই ফলোআপ থাকে না। এই দেশে কতো ভয়ংকর, নির্মম, নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটলে কয়েকদিন মিছিল মিটিং, দেশ কাপানো আন্দোলন এরপর বিভাগীয় তদন্ত। তারপর ধামাচাপা পরে যায়। সাংবাদিক! এখন হয়ে গেছে প্রায় ধান্দাবাজ – আদর্শহীন। সত্যকে সত্য বলার সাহস কারোরই নেই প্রায় সবাই করে তেল মালিস।
ভুলে গেছেন ঢাকার বাড্ডায় গণপিটুনির কথা! কি নির্মম ভাবে তাসলিমা বেগম রেণু কে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করেছিলেন!! হতভাগী রেণুর সংসার সন্তানের খবর নিয়েছিলেন।
২০০৪ সালে ২১ শে আগস্টের কথা ভুলে গেছেন? যারা সেদিন মরেও বেঁচে আছেন তাদের তো আর খবর নিলেন না!!
কক্সবাজারের সুজন বড়ুয়া, পুড়ান ঢাকার বিশ্বজিৎ কে নির্মম নির্দয় ভাবে কুপিয়ে মারলেন, তাদের পরিবারটা এখন কিভাবে চলছে? সারাদেশে এমন অসংখ্য নিষ্ঠুরতার ঘটনা আছে, আমরা কেউ তাদের খবর রাখি না।
আমি যখন ইত্তেফাক পত্রিকায় সাব-এডিটর পদে কর্মরত ছিলাম, তখন বার্তা কক্ষে প্রতিদিনই সহকর্মী সাগরের সাথে কথা হতো। আজও তার মুখটা আমার হৃদয়ে ভেসে ওঠে। সাগর-রুনি দম্পত্তির কথা আমরা তো প্রায় ভুলেই গেছি। এভাবেই ভুলে যাই আমরা পেছনের সব কথা।
করোনা সংক্রামন শুধু বাংলাদেশেই নয়, এটা এখন আন্তর্জাতিক সমস্যা। সমগ্র পৃথিবীতে এই ঘাতক ছড়িয়ে পরেছে। আমি মনে করি আমাদের এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আল্লাহু রাব্বুল আলামীনই আমাদের সাথে আছেন। সরকার এ সময়ে সাধ্যমত যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। তবে আমরা আদও সচেতন নই। পরিষ্কার – পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। ইসলাম ধর্ম একটি পরিকল্পিত বিজ্ঞান। আমরা তো আমাদের ধর্মীয় বিধানকেই মানি না। মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়লেই পাক্কা মুসুল্লি হয়ে যাই। সৌদি আরব সহ অন্যান্য ইসলামি দেশ গুলোতে বর্তমান পরিস্থিতিতে মসজিদে প্রবেশ নিষেধ। অথচ বাংলাদেশে এমন নিষেধাজ্ঞা নেই।

বাংলাদেশ সরকার কেন ছুটি ঘোষণা করেছে, তাও অামরা বুজতে চাই না। গাধার মতো আমাদের পিটিয়ে ঘরে তুলতে হচ্ছে।
ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(who) সহ আমাদের বাংলাদেশ সরকার বিগত দিনে বিভিন্ন সাস্থ্য সচেতন বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে আসছে।এমন কি জনস্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য গত প্রায় দুই যুগ আগেও জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে মিনা কার্টুন প্রচার করে সাবান দিয়ে হাত পরিস্কারের কথা তুলে ধরে আসছিল। আমরা আজও সচেতন হইনি। এখনও আমাদের এসব বাধ্যতামূলক করতে হচ্ছে।
আমরা তো হতদরিদ্র। ধনী দেশ গুলো করোনা থেকে মুক্তি পাচ্ছেনা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতালি, আমেরিকা প্রায় মৃত্যুপুরী, অথচ আমরা এখনও সচেতন হতে পারছি না। সচেতনতা কোনোই বিকল্প নেই। পৃথিবীতে যুগে যুগে অসংখ্য সংক্রামক ভাইরাস মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে প্রতিশোধকও আবিষ্কার হয়েছে। বিশ্বে ১৩৪৬-৫০ থেকে ১৮৯৬ শাল পর্যন্ত প্লেগ রোগ কয়েক লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। ১৬ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দীতে গুটি বসন্ত প্রায় ৫০ কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। ১৮শ সাল থেকে শুরু করে বিশ্বে কলেরায় প্রায় ৪ কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে টিবি বা যক্ষায় কয়েক কোটি, ইবোলা, ইনফ্লুয়েন্ঞ্জা, এইচআইভি/এইডস কোটি কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
করোনার ভয়াবহতা ক্রমেই বিশ্বকে গ্রাস করছে। আমরাও এই মরণ অদৃ্শ্য ঘাতক থেকে মুক্তি পাচ্ছি না। আশাকরি শীঘ্রই এর প্রতিশোধক বেরুবে। আমাদের যথাসাধ্য এই ঘাতক কে প্রতিরোধ করতে হবে। আমরা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হই। সরকারি নীতি মেনে চলি, করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করি।।।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*