বিরামপুরে চলছে লিচুভাঙ্গা উৎসব

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি– মধু মাস-জৈষ্ঠ্যে পাকা শুরু হয়েছে রসে ভরা টসটসে রোমান্টিক ফল লিচু। বিরামপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে চলছে লিচু ভাঙ্গার উৎসব।

খাদ্য শষ্য ভান্ডার খ্যাত ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাগুলোতে অসংখ্য লিচু বাগান গড়ে উঠেছে। লিচু গ্রাম হিসাবে পরিচিত পেয়েছে এসব এলাকা। এলাকার কাঁচা- পাকা সড়কের দুপাশ দিয়ে বাগানগুলোতে লাল টুকটুকে রসালো লিচু থোকায় থোকায় ঝুলছে ডালে ডালে। পাখি বাঁদুড় তাড়ানোর জন্য ফঁটাস্ ফঁটাস্ শব্দ করা হচ্ছে মাঝে মাঝে। পাহারা দেয়ার জন্য লিচু বাগানগুলোতে জাল দেয়া হয়েছে। প্রতিবছর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিক্রয়ের জন্য এসব লিচু সরবরাহ করা হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাট- বাজারে। গাছ মালীকেরাসহ গাছ থেকে সকাল- বিকালে লিচু ভাঙ্গায় ব্যস্ত ব্যাপারীরা। উপর থেকে পেড়ে গাছের লিচু নামানো হচ্ছে। গাছের নীচে গোল হয়ে বসে নারী- পুরুষ শ্রমিক ঝোপার পাতা-ডাল ভাঙ্গছে। গুনে গুনে ১০০ লিচুর ঝুটি বাঁধছে। ব্যাপারিরা সে লিচু বিশাল বিশাল ঝাপিতে সাজাচ্ছে সুন্দর করে।

এবার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে এই এলাকায় লিচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লিচুর বাজারজাত ও ক্রেতা/পাইকার পাওয়া নিয়ে ভীষণ আশঙ্কায় আছেন বাগান মালিকরা।

শিমুলতলীতে এই লিচু বাগানটির মালিক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্রী নবদ্বীপ চন্দ্র বর্মণ বলেন,“আগের যুগে রসে ভরপুর স্বাদের এই লিচু ফল সৌখিনতা ও সৌন্দর্য হিসেবে ব্যবহার হত । প্রায় ১৯৮০ খ্রীষ্টাব্দের দিক এলাকায় প্রথম আমরাই লিচু চাষ করি যা ১০-১২ হাত পরপর একটি করে চারারোপণ করি, বলতে গেলে তৎকালীন উন্নত মানের লোকেরাই এ লিচু চাষ করতে পারতো।১৯৮৫ খ্রীষ্টাব্দে সবার নিকট সরবরাহ করার উপযোগী করে তুলি ।সে সময় এলাকা ছিল বিরাট ঘন জঙ্গলে গহীণ অরণ্য । জঙ্গল কেটে সময়ের ক্রমবিকাশে আধুনিক সভ্যতার গতিময় জীবনধারায় বর্তমানে এখানে পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ গাছপালায় রূপান্তরিত হচ্ছে । আমি নিজ হাতে জঙ্গল কেটে লিচু চাষ শুরু করি ও লিচু চাষে একটা অপার সম্ভাবনা অনুভব করি। লাল মাটির সেই অনুর্বর জমিকে কার্যকরি করে বিশাল অঞ্চলে দেশবাসীর রসানোর তৃপ্তি যোগানো এই ফল চাষ করার উদ্যোগ গ্রহন করি । সে সময় লিচু খেতে ও দেখতে দর্শণার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হত শিমুলতলীর লিচু বাগান। মাত্র ১০-১৫ বছর থেকে অনেকেই অনুকরণ করে বাড়ি বাড়ি লিচুর বাগান তৈরির এখন ধুম পড়েছে।অনেকেই এই বাগান দেখে লিচু চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরামর্শ ও শিক্ষা নিয়ে লিচু চাষ শুরু করে সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা এনে স্বাবলম্বী হয়েছেন । বদলে গেছে তাদের ভাগ্যের চাকা। বর্তমানে এখানে চায়না-২, চায়না-৩, মাদ্রাজি ও বোম্বে জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। জৈষ্ঠ্য মাসের ১০,১২ তারিখে লিচুর পরিপূর্ণ গাঢ় লালটে রং ধারন করে আর তখনই লিচু খাওয়ার মিষ্টতা চলে আসে। অনেক সময় আবহাওয়ার তারতম্যের কারনে সময় পরিবর্তন হয়”।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধিকে বলেন, “লিচু চাষ লাভজনক বলে প্রতি বছরই বাগান বাড়ছে এলাকায়। এলাকা গুলোতে ফল বাগান সৃজনের বিপুল সম্ভবনা আমরা দেখছি। কৃষকরাও ফসলের চেয়ে ফলের দিকে ঝুঁকছে। বিরামপুর উপজেলায় এবার ১০০ হেক্টর জুড়ে লিচু এবার চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের নানারকম পরামর্শ দিয়ে থাকি”।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*