বিরামপুরে জয়িতা অন্বেষণে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী নাফছুন

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি- দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পৌরশহরের চকপাড়ার প্রফেসরপাড়া মহল্লার অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী নাফছুন আরা পারভীন। তাঁর এক ছেলে সন্তান। স্বামী মোঃ রেজাউল করিম।

বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে ৯ ডিসেম্বর বুধবার বিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদানের মাধ্যমে তাকে ‘অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরীতে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী নাফছুন আরা পারভীন জানান, তাঁর জন্ম ১৯৮২ সালে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি ২০১০ সালে বিরামপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএসএস পাশ করেন, বর্তমান বয়স ৩৮ বছর। তিনি একজন সমাজসেবী ২০০১ সালে বিরমাপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে বুটিকের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে যাত্রা শুরু করেন।

২০০৪ সালে এইচএসসি পাশ করেন ভর্তি হন কলেজে পরে বেসরকারী মেহেক নারী উন্নয়ন সংস্থা থেকে ক্রিষ্টাল শোপিচ এর প্রশিক্ষণ নেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এখন তাঁর কারখানায় শো-পিচ, ব্যাগ, টব, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, ফলমূল রাখার ঝুড়ি প্রভৃতি তৈরি ও বাজারজাত করা হয় এবং তিনি বিভিন্ন নারীদের ক্রিষ্টাল শোপিচ বানানোর প্রশিক্ষণ ও দিয়ে থাকেন।

২০০৬ সালে বেসরকারী সংস্থা আরডিআএস বাংলাদেশ নারী উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ শুরু করেন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিধাবা বৃদ্ধা মহিলাদের সরকারী সেবা সমূহের বিভিন্ন তথ্য সরবাহ করেন যৌতুক প্রথা বতিল, জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সচেতনতা বৃদ্ধি করেন। ২০০৮ সালে তিনি বিবাহ করেন। ২০০৯ সালে ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিরামপুর এডিপিতে যোগদান করেন পরে তিনি ঠাকুরগাও, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাটে কাজ করেন। তিনি ওয়া ওয়াল্ড ভিশন থেকে শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১০-১৭ সাল পর্যন্ত শিশুদের নাঁচগান শেখাতেন।

বিরামপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে ৮ শ টাকা দিয়ে দুটি প্রাইড শাড়ি কেনেন একটি দিয়ে তিনি দুটি ওড়না তৈরি করেন। এভাবে তিনি দুটি শাড়ি দিয়ে চার টি ওড়না তৈরি করেন এগুলো বাজারজাত করার পর লাভ হয় ২শ টাকা তিনি এভাবে আলোর মুখ দেখতে থাকেন।

এরপর তিনি ১০ টি প্রাইড শাড়ি কিনে ২০ টি ওড়না বানিয়ে বাজারজাত করার পর প্রাইডরুম থেকে ৫০ পিচ শাড়ি পাইকারী দরে ক্রয় করেন তার থেকে দৈনিক ২ শ থেকে ৩ শ পিচ ওড়নার ওর্ডার পান এভাবে তাঁর ব্যবসা বাড়তে থাকে। এই বুটিক কাজে তাঁর কারখানায় ২শ অসহায় নারী কর্মীদের সংসার চলে। তাঁর পুজি ৮ শ টাকা থেকে আজ ২ লক্ষ টাকায় দাঁড়িয়েছে সে এখন সমাজের অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*