বিরামপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ির দরজায় ওসি মনিরুজ্জামান এবং ২৩ জন পুলিশ : অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসার আহবান

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার : ‘ভাই, আপনি একটু বাহিরে আসবেন? আমরা আপনার জন্য “আলো” নিয়ে অপেক্ষা করছি। ‘ এমন সুন্দর করে ডেকে বাড়ির দরজার সামনে অপেক্ষা করছেন ওসি মনিরুজ্জামান এবং ২৩ জন পুলিশের একটি বিশেষ দল।

সকলের চোখেমুখে আশা’র আভা। বাড়ি থেকে মাথানিচু করে এক যুবক বেরিয়ে এলেন। ভয় ও লজ্জায় তিনি মাথা তুলতে পারছেন না। ওসি মো. মনিরুজ্জামান যুবককে সান্তনা দিলেন, ভয় নেই, আমরা আপনাকে মাদকের মত অন্ধকার জগত থেকে আলো’র পথে ফিরে আসতে অনুরোধ করছি। পরিবারপরিজন নিয়ে সুস্থ্য জীবনযাপন করুন। আপনার পরিবার ও আপনার সমাজকে সুন্দর রাখুন।

এমন ব্যতিক্রমী একটি দৃশ্য দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী দাউদপুর গ্রামের। পুলিশের এমন এমন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানান এলাকার সচেতনমহল।

বুধবার বিকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত বিরামপুর থানা পুলিশের একটি দল স্থানীয়দেরকে সাথে নিয়ে ওই গ্রামে সব মাদকব্যবসায়ীদের বাড়িবাড়ি গিয়ে এসব সচেতনতার কথা বলেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও মাদকব্যবসা ছেড়ে দিতে ও মাদকের সাথে সম্পৃক্ত না থাকতে আহ্বান জানান।

গোপনসূত্রে জানা যায়, কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের গোবিন্দপুরে ৩৪ জন, জোলাপাড়ায় ২৬ জন, কাজীপাড়ায় ২৩ জন, চণ্ডিপুরে ৮ জন, পশ্চিমপাড়ায় ৩ জন, বেপারীপাড়ায় ১৪ জন ও মোল্লাপাড়ায় ১৯ জন মাদকব্যবসায়ী রয়েছে। যারা ভারত সীমান্ত থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে আসা নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল, গাজা, ইয়াবা ও নেশার ইনজেকশন জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন।

দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মহাসিন কাজী বলেন, মাদকব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের জন্য আমাদের গ্রামের পরিবেশ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যগ্রামে গিয়ে নিজের গ্রামের নাম বলতেও লজ্জা লাগে। পুলিশ এমন উদ্যোগ নেয়ায় আমরা গ্রামবাসী খুব খুশি হয়েছি। তবে, দুদিন পর পুলিশের এ উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন যেন মুখথুবড়ে না পড়ে।

এ বিষয়ে বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কাটলা ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে আমরা এলাকার চিহৃিত মাদকব্যবসায়ীদের বাড়িবাড়ি গিয়ে তাদেরকে মাদকব্যবসা ছেড়ে দিতে আহ্বান করছি। আগামী আরো দুইদিন তাদেরকে মাদক ছাড়তে আহ্বান করব। যদি তারা এরপরও মাদকব্যবসা ছেড়ে না দেন বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণসহ অভিযোগ আসে তাহলে তাদেরকে আর কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।’

ওসি আরো বলেন, কাটলা ইউনিয়ন মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকব্যবসার সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*