বিরামপুর মুক্ত দিবস পালন

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরামপুরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা কমান্ড এর সহযোগিতায় ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা (ঘাটপাড়) কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিরামপুর মুক্ত দিবস পালনের লক্ষ্যে    জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র‌্যালী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বিরামপুর প্রেসক্লাব এর আহবায়ক  একেএম শাহজাহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, বিরামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শিশির কুমার , প্রবীণ রাজনীতিবিদ আব্দুল আজিজ সরকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম মন্ডল, দিনাজপুর সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি আকরাম হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাক মাস্টার, ইনতিয়াজ আহমেদ কামাল, আব্দুর রহমান, চেঙ্গিস খানসহ অন্যান্য বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নিউজ ডায়েরী বিডি ডটকমের এর প্রকাশক ও সম্পাদক মাহমুদুল হক মানিক।

জানা যায়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রয়েছে গৌরবগাঁথা ইতিহাস। জানা যায়, এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা বিরামপুরকে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ঘোড়াঘাট রেলগুমটি, কেটরা শালবাগান, ভেলারপাড় ব্রীজ, ডাকবাংলা ও পূর্বজগন্নাথপুর মামুনাবাদে বাঙ্কার বসিয়ে সতর্ক অবস্থায় থাকতেন।

পাকসেনারা ৪ ডিসেম্বর পাইলট স্কুলের সন্মুখে ও ঘাটপাড় ব্রিজে প্রচন্ড শেলিং করে ভাইগড় গ্রাম দিয়ে তীরমনিতে ৪ টি শেল নিক্ষেপ করে। দেশ ও স্বাধিকারের জন্য এলাকার দামাল ছেলেরা যৌবনের দুরন্ত সময়ে দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিঁয়ে পড়ে শত্রুদের কবল থেকে বিরামপুরকে মুক্ত করে।

আরো জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে ৭নং সেক্টরের মেজর নাজমুল হূদা ও মেজর নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভারতের কালিয়াগঞ্জ তরঙ্গপুর ক্যাম্পে দেশ মাতৃকার টানে ২৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ।

যুদ্ধে অত্র উপজেলায় ২০জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন । পঙ্গু হন ০২জন, এবং যুদ্ধে মারাত্মক ভাবে আহত হন ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা ।

উল্লেখ্য যে, কেটরাহাটে লোমহর্ষক ও সন্মুখ যুদ্ধে ৭জন পাকসেনা এবং ১৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর ৬ ডিসেম্বর বিরামপুর শত্রু মুক্ত করে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং স্বাধীন বাংলার আকাশে উড়ে বিজয়ের লাল সবুজ পতাকা।

 

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*