বিরামপুরে মৃত ব্যাক্তির নামে ইউপি সদস্য ভিজিডির চাল উত্তোলন

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আজহার ইমাম:  দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নে ইউপি সদস্য মৃত ব্যাক্তির নামের কার্ড দিয়ে সরকারের ভিজিডি কর্মসূচির জন্য উপকারভোগী মহিলাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। কার্ডের মালিক মারা গেলেও তার নামে বরাদ্দ কার্ডে কয়েক দফায় চাল তুলে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বলরামপুর গ্রামের মৃত্যু রুনা লায়লার ৭১নং কার্ডের বরাদ্দকৃত প্রায় ছয় মাস ধরে উত্তোলন করছেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লৎফর রহমান । মৃত রুনা লায়লা ওই গ্রামের আজমল হোসেনের স্ত্রী।
ওই কার্ডধারী মৃত রুনা লায়লার স্বামী আজমল হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী রুনা লায়লা প্রায় ছয় মাস আগে মারা যান। রুনা লায়লা মৃত্যুর পরে তার নামের কার্ডটি স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান নিয়ে যান। সেই থেকে আমার স্ত্রীর নামে বরাদ্দকৃত কার্ডের চাল ওই ইউপি সদস্য উত্তোলন করে আসছিল।
ওই ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার তার ছেলের নামে ( ফিরোজ, কার্ড নং-১০৮৮) ও মেয়ের নামে (মে লিজা পারভিন, কার্ড নং-১৯৬) বানিয়েও সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মস‚চির ১০ টাকা কেজির চাল উত্তোলন করে। শুধু চালই নয় তার মেয়ে লিজা পারভিন ২নং কার্ডে মাতৃত্বকালীন ভাতাও উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ তার মেয়ের পার্শ্ববর্তী উপজেলা নবাবগঞ্জে বিয়ে হয়েছে এবং তিনি সেখানেই স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় সরকারি খাদ্যবান্ধব ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির জন্য খানপুর ইউপিতে দুইটি ডিলার রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন ডিলার মোস্তাফিজুর রহমান (দুলাল) এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা ডিলার হিসেবে আমাদের এতো কিছু যাচাই বাছাই করার সুযোগ থাকেনা।কার্ড থাকলে আমরা চাল দিয়ে দেয়। তালিকায় তাদের নাম আছে।

দিনাজপুর জেলা মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালক মোর্শেদ খান জানান,মৃত ব্যাক্তির নামে চাল উত্তোলন একটি অপরাধ। যদি এরকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে মৃত ব্যক্তির নামের কার্ড বাতিল করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউপি সদস্য এবং খানপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, আমি ওই কার্ড নেইনি । রুনা লায়লা মারা যাবার পর এই গ্রামের একজন গরীব লোক কে দেওয়া হয়ছে এবং সে এই চাল উত্তোলন করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*