বিরামপুরে রসে টসটস সুমিষ্ট লিচু

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি : জৈষ্ঠ্যের মধুমাসের হাওয়াই বিরামপুরে দুলতে থাকে রসগোল্লার মত রসালো সুস্বাদু মিষ্টি লাল লাল টসটসে বাহারি ফল লিচু।

এ অঞ্চলে সুস্বাদু আমের জন্য যেমন বিখ্যাত তেমনি আর এক ফল লিচু। এছাড়াও আম, জাম, কাঁঠাল তো আছেই। গ্রীষ্মকালীন ফলের মহাসমারোহের মধ্যে লিচু একটি জনপ্রিয় ফল। লিচুর স্বাদ যেমন সুমিষ্ট তেমনি সুগন্ধি। বহু প্রতীক্ষিত সাধের ফল এই লিচু, তবে হরেক গুনেরও। রসে ভরপুর বিরামপুরের এই লিচু হলো সবচেয়ে রোমান্টিক ফল।

খাদ্য শষ্যের ভান্ডার খ্যাত ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার লিচু মানে অন্যরকম স্বাদ। বিরামপুরে যেসব জাতের লিচু পাওয়া যায় সেগুলো হলো: দেশী, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-৩, বেদানা লিচু প্রভৃতি।

এবার বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে এই এলাকায় লিচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লিচুর বাজারজাত ও ক্রেতা/পাইকার পাওয়া নিয়ে ভীষণ আশঙ্কায় ছিলেন বাগান মালিকরা।

যদিও হালকা পোকামাকড়ের আক্রমন তারপরেও চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রতিদিন এই এলাকার লিচু সারাদেশে কেনা- বেচা হয়। বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে বাড়ির আঙিনায় লিচু বাগান করেছেন অনেকে। এতে করে এই এলাকার লিচু চাষীরা স্বচ্ছলতায় জীবন যাপন করছে। লিচু গাছ থেকে নামানোর পর বাজারজাত করার জন্য বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে জড়িয়ে পড়েন। বছরের জৈষ্ঠ্যমাসে লিচু চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করেন। মিষ্টি এবং রসালো হওয়ার জন্য বিরামপুরের লিচুর সুনাম পুরো উত্তরাঞ্চলে।

শিমুলতলীর লিচু বাগান মালিক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্রী নবদ্বীপ চন্দ্র বর্মণ বলেন, “আগের যুগে রসে ভরপুর স্বাদের এই লিচু ফল সৌখিনতা ও সৌন্দর্য হিসেবে ব্যবহার হত। প্রায় ১৯৮০ খ্রীষ্টাব্দের দিক এলাকায় প্রথম আমরাই লিচু চাষ করি যা ১০-১২ হাত পরপর একটি করে চারারোপণ করি, বলতে গেলে তৎকালীন উন্নত মানের লোকেরাই এ লিচু চাষ করতে পারতো। ১৯৮৫ খ্রীষ্টাব্দে সবার নিকট সরবরাহ করার উপযোগী করে তুলি। সে সময় এলাকা ছিল বিরাট ঘন জঙ্গলে গহীণ অরণ্য। জঙ্গল কেটে সময়ের ক্রমবিকাশে আধুনিক সভ্যতার গতিময় জীবনধারায় বর্তমানে এখানে পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনদ গাছপালায় রূপান্তরিত হচ্ছে”।

তিনি আরও বলেন, “আমি নিজ হাতে জঙ্গল কেটে লিচু চাষ শুরু করি ও লিচু চাষে একটা অপার সম্ভাবনা অনুভব করি। লাল মাটির সেই অনুর্বর জমিকে কার্যকরি করে বিশাল অঞ্চলে দেশবাসীর রসানোর তৃপ্তি যোগানো এই ফল চাষ করার উদ্যোগ গ্রহন করি । সে সময় লিচু খেতে ও দেখতে দর্শণার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হত শিমুলতলীর লিচু বাগান। মাত্র ১০-১৫ বছর থেকে অনেকেই অনুকরণ করে বাড়ি বাড়ি লিচুর বাগান তৈরির এখন ধুম পড়েছে। অনেকেই এই বাগান দেখে লিচু চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরামর্শ ও শিক্ষা নিয়ে লিচু চাষ শুরু করে সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা এনে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বদলে গেছে তাদের ভাগ্যের চাকা। বর্তমানে এখানে চায়না-২, চায়না-৩, মাদ্রাজি ও বোম্বে জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। জৈষ্ঠ্য মাসের ১০,১২ তারিখে লিচুর পরিপূর্ণ গাঢ় লালটে রং ধারন করে আর তখনই লিচু খাওয়ার মিষ্টতা চলে আসে। অনেক সময় আবহাওয়ার তারতম্যের কারনে সময় পরিবর্তন হয়”।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম এর বিশেষ প্রতিনিধিকে বলেন, “লিচু চাষ লাভজনক বলে প্রতি বছরই বাগান বাড়ছে এলাকায়। এলাকা গুলোতে ফল বাগান সৃজনের বিপুল সম্ভবনা আমরা দেখছি। কৃষকরাও ফসলের চেয়ে ফলের দিকে ঝুঁকছে। বিরামপুর উপজেলায় এবার ১০০ হেক্টর জুড়ে লিচু এবার চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের নানারকম পরামর্শ দিয়ে থাকি”।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*