বিরামপুরে লকডাউন করা তফসী গ্রামে ভূতুড়ে পরিবেশ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি– বুধবার দুপুর ১টা। সীমান্তবর্তী এক গ্রামের প্রবেশপথে শুনশান নীরবতা।  হঠাৎ দেখা যাচ্ছে দু-একজন গৃহস্থালি কাজে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। কাজ শেষে ঘরে ঢুকে পড়ছেন দ্রুতই। সামনে এগুতেই দেখা গেল, বাঁশেরবেড়া দিয়ে পুরো রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। বেড়ার সাথে দুটি ‘লাল পতাকা’ টাঙানো। আব্দুল জলিল মিন্টু ও নীরেন চন্দ্র বর্মন নামে দুই গ্রামপুলিশের সতর্ক পাহারা। তাদের একজন বাঁশিতে ফুঁ দিয়েই বললেন, ‘এদিকে যাওয়া নিষেধ’।

দৃশ্যটি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী তপসি গ্রামের। গত সোমবার এ গ্রামে ৩২ বয়সের এক ব্যক্তি করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে মারা যান। সেদিন থেকে বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন লকডাউন করে দেয় তপসি গ্রাম। সেইসঙ্গে তপসি ও আঁচলকোল গ্রামের ১০টিসহ মোট ৮৫টি বাড়ির সব মানুষকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই থেকে পাল্টে গেছে ওই গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনযাপন চিত্র। দূর থেকে দেখা গেল, অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির সামনেও বের হচ্ছেন না।

মৃত ঐ ব্যক্তির বাড়ির দরজা অনেকক্ষণ ধরে বন্ধ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও খাদ্যদ্রবের দরকার হলে পাশের আঁচলকোল গ্রামের আত্মীয়স্বজনকে মোবাইলে কল দিয়ে তাদের সহযোগিতা নিচ্ছেন। আর সেগুলো ওই প্রবেশপথের বেড়ার উভয়দিকে নিরাপদ দূরত্ব রেখে লেনদেন হচ্ছে। অনেকসময় গ্রামপুলিশের সদস্যরাও তাদেরকে বাজার থেকে কোনোকিছু কিনে দিতে সহযোগিতা করছেন।

এমনই দু’জনকে সেখানে বাজারখরচ লেনদেন করতে দেখা গেল। আঁচলকোল গ্রামের বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বাজারভর্তি দুটি ব্যাগ বেড়ার উপর দিয়ে তপসি গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমানের হাতে তুলে দিচ্ছেন। ব্যাগ হাতে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে গেলে বাড়ির দিকে।

এ বিষয়ে কথা হল সেখানে দায়িত্বরত ৬ নং জোতবানী ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ আব্দুল জলিল মিন্টুর সাথে। তিনি জানান, ‘করোনা সন্দেহে এ গ্রামে একজন মারা যাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এখানকার বাসিন্দাদের কঠোর নজরদারীতে রাখা হয়েছে। করোনা সতর্কতায় এ গ্রামের ৮৫টি বাড়ির কোনো মানুষকে গ্রাম থেকে বের হতে এবং অন্যগ্রামের কাউকে এখানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।’

তপসি গ্রামের বাসিন্দা মো. নবিরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, ‘করোনা সতর্কতায় গ্রামের মানুষকে বাড়ির বাহিরে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা খেটেখাওয়া মানুষরা খুব সমস্যায় পড়েছি। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে বাহিরে যেতে পারছি না।’ তিনি আক্ষেপ করে বললেন, মৃত ব্যক্তির বাড়ি থেকে আমার বাড়ি অনেকদূরে তবুও কেন আমাদেরকে এভাবে বন্দি করে রেখেছে?

তপসি গ্রামের পাশে আঁচলকোল গ্রামের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘করোনা সন্দেহে মৃত্যুর ঘটনায় তপসি গ্রামসংলগ্ন দক্ষিণে ভারত সীমান্তের কৈকুড়ি ও পশ্চিমে কুমারগাঁও গ্রামে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার সন্ধায় মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মাইকিং করে বলা হয়েছে, কেউ যদি এ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তবে তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।’

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে ঐ ব্যক্তি মৃত্যুর পর তপসি গ্রামের মানুষকে ও তার চিকিৎসাসেবা দেয়া তিনজন ডাক্তারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*