‘বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক’ আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি রক্তদাতা এবং রক্ত গ্রহীতার মধ্যে যোগাযোগের অভাব দূর করতে ফেসবুকের মাধ্যমে দুই পক্ষের সংযোগ স্থাপনে ব্লাড ডোনেটিং অনলাইন সেচ্ছাসেবী সংগঠন দিনাজপুরের “বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক” এর আয়োজনে ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে বিরামপুর সরকারি কলেজ সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে একটি সামান্য অবদান হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে ‘রক্তদান’ পরহিত ব্রতেরই এক সুমহান কর্ম। ভার্চুয়াল বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক আমাদের এলাকার জন্য একটি গর্বিত সংগঠন। সংগঠনটির সকল সেচ্ছাসেবীগণ ক্লান্তিহীন নিঃস্বার্থভাবে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা সবাই উচ্চ শিক্ষিত।

আলোচনাসভায় বিরামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার, পৌরমেয়র লিয়াকত আলী সরকার টুটুল, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম মন্ডল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহসিয়া তাবাসসুম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদী, আরএমও ডাঃ মুহতারিমা সিফাত, মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহরিয়ার ফেরদৌস হিমেল, বিরামপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শিশির কুমার সরকার, বিরামপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অদ্বৈত্য কুমার, সিনিয়র সাংবাদিক ডাঃ নুরল হক প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার প্রশাসনিক দায়িত্বের সাথে এলাকায় আর্ত-সামজিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী বহুমুখী পরিকল্পনা করছেন। এ প্রসঙ্গে ইউএনও তাঁর বক্তব্যের মধ্যে বলেন, “বিরামপুরে যত যুবক সম্প্রদায় আছে, তাদেরকে আমরা একসাথে করে এই উপজেলার উন্নয়নে যা যা করা দরকার, শুধুমাত্র প্রশাসনের পক্ষে কিন্তু সব ধরনের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। প্রশাসনের হাত হিসেবে কাজ করবে এই সেচ্ছাসেবীরা”।

প্রশাসনের সাথে সহযোগী হিসেবে নিঃস্বার্থভাবে নিবেদিত প্রাণের সমাজসেবক হয়ে কাজ করবে এমন সৎ তরুণ যুবক নিয়ে কাজ করতে চান ইউএনও পরিমল কুমার। এ প্রসঙ্গে তিনি বক্তব্যে বলেন, “আমাদের কাজ করতে গেলে দেখা যাবে যে, জোতবানীতে একটা বাল্যবিবাহ হচ্ছে। আমি ইউএনও এখান থেকে তথ্যটি নাও জানতে পারি। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর জানতে পারলাম তাহলে তো লাভ হলো না। এই সমস্যাটাকে যদি সমাধান করতে চাই প্রশাসন, চেয়ারম্যান, মেম্বার যাঁরা আছেন পাশাপাশি যদি কিন্তু সেচ্ছাসেবীরা বেশী ভূমিকা পালন করতে পারবে এবং আমি এই সংগঠনটিকে এরকম পর্যায়ে দেখতে চাই যাঁরা কিনা শতভাগ প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে। দেশের উন্নয়নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সক্রিয় থাকবে এবং তাদেরকে আমি এতটাই বিশ্বাস করতে পারি, সে একটা তথ্য দিলে আমি ধরে নিবো একশত ভাগ সত্যি। এটা আমার ভেরিফাই করার দরকার পড়বে না। শুধু তাই না, সরকারি সুযোগ সুবিধাগুলো যখন আসে আমরা কিন্তু যাচাই-বাছাই করি। আমরা যাচাই-বাছাইয়ে তাদেরকে কাজে লাগাতে পারি। কিন্তু আপনাদেরকে সেইরকম সক্ষমতা এবং গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে হয়। সেটা আমরা আজকে থেকেই করতে চাই।

বিরামপুরে একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরি করতে চান, যাঁরা শুধু রক্ত নিয়ে নয়, সমাজের উন্নয়নে কাজ করবে, সমাজের অসংগতি দূর করবে। এ প্রসঙ্গে ইউএনও পরিমল বলেন, “আপনারা যদি বিরামপুরের উন্নয়নে কাজ করতে চান, তাহলে আমি মনে করবো সংগঠনটিকে একটা ‘মাদার অর্গানাইজেশন’ হিসেবে দাঁড় করান। এটার সহযোগিতায় আমরা প্রশাসনিকভাবে থাকবো। কিন্তু এখন সমস্যা তো আছেই। আপনাদের সংগঠনের নাম বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক। নামের সাথে ব্লাড জড়িত। আপনি যদি বাল্যবিবাহ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে এটা কেমন দেখায় যে বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের ছেলেরা বাল্যবিবাহ নিয়ে কাজ করছে। তাহলে আমাদের এমন করতে হবে একটা মূল সংগঠন থাকবে এবং তার সাথে সিস্টার অর্গানাইজেশন থাকবে। সেটা হতে পারে বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক, বিরামপুর এনভায়রনমেন্ট অর্গানাইজেশন অথবা হতে পারে বিরামপুর এডুকেশনাল এসোসিয়েশন নানা ধরনের হতে পারে। কিন্তু আমরা একটা মূল সংগঠন দাঁড় করাতে চাই”।

ইউএনও আরও বলেন, “বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক তো থাকবেই, এটাকে আমরা শেষ করতে চাইনা। এটা আমাদের শুরু কিন্তু সাথে আমরা অন্যান্য জিনিসও করতে চাই। এটা যদি এরকম হয়, ‘বিরামপুর যুব শক্তি সংঘ’ তাহলে কেমন হয়? বিরামপুর যুব শক্তি সংঘ মূল সংগঠন তাঁর আন্ডারে থাকবে বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক, বিরামপুর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সংগঠন নানা ধরনের সংগঠন কিন্তু ব্যানারটা থাকবে বিরামপুর যুব শক্তি সংঘ”।

আশুড়ার বিলের বিরামপুর অংশকে আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধায়নে পরিকল্পনা করছেন ইউএনও পরিমল কুমার। পর্যটন শিল্প হবে মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস। ধানজুড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের বসবাস। তাদের স্ব সংস্কৃতি অত্রাঞ্চলকে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করবে এবং বিরামপুরকে পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গে ইউএনও পরিমল কুমার বলেন, “আশুড়ার বিলে কাঠের সেতু যেমন আছে, এছাড়াও ঝুলন্ত ব্রীজ নির্মাণ করতে চাই । বিরামপুরকে আমরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দাঁড় করাতে চাই। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হবে। আপনারা জীবন বাঁচাতে যেমন ব্লাড দিচ্ছেন লাইফ সেভ করছেন, তেমনি পৃথিবীকে সেভ করতে হবে”।

বিগত ৪৩ বছরের গণমানুষের প্রাণের দাবি বিরামপুরকে জেলা ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ইউএনও পরিমল কুমার বক্তব্যে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্য প্রশ্ন করেন- বিরামপুরে কেন জেলা চান? জবাবে সাংবাদিকেরা ভৌগলিক কারণের কথা বলেন। এ প্রেক্ষিতে ইউএনও পরিমল বলেন, “জেলা চাওয়ার মত যেকাজগুলো দরকার সে কাজগুলো আমরা ধীরে ধীরে করবো। জেলা আমাদের চাইতে হবেনা। সরকার বলবে বিরামপুরে জেলা বানানো দরকার। পাশে কয়লাখনি আছে, হাকিমপুরে পোর্ট আছে।এগুলো যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে সেন্টার হিসেবে বিরামপুরকে আমরা কাজে লাগাতে পারি। এজন্য আমাদের কিছু ডেভেলপমেন্ট দরকার। বিরামপুরে ভালো একটা সেচ্ছাসেবী সংগঠন দাঁড় করাতে চাই। যাঁর মাধ্যমে এই বিরামপুরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে এবং এগিয়ে নিতে বিরামপুরের সবধরনের সমস্যার সমাধান করা দরকার”। একথার মধ্যদিয়ে ইউএনও পরিমল কুমার সরকার বক্তব্য শেষ করেন।

স্বপ্নই তো মানুষকে সম্মুখ পথে ধাবিত করে।
এসব পরিকল্পনা যথা শীঘ্রই বাস্তবায়ন হোক এমন প্রত্যাশা করেন নিশ্চিত সবাই। হয়তোবা বিরামপুর উপজেলায় ইউএনও পরিমল কুমার এর প্রশাসনিক দায়িত্বভারের সুনির্দিষ্ট মেয়াদকালের আগেই শেষ দেখে যেতে পারবেন না কিনা কেবা জানেন। কিন্তু তিনি কল্পনা করছেন একসময় তাঁর স্বপ্নগুলো বাস্তবতার রূপ নিবে। বিরামপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ মনেপ্রাণে স্মরণ রাখবে, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা ইউএনও এসেছিলেন যিনি প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে কল্পনা করেছিলেন।

আলোচনাসভায় বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদী তাঁর বক্তব্যের মধ্যে বলেন, “আমরা যদি প্রতি চারমাস পর ব্লাড ডোনেট করি, এটা শরীরের জন্য কিন্তু অনেক উপকার। অস্থিমজ্জা থেকে রক্ত তৈরি হয়, সেগুলি এ্যাক্টিভ হচ্ছে রক্ত নতুন করে তৈরি হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়, সহজেই রোগ বালাই আক্রমণ করবেনা। রক্ত ডোনেটের সময় স্কিনিংয়ে এইডস, হেপাটাইটিস সহ অন্যান্য বড় বড় রোগগুলো আছে কিনা পরীক্ষা হয়ে যাচ্ছে এবং যাকে রক্ত ডোনেট হচ্ছে তিনি উপকৃত হচ্ছেন”।

ডাঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদী নিজেও রক্তদান করতে আগ্রহী। সেচ্ছায় রক্ত দিবেন উল্লেখ করে বলেন, “আমিও সুযোগ পেলেই আমার ব্লাড ডোনেট করে দেই। আপনাদের যে উদ্যোগ, সাথে আমার নামটা অন্তর্ভূক্ত করবেন। আমার রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। চার মাস পরপর আমি ব্লাড ডোনেট করতে চাই”।

তিনি বক্তব্যর শেষে “আশা করবো, আমরা যেন মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত পৌঁছে দিতে পারি” একথা বলে সবাইকে আহবান জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদী।

সচেতনতার অভাবে এবং কিছু ভুল ধারণার কারণে আমরা অনেকেই রক্তদানের মতো দূর্লভ সুযোগ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করছি প্রতিনিয়ত। এই ভুল ধারণাকে কাটিয়ে উঠে স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষ যত বেশি এগিয়ে আসবে তত কল্যাণ হবে পৃথিবীর। এ প্রসঙ্গে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও মুহতারিমা সিফাত তাঁর বক্তব্যের মধ্যে বলেন, “রক্ত দেয়ার মাধ্যমে যখন একটি জীবন বাঁচানো এর থেকে বড় কিছু আশা করা যায়না। রক্ত দিলে কোন সমস্যা হয়না শরীরে। আমরা যখন কাউকে ব্লাড দেই সাধারনত ৫০০ মিলি রক্ত দেয়া হয়ে থাকে। ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পরিমাণ ঘাড়তিটুকু পূরণ হয়ে যায়। ২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তের কণিকাগুলো পূরণ হয়ে যায়। ধর্মীয়ভাবে সওয়াবের অধিকারী হচ্ছি। বোন ম্যারো থেকে রক্ত নতুন তৈরি যে হয়ে যায়, সেগুলো উজ্জীবিত হয়, ফ্রেশ ব্লাড তৈরি হয়। মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সতর্কও থাকতে হবে, কিছু রোগীর রক্ত প্রদানে আমরা না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি”।

বাহিরে প্রাইভেট ক্লিনিকে রক্তের স্ক্রিনিং খরচ ব্যয়বহুল এক্ষেত্রে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাথে বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের মহৎ উদ্যোগের সাথে সমন্বয় রাখতে রক্তের স্ক্রিনিং করার বিষয়ে আরএমও মুহতারিমা সিফাত তাঁর বক্তব্যে সহযোগিতার মত ব্যক্ত করেন।

আরএমও শেষে রক্তদাতাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে বলেন, “রক্তদাতারা তারা অন্যদের অনুপ্রাণিত করবেন। রক্তদানে আপনাদের ভালোলাগার অনুভূতির গল্প করবেন। ফেসবুকে শেয়ার করবেন। ডোনাররা যেসব সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যদের কাছে অনুভূতিগুলি শেয়ার করবেন। আপনাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক”।

আলোচনাসভায় বিরামপুরেরই কৃতি সন্তান বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহরিয়ার ফেরদৌস হিমেল তাঁর বক্তব্যের মধ্যে বলেন, ” আমি ব্যক্তিগতভাবে ঐ কাতারের লোক, বিরামপুরে এমন কোন সেচ্ছাসেবী সংগঠন নাই যেখানে আমি পার্সোনালি জড়িত নয়। বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক যখন প্রথম করোনাকালিন ইনিশিয়েটিভ চালু হয়, তখন থেকেই তাদের সাথে আমি আছি”।

ডাঃ হিমেল নিজেও রক্তদানে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, “আমার রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। পরবর্তী কোন রোগীর জন্য এই গ্রুপের রক্তের প্রয়োজনে যেন প্রথম ফোনটা আমার কাছেই আসে”।

রক্তদানের আগ্রহ প্রকাশের দুইদিনের মধ্যেই শনিবার সকালে একজন এ্যানিমিয়া রোগীর রক্তের জরুরি প্রয়োজনে ডাঃ হিমেল সেচ্ছায় রক্তদান করেন।

গরীব ও অসহায় রোগীর স্বজনেরা প্রয়োজনে রক্ত কেনার জন্য ছুটাছুটি করলে যাতে বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের জরুরি নম্বরটা মানুষকে দেয়া যায় এ বিষয়ে ডাঃ শাহরিয়ার ফেরদৌস হিমেল পরামর্শ হিসেবে বলেন, “বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের জরুরি মোবাইল নম্বর অফিসিয়ালি যেন থাকে। সবাই যেন জরুরি প্রয়োজনে নম্বরে ফোন করতে পারে”।

রক্তপ্রদানের উপকারিতা, সচেতনতা সৃষ্টি, মানুষকে রক্তদানের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের আগামীর পথচলা সুগম করতে পরামর্শসহ উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং রক্তদানের বিশদ আলোচনাসহ ডাঃ শাহরিয়ার ফেরদৌস হিমেল রক্তদাতাদের উদ্বুদ্ধ বৃদ্ধিকরণে তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, “যাঁরা রক্তদাতা তাদের আগামীতেও রক্তদানের মানসিকতা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি”।

আলোচনাসভার সভাপতি বিরামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন তাঁর সমাপনী বক্তব্যের মধ্যে সোনার বাংলাকে যেমন ভালোবাসেন, তেমনি বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকেও ভালোবাসেন বলে মত প্রকাশ করেন।

“বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের অগ্রযাত্রা আরও উন্নতর হোক এবং রক্ত সংগ্রহের জন্য যা যা করা দরকার, আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাবো”। এ কথা বলে সভাপতি অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন আলোচনাসভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আলোচনাসভায় বক্তাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, সেচ্ছায় রক্তদাতারা সামাজিকভাবে যেমন পান মর্যাদা, তেমনি মানসিক দিক থেকে নির্মল প্রশান্তি অনুভব করেন। শরীরে প্রয়োজনীয় রক্তের উপস্থিতি থাকলে, শরীর হয়ে উঠে সজীব ও সক্রিয়। নিয়মিত রক্তদানে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে দেয়। আর রক্তশূণ্যতায় শরীর অকেজো ও দূর্বল হয়ে ভাটা পড়ে প্রাণশক্তিতে।

আলোচনাসভায় ভার্চুয়াল বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগী সমন্বয়ক আরমান আলি, শরিফুল ইসলাম, প্রিন্স আরিয়ান, মাহমুদুল জনি, ইরফান আনসারী সুমন, নবীন সরকার মামুন, রিমন, সোলায়মান, শাকিল, মুক্তাদির রাব্বি, আকিব আল আলতাফ উপস্থিত ছিলেন।

এই মহামারি করোনাভাইরাস কবে নির্মূল হবে আমরা পৃথিবীবাসী কেউ জানি না। তবে প্রয়োজনের সময় এক ব্যাগ রক্ত জীবন-মরণের সেতু হয়ে দাঁড়ায়। বিরামপুরে সৃষ্টি হোক সচেতনতা ও অকৃত্রিম মানবিকতা। পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম এর বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোমী সমন্বয়ক সদস্যদের সঙ্গে এসব বিষয়সহ তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিস্তৃতি বিষয়ে কথা বলেন। উদ্যোমী সেচ্ছাসেবী সমন্বয়করা এলাকার সবাইকে অন্তত এক ব্যাগ করে রক্ত দান করার প্রতি আহবান জানান।

জনগণকে সেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করা, সচেতন করা, ভয় দূর করা, নতুন নতুন রক্তদাতা তৈরি করা এবং সেচ্ছায় রক্তদাতাদের সম্মান জানানোর মূল উদ্দেশ্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, সুধীজন, সমাজকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সভায় ১৫০ জন রক্তদাতার উপস্থিতি যেন উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়ে যায়। রক্তদান করা কোনো দুঃসাহসিক বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কাজ নয়। আলোচনাসভায় মহামানব খ্যাত রক্তদাতাদের প্রফুল্লতা দেখেই বোঝা যায়। রক্তদানে মানুষ মানুষের প্রতি বাড়ে মমত্ববোধ ও সুদৃঢ় হয় সামাজিক প্রীতিবন্ধন। আলোচনাসভার প্রারম্ভে রক্তদাতাদেরকে ডিজিটাল বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের পক্ষ থেকে লাল রক্ত রঙের টি-শার্ট উপহার প্রদান করা হয়। সভা শেষে রক্তদাতারা লাল রক্ত রঙের টি-শার্ট পরিধানে ফটোসেশনের জন্য বিরামপুর সরকারি কলেজের ছাঁয়াঘেরা সবুজ শ্যামল চত্বরে দাঁড়ালে সবুজ মাঠে লালের সংমিশ্রণে যেন ‘লাল সবুজের বাংলাদেশ’ একথাই স্মরণ করে দিয়েছে।

চলতি বছরের ১০ মে এই ১২ জন সমন্বয় সদস্য নিয়ে ভার্চুয়ালভাবে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। ইতিমধ্যে রক্ত দিয়েছেন ১৭২ জন। রক্তদাতার রক্তের গ্রুপ নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানাসহ নিবন্ধন হিসেবে তৈরি হয়েছে ৫৬২ জনের ডাটাবেজ এবং গ্রুপটির অনলাইন সদস্য সংখ্যা ৩৭০০ জন বলে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিনিয়র এডমিন আরমান আলি।

আলোচনাসভাটির সঞ্চালনা করেন গ্রুপের সিনিয়র এডমিন ইরফান আনসারী সুমন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*