মন্তব্য প্রতিবেদন : মানবতার ফেরিওয়ালা ইউএনও পরিমল কুমার সরকার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পারভেজ , আইসিটি টেকনিশিয়ান (বিরামপুর) : আমার নিজ চোখে দেখা… গত কয়েকদিন আগে এক অসহায় বৃদ্ধা মহিলা অফিসে uno স্যারের কাছে সাহায্য চাইতে এসেছিলেন। তার স্বামী অনেক আগে মারা গেছে। একটি মাত্র ছেলে তাও আবার প্রতিবন্ধী। স্যার বৃদ্ধা মহিলাটিকে সামনে বসিয়ে প্রায় ২০ মিনিট ধরে গুরুত্ব সহকারে তার কথাগুলো শুনলেন এবং তৎক্ষণাৎ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ডেকে বৃদ্ধা মহিলাটির নামে একটি বয়স্ক/বিধভা ভাতার কার্ড করে দিতে বললেন। স্যার বৃদ্ধা মহিলাটিকে আরো বললেন, যেহেতু আপনি অসহায়.. আপনি যদি চান তাহলে আমি নিজ খরচে আপনার বাড়ীর সামনে একটি মুদি দোকান তৈরী করে দিব এবং আপনার যদি বসত ভিটার নিজ নামে দলিল থাকে তবে আপনার বাড়ীর জমির দলিলের একসেট ফটোকপি অফিসে জমা দিয়ে যান, গ্যারান্টি দিতে পারছিনা তবে যদি সম্ভব হয় তাহলে আপনাকে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি সরকারি বাড়ীও তৈরী দিব। একটু পরেই দেখি বৃদ্ধা মহিলাটি স্যারের রুমের বাহিরে দরজার সমানে দাড়িয়ে আছে আর তার দুচোখ দিয়ে অঝরে জ্বল ঝরছে। আমিতো দেখে হতবাক। স্যারতো তাকে খারাপ কিছু বলেনি। স্যার তাকে নিজ খরচে দোকান ঘর তৈরী করে দিতে চাইলো, তার নামে বয়স্কভাতার কার্ড তৈরী করে দিতে বললো এবং যদি সম্ভব হয় তবে তাকে সরকারি বরাদ্দের বাড়ীও তৈরী করে দিতে চাইলো। এত কিছু প্রাপ্তির পরেও তার চোখে জ্বল কেন? আমি নিজ আগ্রহেই তাকে জিজ্ঞেস করলাম.. বুড়িমা আপনার চোখে জ্বল কেন? প্রতিউত্তরে বৃদ্ধা মহিলাটি বলেন, বাবা আজকের আমার এ চোখের জ্বল কস্টের না। আনন্দেই আমার চোখ থেকে জ্বল ঝরছে। আমি অনেক জায়গায় গিয়েছি, কেউ আমার কথা শোনতে চায়না। এক দরজায় গেলে তারা আরেক দরজা দেখিয়ে দেয়। এই স্যার আমাকে কিছু দিতে পারুক বা না পারুক তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসেনা তবে সে যে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন এবং তার সামনে চেয়ারে বসিয়ে আমার কস্টের কথাগুলো শুনেছেন তাতেই আমি অনেক খুশি। সব অফিসে যদি এমন স্যার থাকতো তাহলে আমার মত হত দরিদ্র মানুষগুলোকে দরজায় দরজায় ঘুরতে হতো না। আমি দুই হাত তুলে দোয়া করি দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে যেন এমন স্যারের জন্ম হয়। এই বলে বৃদ্ধা মহিলাটি চোখের জ্বল মুছতে মুছতে চলে গেলেন। বৃদ্ধা মহিলাটির কথাগুলো উপন্যাশের গল্পের মত মনে হলেও ঘটনাটি বাস্তব।

আর একটি বিষয় না বললেই নয়, গত কয়েক দিন আগে স্যারের পূর্বের কর্মস্থল সৈয়দপুর থেকে একজন হকার (যিনি রাস্তায় রাস্তায় পত্রিকা বিক্রয় করে) ভালবাসার টানে সেদিনের পত্রিকা বিক্রয় বন্ধ রেখে স্যারক এক নজর দেখার জন্য বিরামপুরে এসেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ঐ দিন স্যার বিরামপুরে ছিলেন না। নির্বাচনী ডিউটিতে দিনাজপুর ছিলেন। স্যারের সাথে আমিও ছিলাম। পত্রিকা বিক্রেতাটি বিরামপুর এসেই স্যারকে ফোন দিয়ে বলেন, স্যার আমি আপনাকে দেখার জন্য আসছি। স্যার পত্রিকার বিক্রেতাটির সাথে দেখা করতে না পেরে অনেক দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং অফিসে ফোন করে বলে দিলেন, তার যেন কোন অসম্মান না হয়। তাকে খাওয়াতে বললেন এবং সে যেখানে যেখানে খুরতে যেতে চায় সেখানে নিয়ে যেতে বললেন। একজন সামান্য পত্রিকা বিক্রেতার জন্য স্যার এভাবে না ভাবলেও পারতেন। এটাই মানবতা। পরে আমি নিজ থেকে অনুধাবন করলাম, বৃদ্ধা মহিলাটি কথাগুলি আবেগের বসেই বলুক আর যে ভাবেই বলুক না কেন কথাগুলি ১০০% সত্য বলেছেন।সত্যিই স্যার একজন মানবতার ফেরিওয়ালা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*