মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র: ফ্রান্সের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সতর্কতা জারির দাবি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভি বিডি নিউজ ২৪.কম: মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশে ফ্রান্সের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন বাংলাদেশে না হয় সেজন্য সতর্ক প্রহরা এবং উপজাতি রাজাকারদের অবিলম্বে বিচারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ সহ-সমমনা ১৩টি সংগঠন।

বক্তারা বলেন, ‘ফ্রান্সের ঘটনা ভুলে গেলে চলবে না। সতর্ক প্রহরায় থাকতে হবে। যাতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। অপরদিকে উপজাতি রাজাকারদেরও অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ ১৩টি সমমনা ইসলামিক দলের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, ফ্রান্সের ঘটনায় সারা বিশ্বব্যাপী জোর প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দায় ফ্রান্স ভয় পেয়েছে। থমকে আছে। কিন্তু আমাদের এ প্রতিবাদের ধারা থামিয়ে দিলে কিংবা অব্যাহত রাখলেই চলবে না। বরং দিন দিন আরও বেগবান করতে হবে। সতর্ক প্রহরা জারি রাখতে হবে। নচেৎ ফ্রান্সের মত অপশক্তিগুলো পুনরায় জেগে উঠতে পারে। কাজেই এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য এখন থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।

বক্তারা বলেন, পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তে ফ্রান্সের মত মানহানিকর ঘটনা ঘটলে, রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো এবং জনগণের আবেগ-অনুভূতি ও দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো যথাস্থানে বা অভিযুক্ত রাষ্ট্রে পৌঁছে দেয়া এবং এমন অপকর্মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফ্রান্সসহ বিশ্বের সকল দেশকে ৪টি নীতি গ্রহণ করতে হবে।

তারা বলেন, সরকারের উচিত এই নীতিগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গন তথা জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রস্তাব উত্থাপন করা। প্রয়োজনে ওআইসি’র মত ইসলামী জোটগুলোকে সাথে নিয়ে দাবিগুলো উত্থাপন করা।

৪ নীতির মধ্যে রয়েছে-
১. পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালন করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে। ২. পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনুভূতিকে সম্মান করতে হবে। ৩. পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনুভূতিতে আঘাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে জারি করতে হবে। ৪. পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনুভূতিকে আঘাত করার এই জঘন্য অপরাধকে আইন করে বন্ধ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, উপজাতি রাজাকাররা এবং তাদের বংশধররা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘেও পৌঁছেছে, যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক। যুদ্ধাপরাধী উপজাতি রাজাকারদের বিচার হয়নি, কিন্তু তাদের পুরস্কৃত করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিনিধি করা কি অপমানের নয়? চাকমা রাজা কুখ্যাত ত্রিদিব মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, এছাড়া চাকমা পরিবার চিরদিনই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির বিরুদ্ধে থেকেছে। বিচারপতি সায়েম দেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং রাষ্ট্রপ্রধান হবার পর তিনি ত্রিদিবের মা বিনীতাকে তার অন্যতম উপদেষ্টা করেন। সূত্র : ‘মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম’, (জানু. ২০০৬, অঙ্কুর প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৩৫)।

বক্তারা বলেন, বোমাং সার্কেলের রাজা অং শৈ প্রু চৌধুরীও ছিলেন স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী। প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও মন্ত্রী এই রাজা পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করে এবং হানাদার বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

তারা আরও বলেন, উপজাতি যুদ্ধাপরাধীদের বংশধররা বংশপরম্পরায় বাংলাদেশের বিরোধিতা করে আসছে। অথচ তাদেরই আবার দেশের প্রতিনিধি বানানো হয়েছে বিশ্ব দরবারে, জাতিসংঘে। যুদ্ধাপরাধী চাকমা ত্রিদিব এবং বিচারক সায়েমের উপদেষ্টা ত্রিদিবের মা বিনীতার বংশধর এবং উত্তরাধিকারী দেবাশীষ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। নিজামী ও মুজাহিদের মতো তার গাড়িতেও বাংলাদেশের পতাকা উড়েছে।

মানববন্ধনে সমন্বয় করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী মওলামা লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, দফতর সম্পাদক মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী প্রমুখ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*