মানবসেবায় বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি– ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতেই মানুষের কাছে স্বাস্থ্যবার্তা হোক ‘নিরাপদ রক্তদান’। প্রানবন্ত ও কর্মক্ষম শরীর সজিব, সক্রিয় না থাকলে টান পড়ে প্রাণশক্তিতে। সেই প্রয়োজনের সময় এক ব্যাগ রক্ত জীবন-মরণের সেতু হয়ে দাঁড়ায়। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে একটি সামান্য অবদান হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে ‘রক্তদান’ পরহিত ব্রতেরই এক সুমহান সেবাকর্ম ও অকৃত্রিম সর্বমানবিকতা।

রক্তদাতা এবং রক্ত গ্রহীতার মধ্যে যোগাযোগের অভাব দূর করতে ফেসবুকের মাধ্যমে দুই পক্ষের সংযোগ স্থাপনে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছে ব্লাড ডোনেটিং অনলাইন সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক’। রক্তের জন্য গরীব ও অসহায় রোগীর স্বজনরা ছুটাছুটি করে সীমাহীন দুশ্চিন্তা ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের সম্মুখীন যাতে না হন, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রিন্স আরিয়ান, সিনিয়র এডমিন আরমান আলি, শরিফুল আলম, ইরফান আনসারী সুমন, সোলায়মান, আকিব আল আলতাফ, নবিন সরকার মামুন, মুক্তাদির রাব্বি ক্লান্তিহীন নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।

সবার জন্য উন্মুক্ত Birampur Blood Bank নামে তাদের একটি ফেসবুক গ্রুপে কারো রক্তের প্রয়োজন হলেই দেয়া হচ্ছে পোস্ট। এছাড়াও গ্রুপের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ডাটাবেজ। প্রয়োজনে ডাটাবেজ থেকে সেসকল নিবন্ধিত রক্তদাতা, উৎসাহীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করে সরাসরি রক্তদাতা ও রক্তগ্রহিতার মধ্যে বিনামূল্যে রক্ত যোগাড় করে দিতেছে বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডাটাবেজে নিবন্ধনকৃত ৬৬১ জন এবং সর্বশেষ রক্তদাতা সংখ্যা ৩০১ জন। এছাড়াও ইতিমধ্যে সংগঠনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার এর উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি এবং অসহায়, দুস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

বিপন্ন রোগীকে রক্তদানে অপরিসীম ও নির্মল অনাবিল আনন্দ অনুভবে আত্মার পরিতৃপ্তি, মানসিক প্রশান্তি এবং আত্মার বাঁধন সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিকভাবেও পান বিশেষ মর্যাদা। রক্তদান এক পবিত্র কর্তব্য ও মনুষ্যত্বের প্রকাশ যা মানুষ মানুষের প্রতি বাড়ে মমত্ববোধ ও সুদৃঢ় হয় সামাজিক প্রীতিবন্ধন।

বিরামপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চলের প্যানেল এ্যাডভোকেট মওলা বক্স বলেন, “বিরামপুরে এই সংগঠনটির উদ্যোগ অত্যন্ত গঠনমূলক ও মানবিক। সংগঠনটির দ্বারা এই এলাকার জনগণের ব্যাপক উপকার হবে। কাজেই তাদের কার্যক্রমের ব্যাপক প্রচার হওয়া দরকার”। প্রবীণ এই আইনজীবি সংগঠনটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

বিরামপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শিশির কুমার সরকার সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, “আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি যে, বিরামপুরে কিছু তরুণ সেচ্ছাসেবী শ্রমের মাধ্যমে মানুষের জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান তারা সংগ্রহ করছে এবং বিপদগ্রস্ত কিছু মানুষকে তারা সেই রক্তদান করছে – এটা খুবই প্রশংসনীয় ব্যাপার। আমি যুবকদের মঙ্গল কামনা করছি এবং বিরামপুরবাসীকে অবগত করছি যারা রক্তের অভাবে অনেক সময় বিপদে পড়েন। তারা যেন এই বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক সেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন”।

বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথম নারী ব্লাড ডোনার রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স পড়ুয়া ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম। বাড়ি বিরামপুরের ধানহাটি মোড়। রক্তদানে তার অনুভূতি সম্পর্কে বলেন, “মনের মাঝে রক্তদানের ইচ্ছে প্রকট ছিল। কিন্তু সাহস দেওয়ার কেউ না পাওয়ায় নিজ থেকে এগুতে পারছিলাম না। সেই সময় এত ভীতু ছিলাম কি বলব সিরিঞ্জের গুতো আমি এত ভয় পেতাম যে আমাকে রক্ত পরীক্ষায় নিয়ে যাওয়াই সেই সময় অনেক কষ্টের ছিল। ছোট বেলা থেকে এই সুই সিরিঞ্জের একটা ভয় মনের মাঝে গোপনে ছিল। অবশেষে বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের এডমিন আরমান স্যারের সহযোগিতায় ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন মেয়েকে রক্ত দিলাম। রক্ত দান করার পর রোগীর লোকজনের চোখমুখে যে কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা ছিল সেটা দেখে আমি প্রথমবার অনুভব করলাম শুধু রক্তদান করার মাঝে যে সুখের অনুভূতি রক্তদানের পরে একটি অচেনা পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া দোয়া আর ভালোবাসার সুখানুভূতির সাথে আর কোন কিছুর তুলনা চলে না”।

এলাকার এই গর্বিত সেচ্ছাসেবী ভার্চুয়াল সংগঠনটিকে রক্ত সংগ্রহ ও যথাযথ সংরক্ষণে আর্থিক সহায়তাসহ উৎসাহ, সম্মাননা-স্বীকৃতি প্রদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছেন সচেতন সমাজ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*