মেসির দয়ায় টিকে আছে বার্সেলোনা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডট কম: বার্সেলোনার দিন ভালো যাচ্ছে না বহুদিন ধরেই। ইউরোপ সেরার স্বাদ সর্বশেষ পেয়েছে ২০১৫ সালে। যে স্বাদ পাওয়ার মতো আর দলই গড়া হচ্ছে না বার্সেলোনার। এ জন্য রাগে–ক্ষোভে গত আগস্টে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ঘরোয়া ফুটবলেও পথহারা কাতালানরা। গত মৌসুমে একেবারে খালি হাতে ফিরেছে দলটি। এক দশক পর এমন কিছু ঘটতে দেখেছে তারা। যেভাবে এগোচ্ছে এই মৌসুম তাতে এবারও এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা কম নয়।

২০১৮-১৯ মৌসুমেও লিগ জিতেছে বার্সেলোনা। আগের মৌসুমেই জিতেছে ঘরোয়া ডাবল। আর্নেস্তো ভালভার্দের অধীনের সেসব সাফল্য দলের ক্ষত ঢেকে দিলেও বাস্তবতা হচ্ছে, চার বছর ধরেই খুব বাজে সময় যাচ্ছে কাতালানদের। দলটির এ সময়ের যত সাফল্য সবই একজনের কাঁধে ভর করে-লিওনেল মেসি। গোলের পর গোল করে ও অন্যদের দিয়ে গোল করিয়ে ভালভার্দের সময়টায় শিরোপা এনে দিয়েছেন মেসি।

ভালভার্দে ছাঁটাই হওয়ার পরও গল্পটা বদলায়নি। ভালভার্দের বিদায়ের পর থেকে শিরোপার দেখা না পাওয়া বার্সেলোনার ভালো খেলা মানেই সেদিন মেসি ভালো খেলেছেন। আর মেসির নিশ্চুপ দিন মানেই বার্সেলোনার ভোগা। এভাবে একজনের ওপর নির্ভর হয়ে পড়া বার্সেলোনাকে রীতিমতো অপমান করেছেন কার্লোস বিয়াঞ্চি।

সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার বিয়াঞ্চি ক্যারিয়ারের একটা সময় খেলেছেন পিএসজির হয়ে। রেঁস, স্ট্রাসবুর্গের হয়েও ইউরোপে খেলা বিয়াঞ্চি বুট জোড়া তুলে রাখার পর কোচিংয়ে মন দিয়েছেন। রোমা, বোকা জুনিয়র্স ও আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক কোচের সঙ্গে কথা বলেছে লা পেরিসিয়েন। পিএসজির কাছে বার্সেলোনার নাস্তানাবুদ হওয়াটাই সে আলোচনায় মূল জায়গা করে নিয়েছিল।

ঘরের মাঠে বার্সেলোনার এমন হারে বিস্মিত নন বিয়াঞ্চি। কারণ বার্সেলোনার যে মান তাতে নাকি এটা স্বাভাবিক! ‘বার্সেলোনা একটা গড়পড়তা দল। লা লিগাতেই তো দেখা যাচ্ছে। সেখানে ওরা তৃতীয়, আতলেতিকোর চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে পিছিয়ে। যে দল চ্যাম্পিয়নস লিগেই চেলসির কাছে হেরেছে।’

পিএসজির কাছে বার্সেলোনার এমন হার তাই বিয়াঞ্চির কাছে অনুমিত ফল। কারণ? বার্সেলোনা সম্পূর্ণ একজনের ওপর নির্ভর হয়ে ফুটবল খেলে। আর এভাবে খেলে কোনো দলই বেশি দিন চলতে পারে না। সে সঙ্গে বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোমানের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পিএসজির বিপক্ষে এই ফল আমাকে চমকে দেয়নি। পিএসজি খুব ভালো খেলেছে, এটা সত্যি। কিন্তু বার্সেলোনা তো মেসি কী করবে সে দয়ায় টিকে আছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ক্যাম্প ন্যুতে হ্যাটট্রিক করেছে। বার্সেলোনার বিপক্ষে গোল করা ওর জন্য এত সহজ কেন? ওদের রক্ষণ! এমবাপ্পের বিপক্ষে সের্হিনিও দেস্ত, যে ঠিকমতো আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্বাদ পায়নি। তারপর ক্লেমঁ লংলে কী অসাধারণ সেন্টারব্যাক? জেরার্ড পিকে তিন মাস ধরে খেলেনি…এই দলই যদি দ্বিতীয় লেগে খেলায় বার্সেলোনা, পিএসজি পাঁচ ছয়টি গোল দেবে।’

যে দল নিয়ে এত হতাশা শোনা যাচ্ছে বিয়াঞ্চির মুখে, সে দলে কি মেসি থাকবেন? এই মৌসুমের শুরুতেই ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন মেসি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো দল পাচ্ছেন না ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্তে। লিগে বেশ পিছিয়ে আছে বার্সেলোনা।

ম্পিয়নস লিগে তো পিএসজির মাঠে অন্তত চার গোলের ব্যবধানে না জিততে হবে। এমনকি কোপা দেল রেতেও সেমিফাইনালে সেভিয়ার কাছে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে গেছে বার্সেলোনা। বুধবার নিজেদের মাঠে তিন গোলের ব্যবধানে জয় না পেলে হয়তো এ মৌসুমে কোনো শিরোপা জেতার আশাই শেষ হয়ে যাবে।

বিয়াঞ্চিও বার্সেলোনার হয়ে মেসিকে দেখার আশা খুব একটা করছেন না, ‘আমি জানি না কী হবে। তবে আমি ওকে খেলতে দেখতে চাই। ওর বয়স বেড়েছে কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে পুরো দলকে ড্রিবল করার ক্ষমতা রাখে। ৩৩ বছর বয়সেও অবিশ্বাস্য খেলোয়াড় সে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা ইব্রাহিমোভিচের মতো।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*