লকডাউনে অভুক্ত কুকুরের পাশে খাবার নিয়ে হিলির আজাদ আলী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ টানা ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনে থমকে গেছে মানুষের কর্মব্যস্ততা। বন্ধ হয়ে গেছে সকল খাদ্য-খাবারের স্থানগুলো, আর মানুষের ফেলে দেওয়া খাবার না পেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ছুটাছুটি করছে অভুক্ত কুকুরেরা। এইসব অভুক্ত কুকুরদের ক্ষুধা নিবারণ করছে দিনাজপুরের হিলি আজাদ আলী।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেলে হিলি স্থলবন্দর গেটে একটি অভুক্ত কুকুর খাবার খাওয়াচ্ছে, এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

করোনা ভাইরাসের আক্রমণে সারাবিশ্ব আজ আতঙ্কে। করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউন, এর কারণে মানুষের জীবনযাত্রা মুখথুবড়ে পড়েছে।

১৪ দিনের কঠোর লকডাউনে সব বন্ধ হয়ে গেছে। হোটেল দোকানপাট খোলা থাকলেও মানুষ খাবার নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে। রাস্তায় প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। আর এর প্রভাব পড়ছে শহরের অলিগলিতে ঘুরে বেরানো কুকুর-বিড়ালদের। তারা তো অধম, মানুষের ফেলে দেওয়া অবশিষ্ট খাবার খেয়ে তারা বেঁচে থাকা। চলমান ৮ দিনের লকডাউনে তারা খাদ্য খাবার না পেয়ে আজ দিশেহারা। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় তাদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় জোরসোর হয়ে পড়ে থাকছে। লকডাউনের আগে হোটেল দোকানপাট রীতিমতো খোলা থাকতো, মানুষ খেয়ে দেয়ে নানা স্থানে তার অবশিষ্ট খাবার ফেলে দিতো, আর সেগুলো খেয়ে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। আজ তার সবি বন্ধ।

হিলির আজাদ আলী একজন পশুপ্রেমিক, পশুদের প্রতি তার ভালবাসা অতুলনীয়। কুকুরবিড়ালদের প্রতি তার হৃদয়ে মায়ায় ভরা। হিলি বন্দরসহ শহরের অলিগলিতে ঘুরে বেরানো পশুদের তিনি আপন মনে করে রাখেন। ক্ষুধার্ত কুকুরদের তিনি সব সময় খাওয়ায়ে থাকেন।

কঠোর লকডাউনে সব বন্ধ থাকায় রাস্তার কুকুরগুলো আজ অভুক্ত থাকছে। আর এই সব অভুক্ত কুকুরদের খুঁজে বের করে তার স্বাদমতো খাবার খাওয়াচ্ছেন তিনি।

হিলি পোর্টের একজন কর্মী কুদ্দুস আলী বলেন, আজাদ ভাই একজন পশু প্রেমিক, কুকুরদের প্রতি তার অনেক ভালবাসা। আমরা প্রায় দেখি উনি পোর্টের ভিতরে সব কুকুরদের ডেকে ডেকে খাবার খাওয়ান। কোন পশুকে তিনি ঘৃণা করেন না।

হিলি চারমাথার আশরাফ আলী বলেন, কুকুরগুলোও আজাদ ভাইকে চিনে। কারও কাছে তারা যায় না। তিনি আসলে সবাই তার কাছে ছুটে আসে।

পশুপ্রেমিক আজাদ আলী বলেন, ছোট থেকেই পশুদের প্রতি আমার ভালবাসা কাজ করে। যে কোন স্থানে এদের দেখলে মায়া লাগে। তাদের ডেকে নিজ হাতে খাবার কিনে খাওয়ায়।

আর এখন তো সারাদেশে লকডাউন চলছে। সবকিছু বন্ধ, এরা খাবার পাবে কোথায়। আমি একজন সাধারণ মানুষ, হিলি পোর্টের দালাল অফিসে কাজ করি। তাদের কষ্ট আর ক্ষুধার জ্বালা আমি বুঝি। তাদের জন্য ভাত,মুড়ি, বিস্কুট যা পাই তাই নিয়ে এই অভুক্ত কুকুরদের খাওয়ায়।

আমি চাই বর্তমান সারাদেশে লকডাউন চলছে। আমরা যে যেখানে থাকি এই সব অসহায় অধম প্রাণীদের প্রতি একটু দয়াশীল হই। তারাও তো প্রাণী, তাদেরও তো মানুষের মতো বাঁচার অধিকার আছে। আসুন আমরা এই কঠোর লকডাউনে ক্ষুধার্ত কুকুর-বিড়ালদের প্রতি একটু ভালবাসা তৈরি করি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*