শিক্ষক নিয়োগে বিস্তর অনিয়ম, তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডট কম: যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল আম জামতলা মডেল কলেজের শিক্ষক নিয়োগে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ এম শহিদুল ইসলাম। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কলেজের শিক্ষক ও এলাকাবাসীর পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দিন কলেজের ১৩টি অনিয়ম তুলে ধরে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর পত্র দেন। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত জানুয়ারিতে অনিয়ম তদন্তে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিআইএ) চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংসদ সদস্যের অভিযোগে বলা হয়েছে, কলেজটি এমপিওভুক্তির সঙ্গে সঙ্গে অধ্যক্ষ জাল স্বাক্ষর ও নকল সীলমোহর ব্যবহার করে সকল শুণ্য পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সহায়তায় মোটা টাকার বিনিময়ে এই নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে বলে জানা যায়।

জানা যায়, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি এমপিওভুক্ত হয় ২০১৯ সালে। তবে ২০১৫ সালের আগষ্ট মাস থেকে স্কুল-কলেজের সকল নিয়োগের দায়িত্ব পায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। অর্থাৎ এই সময়ের পর কোন নিয়োগ দিতে পারবেন না কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০১৫ সালের পরে নিয়োগ পাওয়া অনেককেই এমপিওভুক্তির জন্য আগেই নিয়োগ দেখিয়েছেন অধ্যক্ষ।

মো. টিপু সুলতান ২০১৯ সালে নিয়োগ পেলেও তাকে পৌরনীতির প্রভাষক হিসেবে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ নিয়োগ দেখানো হয়েছে। কলেজ এমপিওভুক্তিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে প্রভাষক ওয়াহিদুজ্জামান সিংহঝুলি আলিম মাদ্রাসায় চলে যান। তাকেও আবার ফেরত আনা হয়েছে।

অধ্যক্ষের শ্যালক মো. আরিফ হোসেন ছিলেন বিএম শাখার শিক্ষক। কিন্তু কলেজ এমপিওভুক্তির পর তাকেও এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রভাষক মো. শামসুজ্জামান ২০০৪ সালে কলেজ থেকে চলে গেলেও তাকে ফিরিয়ে এনে নিয়মিত চাকরি দেখানো হয়েছে। ২০০৪ সালে নিয়োগ পাওয়া তরুণ কান্তি ঘোষের স্থলে মো. বখতিয়ার হোসেনকে রসায়নের প্রভাষক হিসেবে এমপিওভুক্তির তালিকা পাঠানো হয়েছে। অথচ বখতিয়ার হোসেন কলেজে এসেছেন ২০২০ সালে । বৈধ নিয়োগ পাওয়া সত্ত্বেও বঞ্চিত করা হয়েছে তরুণ কান্তি ঘোষকে।

প্রভাষক হিসেবে মো. মেহেদী হাসানকে ২০১৫ সালের ১২ জুন নিয়োগ দেখানো হয়েছে, অথচ তিনি যোগদান করেছেন ২০১৯ সালে। ফারুক আহমেদকে আইসিটি প্রদর্শক ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রভাষক দুই পদেই নিয়োগ দেখানো হয়েছে। অফিস সহকারির শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস হওয়ার কথা থাকলেও তা কারো কারো নেই।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, অধ্যক্ষের দুর্নীতির তদন্ত হতে পারে তাই বিভিন্ন পুরোনো খাতা পত্র সরিয়ে ফেলে নতুনভাবে তা তৈরি করা হয়েছে। মূলতঃ এমপিওভুক্তির আগে একজন শিল্পপতি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারিদের নিয়মিত সম্মানি দিতেন। সেই তালিকা দেখলেই প্রকৃত শিক্ষক-কর্মচারিদের সংখ্যা বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে তদন্ত করেছে। যেসব শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে পারেননি, তারাই স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ভুল বুঝিয়ে অভিযোগটি দিয়েছেন।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*