স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ জমা দিতে হবে কোষাগারে

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডট কম: স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ ৬৮টি সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের পরিমাণ ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এ জন্য ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন, ২০১৯’ এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বশাসিত সংস্থারগুলোর লেটেস্ট ব্যালেন্স দেখা গেল ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা স্থিতি বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে আছে। এ টাকাগুলো কোনো ভালো কাজে ইনভেস্ট হচ্ছে না। এ জন্য সরকারের এ আইনের মাধ্যমে পলিসি হলো-কিছু প্রভিশন রেখে সরকারের কোষাগারে নিয়ে আসা এবং জনকল্যাণমূলক কাজ করা। আমাদের অনেক প্রজেক্ট রয়েছে যেগুলো আর্থিক সংকটের কারণে সেখানে অর্থায়ন করা যায় না।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো তাদের পরিচালন ব্যয়, নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমা রাখবে। আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালক ব্যয়ের ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ সংরক্ষণ করতে পারবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিধি মোতাবেক যদি পেনশন, প্রভিডেন্ড ফান্ড থাকে সেটাও রেখে দেবে। এরপরও যা থাকবে (উদ্বৃত্ত) সেটা সরকারের কোষাগারে জমা দেবে। ওনাদের বিপদে ফেলা হবে না। প্রয়োজনীয় অর্থ রাখার পর বাকি অর্থটা সরকারি কোষাগারে দেবেন।’

স্বায়ত্তশাসনের স্পিরিটের সঙ্গে এ বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘না, স্বায়ত্তশাসনে কোনো সমস্যা হবে না। আর্থিক ডিসিপ্লিনেও কোনো সমস্যা নেই। এটা হচ্ছে, ওনাদের যে অলস অর্থ আছে তা সরকারি বিনিয়োগে কাজে লাগানো।’

‘তাদের যদি টাকা প্রয়োজন হয় সরকার তো টাকা দিচ্ছে’, বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

উদ্বৃত্ত অর্থ আছে এমন স্বায়ত্তশাসিত ৬৮টি সংস্থার তালিকা করা হয়েছে বলেও জানান শফিউল আলম।

তিনি বলেন, ‘এরমধ্যে ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকা রয়েছে। যেমন- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ২১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার ১৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, ডিপিডিসির ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম বন্দরের ৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৪ হাজার ৩০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে।’

‘এ তালিকায় শিক্ষাবোর্ডগুলো রয়েছে। তাদের অনেক অলস টাকা রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উদ্বৃত্ত ৪২৫ কোটি টাকা রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকা’ যোগ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আইনের বিধান সুপারসিড করে এ আইনের বিধান কার্যকর হবে।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*