হিলিতে বস্তা সেলাই করে চলে তাদের সংসার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : পেটের দায়ে আর বাঁচার তাগিদে অনেকেই বেচে নেই হরেক রকম পেশা। তেমনি দিনাজপুরের হিলিতে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক বাজারের বিভিন্ন বস্তার আড়তে বস্তা সেলাইয়ের কাজ করছেন। যে যত হাত চালাতে পারবে তার তত বেশি উপার্জন। আর এই সেলাইয়ের কাজ করেই চলে তাদের সংসার জীবন।

হিলি একটি স্থলবন্দর। এবন্দরে প্রতিদিন ভারত থেকে আমদানি হয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী। বন্দরে রয়েছে প্রতিটি আমদানি কারকদের পণ্য রাখার গুদাম। এই সব গুদামে প্রয়োজন হয় নতুন-পুরাতন বস্তার। তাই হিলিতে রয়েছে অনেক বস্তার আড়ৎ।

বন্দরের বস্তার আড়ৎগুলো ঘুরে দেখা যায়, ছেড়াফাটা ও পুরনো বস্তা সেলাই করতে শ্রমিকদের। আড়তের বারান্দায় বসে পাটি সুই এবং সুতলি দিয়ে সেলাই করছেন নারীসহ পুরুষ শ্রমিকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তাদের এই কর্ম ব্যস্ততা। যে যত তাড়তাড়ি সেলাই করবে তার উপার্জন হবে বেশি। বেশি ছেড়াফাটা বস্তা সেলাইয়ে মজুরি আড়াই থেকে তিন টাকা, অল্প ছেড়াফাটা বস্তা দেড় থেকে দুই টাকা আর সামান্য ছেড়াফাটা এক থেকে দেড় টাকা মজুরি পায় তারা।

কথা হয় বস্তা সেলাই শ্রমিক মিলন সরকারের সাথে সে বলেন, আমি সাত বছর যাবৎ এই বস্তা সেলাইয়ের কাজ করে আসছি। সংসারে দুই ছেলে, মা-বাবা, ছোট ভাই-বোন ও স্ত্রীসহ ৯ জন খানেয়ালা (সদস্য)। বোনের এখনও বিয়ে দিতে পারিনি। আমার উপর গোটা সংসার। একদিন বসে থাকলে সংসার চলে না। তাই সংসারের এতোগুলো মানুষের চাহিদা মেটাতে আমাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। আমি নিজেকে একটা যান্ত্রিক মানুষ মনে করি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ পিচ ছেড়াফাটা বস্তা সেলাই করি। তা থেকে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা প্রতিদিন উপর্জন হয়। কষ্ট হলেও চলছি কোন রকম।

রেহেনা বেওয়া নামের একজন নারী শ্রমিকের সাথে কথা হয় সে বলেন, প্রায় চার বছর হলো আমার স্বামী মরা। বস্তা সেলাইয়ের কাজ করেই দুই মেয়েকে নিয়ে চলছি। পুরুষদের মতো আমি ওতো জোরেসরে হাত চালাইতে পারি না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করি। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ টি বস্তা সেলাই করি। তাতে রোজগার হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। একটা নাতি আমার কাছে থাকে। ছোট মেয়ে এইবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। মানুষের বাড়িতে ভাড়া থাকি। নিজের কোন বাড়িঘর নেই।

শ্রমিক আরিফ হোসেন বলেন, আমার বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে চারজনের সংসার। প্রতিদিন যা কামায় হয় তাই দিয়ে চলি, কোন সমস্যা হয় না।

কথা হয় বস্তা আড়ৎদার আব্দুল মালেকের সাথে। তিনি বলেন, আমার আড়তে বর্তমান চার জন শ্রমিক কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পেয়ে থাকে। সারাদিন পরিশ্রম শেষে তাদের ন্যায মজুরি প্রতিদিন দিয়ে দেয়। তাদের সব সময় ভালমন্দ আমি দেখি। কোন সমস্যা হলে সমাধানের চেষ্টা করে আসছি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*