হিলিতে বিধবা ভাতার টাকা কেড়ে নিয়েছে ইউপি সদস্য ফারুখ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : বিধবা ভাতা কার্ডের টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের হিলির বোয়ালদাড় ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের  পাইকপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য ফারুখ আকন্দের বিরুদ্ধে। টাকা ছাড়া কোন কার্ড করে দেয় না এই ইউপি সদস্য। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করার পরেও ইউপি সদস্য টাকা ফিরত না দিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে ভাতা ভুগীদের।

অভিযোগকারী পাইকপাড়া গ্রামের ফাইমা বেওয়া বলেন, আমার ২ মেয়ে ১ ছেলে, স্বামী মারা গেছে ৫মাস আগে। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি, মেজ মেয়ে কলেজে লিখাপড়া করে আর ছোট ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে দিনাপাতি করছি। সংসারে স্বামী ছাড়া উপার্জনের কেউ নেই আমার। মাঠে আবাদি কোন জমিও নেই। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর মেম্বার ফারুখকে অনেক অনুরোধ করেছি একটা বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য। সে কার্ড করে দিয়েছে তবে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে। গত মঙ্গলবার প্রথম কার্ডের টাকা উত্তোলন করেছিলাম, তখনও এই মেম্বার ফারুখ আমার নিকট আরও ২ হাজার টাকা নিয়েছে। শেষে আমি নিরুপায় হয়ে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ইউএনও’র নিকট লিখিত অভিযোগ করি।
তিনি আরও বলেন, উপজেলায় অভিযোগ করে আসার পর মেম্বার আমাদের বিভিন্ন ভাবে ভয়-ভিতি আর হুমকি দিচ্ছে।

পাইকপাড়া গ্রামের আর একজন ভুক্তোভুগী শেফালী বেওয়া বলেন, আমার এক ছেলে, স্বামী মারা গেছে পাঁচ বছর আগে। ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। আমাদের গ্রামের মেম্বার ফারুকের নিকট বিধবা ভাতার কার্ডের কথা বলেছিলাম, তিনি বলেছিলেন কার্ড করে দিবো তবে ৩ হাজার টাকা লাগবে। আমি গরীব মানুষ এতোগুলো টাকা কোথায় পাবো। তাই তাকে বলেছিলাম প্রথম ভাতার টাকা পেলে আপনাকে দিয়ে দিবো। পরে গত মঙ্গলবার প্রথম টাকা উত্তোলনের সময় আমার নিকট থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে নেয় সে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামে বিধবা মাহিদুলের মার নিকট থেকেও সেই দিন মেম্বার ৩ হাজার টাকা নিয়েছিলো। তবে ইউএনও’ কাছে অভিযোগ করার পর মাহিদুলের মার টাকা ফেরত দেন মেম্বার।

একই গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা লাইলী বেগম বলেন, আমি বয়স্ক মানুষ চলতে ফিরতে পারি না। তাই মেম্বার ফারুখতে প্রায় ১৮ মাস আগে আমাকে একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য ২ হাজার টাকা দিয়ে ছিলাম,আজ পর্যন্ত মেম্বার কোন কার্ড করে দেয়নি।

কথা ঐগ্রামের ৭২ বছর বয়সী এলাহী মন্ডলের সাথে তিনি বলেন, আমার তিন বছর আগে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছিলো এই মেম্বার ফারুখ। তবে বিনিময়ে ৩ হাজার টাকা তাকে দিতে হয়েছিলো।

ইউপি সদস্য ফারুখ আকন্দের নিকট টাকা নেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি সম্পর্ণ অস্বীকার করে জানান, আমি তাদের নিকট থেকে কোন টাকা-পয়সা নেয়নি। সামনে আমার নির্বাচন, আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে, আমার ভাবমুর্তিক্ষুণ্য করার জন্য।

বোয়ালদাড় ইউনয়িনের চেয়ারম্যান মেফতাহুল জান্নাত মেফতা জানান, আমার ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুখ আকন্দের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সত্য। তবে সে নিজে এই টাকা নিজে নেয়নি, অন্য কেউ তার নাম করে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভুক্তোভুগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রাফিউল আলম জানান, উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য ফারুখ আকন্দের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা নেওয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সত্যতা প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে আইনীয় ব্যবস্থা লিখা হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*