হিলিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগী এক নারী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন,বিশেষ প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের হিলিতে হাতে খাবারের ব্যাগ ঝুলিয়ে পথে,ঘাটে আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে চলছেন ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষের সন্ধানে। নিজের মুখের আহার তুলে দিচ্ছেন হতদরিদ্র ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে। এযেন এক ব্যতিক্রম ধর্মী উদ্যোগী নারী।

এই উদ্যোগী নারী একজন সরকারি চাকুরি জীবি। প্রতি শুক্রবার সকাল হলেই নিজ হাতে রান্না করে বেরিয়ে পরেন ক্ষুধার্ত মানুষের সন্ধানে। হাতে খাবারের ব্যাগ, ব্যাগে থাকে ১৮ থেকে ২০ টি খাবারের প্যাকেট। প্রতি প্যাকেটে থাকে কখনও মাংস দিয়ে খিচুড়ি আর সবজি, আবার কখনও থাকে ডিম, সবজি।

রাস্তায় খাবার নিয়ে চলার সময়, যখন দেখে কোন অসহায় বৃদ্ধ মহিলা বা পুরুষ ভিক্ষা করছেন এবং দিনমজুর মাঠে কাজ করছেন। হইতো সকালে বাড়ি থেকে না খেয়ে খাবারের খোঁজে বের হয়েছেন তারা। তাদের ডেকে তিনি বলেন চাচী-চাচা সকালে খাওয়া হয়েছে কি? তখন তাদের কাছে ডেকে ব্যাগ থেকে খাবারের প্যাকেট বের করে তাদের হাতে সযত্নে তুলে দেন তিনি।

অন্ধ বৃদ্ধা মহিলাসহ তিনজন বৃদ্ধা মহিলার সাথে কথা হয়, তারা বলেন, সকাল থেকে এখনও কিছু খাইনি বাবা, মানুষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করছি। এক বোরকা পড়া মা এসে আমাদের খাবার দিলো,আল্লাহ এই মায়ের অনেক ভাল করবেন।

অন্ধ বৃদ্ধা বললেন, আমার তো আর চোখ নাই, তাকে দেখতে পাচ্ছি না, দোয়া করি ঐমায়ের অনেক ভাল হবে।

মানুষের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে মজিবর রহমান, তিনি বলেন, সকালে কাজের খোঁজে হিলি শহরে আসছি, এখন সকাল ১০ টা বাজে। এখনও কোন কাজ পাইনি, মনে হয় আজ আর কাজ পাওয়া যাবে না। কাজ না করলে বাড়িতে ছোল-পোল নিয়ে কি খাবো? এমন ভাবতে ভাবেতে আসছি। পথে মধ্যে একজন মহিলা আমার সব কথা শুনে দুই প্যাকেট খাবার দিলো। আজ কাজ নাই, দুই প্যাকেট খাবার পেলাম,তা দিয়ে দুপুর বেলায় সবার খাওয়া হবে।

কথা বলতে না চাইলেও শেষে ঐনারী তার উদ্দেশ্যের কথা বলেন, আমি একজন সাধারণ সরকারি চাকুরি জীবি মানুষ। ছোট থেকে আমার ইচ্ছে আমি মানুষের সেবা করবো এবং ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে নিজের হালাল উপার্জন দিয়ে যতটুক পারি তাদের খাওয়াবো। প্রতি শুক্রবার বাসায় আমি ভাল-মন্দ খাবার তৈরি করি। বেশ কিছু দিন থেকে নিজেদের জন্য আর ভাল খাবার তৈরি করি না। ঐটাকা দিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের খাবার তৈরি করি এবং ঐসকল  অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষগুলোকে খুঁজে বের করে,তাদের হাতে খাবার তুলে দেয়।

তিনি আরও বলেন, মানব সেবায় বড় ধর্ম, মানুষের মাঝে লুকিয়ে আছে সৃষ্টিকর্তা। আমি ছোট মানুষ, বড় কিছু দেবার সাধ্য আমার নেই। যতটুকু দিতে পারছি তাদিয়ে আমার আত্মার তৃপ্তি আনছি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*