হিলি বন্দরে নেই ট্রাক টার্মিনাল, যানজট চরমে

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোসলেম উদ্দিন,  বিশেষ প্রতিনিধিঃদিনাজপুরের হিলি বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দর। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০টি দেশি ট্রাক এবং ভারতীয় ২৫০ থেকে ৩০০টি  পণ্যবাহী ট্রাক এবন্দরে প্রবেশ করে। ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় এবং সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাঁধে যানজট। যানজটে একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।

সোমবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত দেখা গেছে, ভারত থেকে হিলি চেকপোস্ট দিয়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো চারমাথার পোর্টের গেট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা। আবার ঘোড়াঘাট সড়কের ডাঙ্গাপাড়া থেকে বন্দরে প্রবেশের অপক্ষায় শত শত দেশি ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকা।এদিকে বন্দর থেকে দেশি পণ্যবাহী ট্রাকগুলো হিলি চারমাথা দিয়ে দেশের বিভিন্ন দক্ষিণ অঞ্চলে ছেড়ে যাওয়ার সময় রাজধানী মোড় পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি করে। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পড়ে থাকতে হয় সকল যানবাহন সহ পথচারীদের।  এযানজট যেন এখন হিলিবাসীসহ সমগ্র বাংলাদেশের।

প্রতি বছর এই স্থলবন্দর থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে সরকার। ২০২০ সালে সরকারি বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যামাত্রা চেয়ে দ্বিগুণ রাজস্ব পেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এস্থলবন্দরে সেবার মান তেমন উন্নত নেই। প্রতিটি সড়ক সংকীর্ণ আর ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় এই যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়েছে। সড়ক সংকীর্ণতার কারণে রাস্তায় ভারতীয় ও দেশি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। আর সেই কারণে যানজটের পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীবাহী বাস, ঢাকার কোচ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অটোবাইক, অটো ভ্যান-রিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল সহ পথচারীরা। বেশ কিছুদিন আগে হিলির জালালপুরে একটি অস্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল করা হয়ে ছিলো। যার কারণে তখন যানজটটি অনেকটায় কম ছিলো।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকচালক হালিম হোসেন বলেন, হিলিতে ট্রাক পার্কিং করার কোন জায়গা নেই। নেই কোন ট্রাক টার্মিনাল। যদি ট্রাক টার্মিনাল থাকতো তাহলে আমাদের আর যানজটে পড়ে থাকতে হতো না। যানজটে শুধু আমাদের বিপদে পড়তে হয় না, এবিপদ সকল শ্রেণীর মানুষের।

একজন ট্রাক হেলফার রনি মিয়া বলেন, টার্মিনাল না থাকার কারণে গাড়ি রাস্তায় রাখতে হয়। আর যার জন্য গাড়ির অনেক কিছু চুরি হয়ে যায়। ট্রাক টার্মিনাল থাকলে আমাদের কোন অসুবিধা বা ক্ষতি হতো না।

হিলি থেকে দিনাজপুরে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের তো টাইমের গাড়ি, প্রায় ১৫ মিনিট সময় ধরে এই চারমাথায় দাঁড়িয়ে আছি। কখন যে রাস্তা ক্লিয়ার পাই।

প্রাইভেটকারে বসে থাকা একজন বলেন, এতো দেখি ঢাকা শহরের একটা অংশবিশেষ। যানজটের যে অবস্থা দেখছি, তাতে যে কখন ছাড়পাবো।

ভ্যানচালক রাব্বানী বলেন, আমরা খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষ। ছোট হিলি শহর, তার ওপর সারাক্ষণ যানজট। বাজার থেকে চারমাথায় আসতে সময় লাগে ৫ থেকে ৭ মিনিট। কিন্তু যানজটের কারণে ২০ মিনিট, কখনও ৩০ মিনিটও সময় লেগে যায়। এভাবে হতে থাকলে রোজগার করবো কিভাবে?

একজন মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, বিরামপুর থেকে আসলাম যাবো জয়পুরহাটে। হিলি সিপি থেকে দেড় মিনিটের রাস্তা  আসতে সময় লাগলো ১৫ মিনিট। আরও যে কত সময় লাগবে।

হাকিমপুর (হিলি) থানা অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ  জানান, হিলির যানজট, সড়ক সংকীর্ণতার কারণে হয়ে থাকে। সারাদিনে ভারত-বাংলাদেশের অনেক গাড়ি এবন্দরে আসা-যাওয়া করে। বন্দরে কোন ট্রাক টার্মিনাল নাই। আমরা এর আগে পোর্ট কর্তৃপক্ষের নিকট যানজট, রাস্তা সংকীর্ণ এবং একটা টার্মিনালের বিষয়ে আলোচনা করছি।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কারকের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান, হিলির যানজট এখন একটা বড় সমস্যা। এর আগে জালালপুরে একটা অস্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল করা হয়ে ছিলো। তখন তেমন কোন যানজট ছিলো না। টার্মিনালটি দুরে থাকায়  ট্রাকগুলো সেখানে যেতে চায় না।

তিনি আরও জানান, তবে আমরা যানজট নিরসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বন্দরের আসেপাশে একটি জায়গা পেলেই ট্রাক টার্মিনাল তৈরি করবো।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*