১০৩ টাকায় পুলিশের চাকরী: হাতে ফুল আর, মুখে মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আকরাম হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি : তখন সময় দুপুর ১২টা। হঠাৎ হাতে ফুলের তোড়া আর মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে সদ্য পুলিশের চাকরী পাওয়া মাসুদ রানার জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে হাজির হলেন দিনাজপুর বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির।

জীর্ণ কুঁড়েঘরে তখন বাবাহারা মাসুদ কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে তাকিয়ে রইলেন। কিছু বুঝে উঠার আগেই ওসি মাসুদকে কাছে ডেকে হাতে ফুল আর মুখে মিষ্টি দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। এসময় পাশে তার পঞ্চাশোর্দ্ধ দুই মা মাফরুজা বেগম ও আম্বিয়া বেগম দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এভাবেই বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির নিজের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিষ্টি মুখ করালেন সদ্য পুলিশে চাকরী পাওয়া মাসুদ রানাকে। শুনলেন পরিবারের সদস্যদের জীবণ সংগ্রামের কথা। সাহস দিলেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার।

মাসুদ রানা দিনাজপুর বিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিন রাম চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত.মুক্তিযোদ্ধা সবেদ আলীর ছেলে। মুক্তিযোদ্ধা বাবা ১৯৯৭ইং সালে মারা যান। ছয় ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে মাসুদ সবার কনিষ্ঠ। বিরামপুর সরকারি কলেজে এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র। স্বপ্ন ছিল অফিসার পদে চাকুরি করার। কিন্তু সংসারের অভাব অনটন সেই স্বপ্নকে আপাতত আটকে দিয়েছে। পরিবারের অভাব অনটনের কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয় যেকোন একটা চাকুরি করতে হবে।

৩ জুলাই দিনাজপুর পুলিশ লাইনস্ মাঠে বাংলাদেশ পুলিশ কনস্টেবল পদে রিক্রুটিং প্রক্রিয়ায় লাইনে মাসুদ রানা দাঁড়ায় এবং সে মনোনীত হয়।

সদ্য চাকুরী পাওয়া মাসুদ রানা জানান, বর্তমান সময়ে সবাই জানে টাকার বিনমিয় ছাড়া সরকারি চাকুরী হয়না। কিন্তু আমার এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা মনে হচ্ছে। কারন আমার চাকুরীতে মোট খরচ হয় ১০৩ টাকা।
বাবা না থাকায় চাকুরীর আবেদন, পুলিশ লাইনের মাঠে দাড়ানো, লিখিত ও অন্যান্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সম্পূর্ণ কাজ একাই করতে হয়েছে। কিন্তু একা গিয়েও তিনি কাঙ্খিত ১০৩ টাকার আবেদন ফরমের মাধ্যমে চাকুরী পেয়েছেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা স্বরূপ চাকুরী জীবনে কোন প্রকার অবৈধ লেনদেন বা অবৈধ টাকা হাতাবেন না বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় ২নং কাটলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, অভাবের সংসারে বাবার অবর্তমানে নিজের চেষ্টায় লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছিল মাসুদ রানা । আমার জানামতে সে খুব ভালো ছেলে।

এ সময় বিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক প্রদীপ চন্দ্র সরকার ও বেলাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*