১ দিন কাজ তো ৪ দিন বন্ধ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম: গাইবান্ধা জেলা শহরে চার লেন সড়কের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর বছর ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল

কিন্তু তা পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৪০ শতাংশ। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১০ দিন ধরে ওই কাজ বন্ধ রয়েছে। এর কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক খুঁটি, পানি টেলিফোনের লাইন অপসারণসহ নানা অজুহাত দেখাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে।

কাচারিবাজার এলাকার ব্যবসায়ী রাশেদ আহম্মেদ বলেন, ১০১২ দিন আগে সড়কের দক্ষিণ পাশে নর্দমার জন্য গর্ত করা হয়েছে। পাশেই মাটি ভরাট করে রাখা হয়েছে। বাতাস উঠলেই বালুঝড় বয়। কারণে এখানে সব সময় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় বিঘ্ন ঘটছে। কাজ এক দিন চলে তো চার দিনই বন্ধ থাকে

গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, চার লেন সড়ক নির্মাণ গাইবান্ধাবাসীর স্বপ্ন ছিল। দুই বছর আগে কাজের উদ্বোধন দেখে মানুষ আনন্দিত হয়েছিলেন। কিন্তু এত দিনেও কাজের অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি রয়েছে। যেভাবে ধীরগতিতে কাজ চলছে, তাতে কবে কাজ শেষ হবে, তা কেউ আঁচ করতে পারছেন না।

কোটি এবং জমি অধিগ্রহণের জন্য ১১১ কোটি টাকা বরাদ্দ। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স কাজ করছে। ইতিমধ্যে এসপির কার্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। বাস টার্মিনাল থেকে নম্বর রেলগেট পর্যন্ত প্রায় কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। নম্বর রেলগেট থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

শহরের পূর্বপাড়ার ট্রাকচালক জসিম মিয়া বলেন, শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। কারণে যানবাহন চলছে লাফিয়ে লাফিয়ে। তা ছাড়া কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকে না। ছাড়া চার লেন হবে বলে সংস্কার করা হয়নি। কিন্তু সংস্কারও করা হচ্ছে না, চার লেনও হচ্ছে ধীরগতিতে

গতকাল ঘুরে দেখা যায়, শহরের নম্বর রেলগেট থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সওজের সীমানায় সরকারি মহিলা কলেজের ভবন ছাড়া স্থাপনা নেই। এই ভবন ভাঙার কাজ প্রায় শেষ

শহরের লোকজন বলেন, প্রায় এক মাস আগে সড়কের উত্তর পাশে কিছু অংশ খুঁড়ে বালু ফেলা হয়েছে। শহরের কাচারিবাজার এলাকায় সড়কের দক্ষিণ পাশে প্রায় ২০০ মিটার অংশ নর্দমার জন্য গর্ত করে রাখা হয়েছে। কিছু অংশে বালু ফেলা হয়েছে। ছাড়া সড়ক নির্মাণকাজের তেমন অগ্রগতি নেই। কবে কাজ শেষ হবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না

শহরের ডিবি সড়কের ব্যবসায়ী মিলন কুমার বলেন, সড়কের দুই পাশ থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার কারণে স্থাপনার জায়গা উঁচুনিচু হয়ে আছে। কংক্রিটের খুঁটির মাথা, ইটপাথর ভেসে আছে। স্থাপনা সরানোর পর এগুলো কেউ অপসারণ করেননি। সওজ কিংবা ঠিকাদারের লোকজনও করেননি। ফলে পথচারীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সব সময় যানজট লেগেই থাকছে

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্সের প্রতিনিধি রফিক মিয়া বলেন, গাফিলতির অভিযোগ ঠিক নয়। নানা কারণে কাজ করতে দেরি হয়েছে। সড়কের দুই পাশ থেকে স্থাপনা সরাতে বিলম্ব হয়েছে। এখনো বেশির ভাগ এলাকা থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানো হয়নি। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করলেই পানির লাইন টেলিফোনের লাইন বের হচ্ছে। সেগুলো ঠিকঠাক রেখে কাজ করতে সময় লাগছে। এরপরও দ্রুত কাজ করতে চেষ্টা করা হচ্ছে

বিষয়ে সওজের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হলেও প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত রয়েছে। তবে দ্রুত কাজ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*