৬ ডিসেম্বর বিরামপুর মুক্ত দিবস

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি– একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রয়েছে গৌরবগাঁথা ইতিহাস। জানা যায়, এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা বিরামপুরকে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ঘোড়াঘাট রেলগুমটি, কেটরা শালবাগান, ভেলারপাড় ব্রীজ, ডাকবাংলা ও পূর্বজগন্নাথপুর মামুনাবাদে বাঙ্কার বসিয়ে সতর্ক অবস্থায় থাকতেন।

পাকসেনারা ৪ ডিসেম্বর পাইলট স্কুলের সন্মুখে ও ঘাটপাড় ব্রিজে প্রচন্ড শেলিং করে ভাইগড় গ্রাম দিয়ে তীরমনিতে ৪ টি শেল নিক্ষেপ করে। দেশ ও স্বাধিকারের জন্য আমাদের দামাল ছেলেরা যৌবনের দুরন্ত সময়ে দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিঁয়ে পড়ে শত্রুদের কবল থেকে আমাদের বিরামপুরকে মুক্ত করে।

আরো জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে ৭নং সেক্টরের মেজর নাজমুল হূদা ও মেজর নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভারতের কালিয়াগঞ্জ তরঙ্গপুর ক্যাম্পে দেশ মাতৃকার টানে ২৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ।

যুদ্ধে অত্র উপজেলায় ২০জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন । পঙ্গু হন ০২জন, এবং যুদ্ধে মারাত্মক ভাবে আহত হন ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা । বিরামপুরের গোহাটির কূয়া, ঘাটপাড় ব্রীজ, ২নং রাইচ মিলের কূয়া, পূর্ব জগন্নাথপুরে আব্দুল ওয়াহেদের বাগান বাড়ি, ৪নং রাইচ মিলের কুয়া বদ্বভূমি হিসেবে পরিচিত । যুদ্ধ চলাকালীন পাক হানাদার বাহিনী গণহত্যা করে শহীদদের লাশ এইসব স্থানে পুঁতে রাখে । আজো নির্মিত হয়নি কোথাও স্মৃতিস্তম্ভ ।

উল্লেখ্য যে, কেটরাহাটে লোমহর্ষক ও সন্মুখ যুদ্ধে ৭জন পাকিস্তানি সেনা এবং ১৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর ৬ ডিসেম্বর বিরামপুর শত্রু মুক্ত করে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। স্বাধীন বাংলার আকাশে উড়ে বিজয়ের লাল সবুজ পতাকা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*